তালাক নিয়ে ওয়াসওয়াসা
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আজকে ফজরের নামাজ পরে শুয়েছিলাম, গভীর ঘুম আসে নি। তন্দ্রার মতো ঘুম হয়েছে। আমি মাঝে মাঝে হা করে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেই মনে হয় শ্বাসে তৃপ্তি মেটে নে। আজকের তন্দ্রার মতো ঘুমে হা করে নিঃশ্বাস নিচ্ছিলাম এইটা বুঝতে পারছিলাম। তখন মনে হলো শ্বাস নেওয়া বা শ্বাস ত্যাগ করার সময় আমার জিহ্বা তালুর সাথে লেগে "লা" এর মত শব্দ হলো। এর পরেই আমার চিন্তা হচ্ছে আমার মুখ দিয়ে কি তা* শব্দ উচ্চারিত হলো কি না? এতে কি আমার বৈবাহিক কোন সমস্যা হবে কি না?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি যে বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়েছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত বলছি।
উত্তর:
আপনি যে পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করেছেন, তাতে আপনার বৈবাহিক জীবনে কোনো সমস্যা হবে না, ইনশাআল্লাহ। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তালাক (طلاق) পতিত হয়নি।
কারণ ও ব্যাখ্যা:
১. স্পষ্ট উচ্চারণের শর্ত: ইসলামি ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, তালাক শুধুমাত্র তখনই পতিত হয় যখন "তালাক" শব্দটি স্পষ্টভাবে, ইচ্ছাকৃতভাবে এবং বোধগম্য ভাষায় উচ্চারিত হয়। আপনি নিজেই নিশ্চিত নন যে মুখ দিয়ে "তালাক" শব্দটি বের হয়েছে কিনা। সন্দেহের ভিত্তিতে তালাক পতিত হওয়ার কোনো বিধান নেই। সন্দেহ থাকলে মূল অবস্থাকেই গণ্য করা হবে, অর্থাৎ তালাক পতিত হবে না।
২. "লা" শব্দের অর্থ: আপনি উল্লেখ করেছেন যে, জিহ্বা তালুর সাথে লেগে "লা" (لا) এর মতো শব্দ হয়েছে। "লা" একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ "না"। এটি "তালাক" শব্দের অংশ হলেও, শুধুমাত্র "লা" উচ্চারণ করলে তালাক পতিত হয় না। তালাক পতিত হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ "তালাক" শব্দটি বা স্পষ্ট তালাকের ইঙ্গিতবোধক শব্দ উচ্চারণ করতে হবে।
হাদিস ও ফিকহের আলোকে:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"তিনটি বিষয় গুরুতর (অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত ও স্পষ্ট হলে কার্যকর হয়) এবং তিনটি বিষয় গুরুতর নয় (অর্থাৎ ভুলে বা অজান্তে করলে কার্যকর হয় না): গুরুতর বিষয়গুলো হলো তালাক, মুক্ত করা এবং মান্নত; আর গুরুতর নয় এমন বিষয়গুলো হলো ঠাট্টা-তামাশা, ভুল এবং ইচ্ছার বশবর্তী না হয়ে (অবচেতনে) করা কাজ।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৯৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৪৩)
ফাতাওয়া ও কিতাবের উদ্ধৃতি: ১. রদ্দুল মুহতার (ফতোয়ায়ে শামী): এতে উল্লেখ আছে যে, ঘুমন্ত ব্যক্তি, পাগল এবং অচেতন ব্যক্তির তালাক পতিত হয় না। কারণ তাদের বিবেকবুদ্ধি কাজ করে না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৩৪)
২. ইমদাদুল ফতোয়া: হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেছেন, "সন্দেহের ক্ষেত্রে তালাক পতিত হওয়ার বিধান নেই। তালাক প্রমাণের জন্য নিশ্চিত হওয়া জরুরি।" (ইমদাদুল ফতোয়া, ২/৪৫)
আপনার করণীয়:
আপনি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিন্ত থাকুন। আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বৈধ ও বহাল রয়েছে। এই ধরনের ওয়াসওয়াসা (শয়তানি প্ররোচনা) থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। শয়তান মানুষকে এমন চিন্তায় ফেলে বিবাহিত জীবনে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। আপনি নামাজ, জিকির এবং আল্লাহর উপর ভরসা করে এই ওয়াসওয়াসা দূর করুন।