ওসওয়াসা রোগের সমাধান

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 519
Questioner: md saiful islam
Question Asked: 22 May 2026, 05:14 AM
Reviewed & Published: 22 May 2026, 03:16 PM
Views: 16
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।একটা বিষয় বা যেকোনো কিছু মনে বা ভিতরে আসে সেটা ইসলামিক আবার নাও হতে পারে জায়েজ নাজায়েজ আবার নাও হতে পারে ইমান চলে যাবে আবার নাও যেতে পারে ইসলামের বিরুদ্ধে হতে পারে আবার নাও হতে পারে। মনে বা ভিতরে আসলে খারাপ লাগে আবার লাগে না। মন বা ভিতর থেকে শড়েনা শড়লেও আবার আসে। এগুলো কি ওসওয়াসার কারনে হয়। আমি কি ওসওয়াসা রোগী হবো?

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

উত্তর: আপনার বর্ণিত অবস্থা থেকে স্পষ্টতই বুঝা যায় যে, আপনি ওসওয়াসা (وسوسة) বা শয়তানি প্ররোচনার শিকার হচ্ছেন। এটি একটি মানসিক অবস্থা যেখানে শয়তান মানুষের মনে নানাবিধ সন্দেহ, ভুল ধারণা এবং খারাপ চিন্তা সৃষ্টি করে, বিশেষ করে ঈমান, তাওহীদ, রিসালাতআল্লাহর সত্তা নিয়ে। আপনি একে "ওসওয়াসার রোগী" বলতে পারেন, কিন্তু ইসলামী পরিভাষায় এটাকে সাধারণত "ওসওয়াসা" বা "শয়তানি ওয়াসওয়াসা" বলা হয়।

১. আপনার অবস্থার বিশ্লেষণ

আপনার মনে যেসব বিষয় আসছে—যেমন কোনো কিছু জায়েজ-নাজায়েজ, ঈমান চলে যাওয়া-না যাওয়া, ইসলামের বিরুদ্ধে হওয়া ইত্যাদি—এগুলো সবই ওসওয়াসার সাধারণ লক্ষণ। বিশেষ করে যখন আপনি সেগুলোকে অপছন্দ করেন, খারাপ লাগে এবং তা দূর করার চেষ্টা করেন কিন্তু বারবার আসে, তখন এটি নিশ্চিতভাবে শয়তানি ওসওয়াসা।

হাদীস: আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "মানুষের নিকট শয়তান এসে বলে, 'এটা কে সৃষ্টি করেছে? ওটা কে সৃষ্টি করেছে?' এমনকি শেষ পর্যন্ত বলে, 'আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?' যখন কেউ এরূপ চিন্তায় উপনীত হয়, তখন সে যেন আল্লাহর নিকট পানাহ চায় এবং তা বর্জন করে।" (বুখারী, মুসলিম)


২. আপনি কি ওসওয়াসা রোগী?

হ্যাঁ, ইসলামী ফিকহ ও আচরণ বিজ্ঞান অনুযায়ী, আপনি ওসওয়াসা রোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন যদি নিম্নোক্ত শর্তগুলো থাকে:

  • চিন্তাগুলো আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আসে।
  • আপনি সেগুলো অপছন্দ করেন এবং তাড়ানোর চেষ্টা করেন।
  • চিন্তাগুলো বারবার ফিরে আসে এবং মনের শান্তি নষ্ট করে।
  • এসব চিন্তা আপনার কর্ম ও ইবাদতে প্রভাব ফেলে (যেমন নামাজে ওজুতে সন্দেহ)।

হানাফী কিতাবের রেফারেন্স:

রদ্দুল মুহতার (২/৪৯): "যখন কেউ ঈমানের ব্যাপারে ওসওয়াসায় আক্রান্ত হয় এবং সে তা অপছন্দ করে, তবে তা ঈমানের ক্ষতি করে না। বরং এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা মাত্র।"

ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২১৬): "ওসওয়াসা এমন একটি রোগ যা শয়তান মানুষের মনে সন্দেহ ও ভয় সৃষ্টি করে। এর প্রতিকার হলো উপেক্ষা করা ও আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকা। "


৩. ওসওয়াসার কারণে ঈমান চলে যায় না

আপনার মনের মধ্যে "ঈমান চলে যাবে" বা "ইসলাম বিরুদ্ধ" এই চিন্তাগুলো আসা ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি এসব চিন্তা মনে পছন্দ না করেন এবং প্রকাশ্যে না বলেন বা তা বিশ্বাস না করেন, ততক্ষণ আপনার ঈমান অক্ষুন্ন থাকবে।

ইবনে আবেদীন (১/৩৪৮): "মনের মধ্যে শুধু সন্দেহ আসা ঈমান নষ্ট করে না, যতক্ষণ না তা ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্বাস করা হয়।"

ফাতাওয়া উসমানী (১/২৪): "ওসওয়াসার কারণে মনে কোনো খারাপ চিন্তা আসলে তা ঈমানের পরিপন্থী নয়, যদি না তা ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রহণ করা হয়।"


৪. প্রতিকার ও করণীয়

ওসওয়াসা থেকে মুক্তি পেতে নিচের কাজগুলো করুন:

  1. উপেক্ষা করুন: এসব চিন্তাকে গুরুত্ব দেবেন না। এটি যতই জোরালো হোক, তাকে পাত্তা না দিয়ে আল্লাহর স্মরণে মশগুল হোন।

  2. আল্লাহর কাছে পানাহ চান: যেকোনো সময় মনে খারাপ চিন্তা এলে বলুন:
    "আমি আল্লাহর কাছে শয়তানের প্ররোচনা থেকে আশ্রয় চাই।" (বুখারী)

  3. দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন: নিশ্চিত থাকুন, আপনি মুমিন এবং আপনার ঈমান অটুট। শয়তান আপনাকে বিভ্রান্ত করতে চায়, কিন্তু আপনি তার চেয়ে শক্তিশালী।

  4. আলোচনা করুন: পরিবারের কেউ বা বিশ্বস্ত আলেমের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করুন। এটি একটি সাধারণ সমস্যা, লজ্জার কিছু নয়।

  5. ইবাদতে ব্যস্ত থাকুন: নিয়মিত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির করুন। শয়তান ইবাদতকারীর কাছ থেকে দূরে থাকে।


সংক্ষিপ্ত উত্তর

  • হ্যাঁ, আপনার এ অবস্থা ওসওয়াসা এবং আপনি ওসওয়াসায় আক্রান্ত।
  • না, এতে আপনার ঈমান যায়নি বা নষ্ট হয়নি।
  • সমাধান: উপেক্ষা করুন, আল্লাহর কাছে পানাহ চান, ইবাদতে ব্যস্ত থাকুন।

কুরআন: "যদি শয়তানের পক্ষ থেকে তোমাকে কোনো প্ররোচনা দেয়া হয়, তবে তুমি আল্লাহর আশ্রয় চাও। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" (সূরা আল-আরাফ: ২০০)

আল্লাহ আপনার ওসওয়াসা দূর করুন এবং আপনার অন্তরকে প্রশান্তি দান করুন। আমীন।

উত্তর প্রদানে ব্যবহৃত কিতাবসমূহ:

  • সহীহ বুখারী ও মুসলিম (হাদীস)
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী)
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি শফি উসমানী)
  • বেহিশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী)
  • আল-আরফুশ শাজী (আনওয়ার শাহ কাশ্মীরি)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.