সালাতে নারী পুরুষ পার্থক্য প্রমানিকার তাহকিক

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 4966
Questioner: Sajeda Akhtar
Question Asked: 04 Sep 2026, 09:58 PM
Reviewed & Published: 04 Sep 2026, 10:20 PM
Views: 41
Tokens: 8,173
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ক)মুরসাল হাদিস কখন গ্রহণ যোগ্য?

খ)১.ওয়ায়েল বিন হুজুর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বললেন হে উইল বিন হুজুর যখন তুমি সালাত পড়বে তখন তোমার দুই হাত পর্যন্ত উত্তোলন করবে আর নারীরা বুক পর্যন্ত উত্তোলন করবে।
বর্ণনাটি জয়ী কারণ হাফেজ নুরুদ্দিন হাই সামি বলেন উম্মে ইয়াহিয়াকে চিনি না।
২.ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত ওকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে রসুলের যুগে মহিলারা কিভাবে নামাজ আদায় করতেন তিনি বললেন তারা সালাতে কার জানো হয়ে বসতেন অতঃপর জড়োসড়ো হয়ে আদায় করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এখানে হাফেজ ইবনে অস কালানি বলেছেন ইব্রাহিম বিন মাহাদির সম্পর্কে তিনি বাছরি মুহাদ্দিসগণ থাকে মিথ্যুক বলেছেন।
৩. হযরত আলী রাঃ বলেছেন নারী যখন তখন যেন ঝরা শুরু হয়ে যায় ও দুই উরুকে মিলিয়ে রাখে এটিও জরি কারণ হাফেজদা এলাহী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন আল আওয়ার নামক রাবি কে শাবী ও ইবনল মাদানি মিথুক অভিহিত করেছেন।

এই রকম আরো দলিল গুলা দিয়ে নারী পুরুষ পার্থক্য নামাজে প্রমাণ করা হয়।কিন্তু এই রকম যয়ীফ দলিল দিয়ে কি প্রমাণ করা যায়? বা এই তাহক্বীকে ভুল আছে কি

Answer

নারী-পুরুষের সালাতের পার্থক্য: প্রামাণিক তহকীক

প্রশ্নের উত্তর

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারী-পুরুষের সালাতের পদ্ধতিগত পার্থক্য সম্পর্কে কুরআন, সহীহ হাদীস এবং হানাফী মাযহাবের প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো।


ক) মুরসাল হাদীস কখন গ্রহণযোগ্য?

মুরসাল হাদীস হলো সেই হাদীস যেখানে তাবিঈ (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পরে আগমনকারী প্রজন্ম) সরাসরি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, মাঝখানের সাহাবীকে বাদ দিয়ে।

হানাফী মাযহাবের নীতি: ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) ও ইমাম মালিক (রহঃ) এর মতে, মুরসাল হাদীস গ্রহণযোগ্য যদি বর্ণনাকারী তাবিঈ বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য হন। ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) বলেন:

"إذا جاء الحديث مرسلاً عن ثقة جاز الاحتجاج به" "যদি কোনো বিশ্বস্ত তাবিঈ থেকে মুরসাল হাদীস বর্ণিত হয়, তবে তা দ্বারা দলিল গ্রহণ করা জায়েয।"

(আল-মাবসূত, সারাখসী, ১/৩৪; বাদায়েউস সানায়ে, ১/৪৩)

তবে ইমাম শাফেঈ (রহঃ) ও ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর একটি মত অনুযায়ী মুরসাল হাদীস দুর্বল। কিন্তু হানাফী ফিকহে মুরসাল হাদীস গ্রহণযোগ্য যদি তা অন্য দলিল দ্বারা সমর্থিত হয়।

ইমাম তহাবী (রহঃ) বলেন:

"মুরসাল হাদীস তখনই গ্রহণযোগ্য যখন তা অন্য কোনো সহীহ হাদীস বা সাহাবীদের আমল দ্বারা সমর্থিত হয়।"

(শারহু মা'আনিল আসার, ১/৩৭)


খ) নারী-পুরুষের সালাতের পার্থক্য সংক্রান্ত দলিলসমূহের তহকীক

১. ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ)-এর হাদীস

হাদীসটি: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "হে ওয়ায়েল বিন হুজর! যখন তুমি সালাত পড়বে, তখন তোমার দুই হাত কান পর্যন্ত উত্তোলন করবে। আর নারীরা বুক পর্যন্ত উত্তোলন করবে।"

তহকীক: এই হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) তার সুনানে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সনদে উম্মে ইয়াহইয়া নামক একজন অপরিচিত রাবী রয়েছেন। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) তাকে অপরিচিত বলেছেন। তাই এই হাদীসটি সনদের দিক থেকে দুর্বল।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: এই হাদীসটি দুর্বল হলেও এর সমর্থনে অন্যান্য সহীহ হাদীস ও সাহাবীদের আমল বিদ্যমান।

২. ইবনে ওমর (রাঃ)-এর বর্ণনা

বর্ণনাটি: ইবনে ওমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে মহিলারা কীভাবে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন: "তারা সালাতে 'চার জানো' (কুঁজো) হয়ে বসতেন। অতঃপর তাদেরকে জড়োসড়ো হয়ে আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়।"

তহকীক: এই বর্ণনায় ইব্রাহিম বিন মাহাদির নামক রাবী রয়েছেন, যাকে কিছু মুহাদ্দিসীন মিথ্যুক বলেছেন। তাই এই বর্ণনাটিও সনদের দিক থেকে দুর্বল।

৩. হযরত আলী (রাঃ)-এর বর্ণনা

বর্ণনাটি: হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন: "নারী যখন সালাত আদায় করে, তখন সে যেন ঝরা শুরু হয়ে যায় (অর্থাৎ সম্পূর্ণরূপে নিজেকে গুটিয়ে নেয়) এবং দুই উরু মিলিয়ে রাখে।"

তহকীক: এই বর্ণনায় আল-আওয়ার নামক রাবী রয়েছেন, যাকে শাবী ও ইবনে মাদানী মিথ্যুক বলেছেন। তাই এই বর্ণনাটিও সনদের দিক থেকে দুর্বল।


মূল প্রশ্ন: দুর্বল দলিল দিয়ে কি নারী-পুরুষের সালাতের পার্থক্য প্রমাণ করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, প্রমাণ করা যায়। কারণ নারী-পুরুষের সালাতের পার্থক্য শুধুমাত্র এই দুর্বল হাদীসগুলোর উপর নির্ভরশীল নয়। বরং এর পক্ষে সহীহ হাদীস, সাহাবীদের আমল এবং ইজমা বিদ্যমান।

সহীহ দলিলসমূহ:

হাদিস

১.

3016 – أخبرناه أبو بكر محمد بن محمد أنبأ أبو الحسين الفسوي ثنا أبو علي اللؤلؤي ثنا أبو داود ثنا سليمان بن داود أنبأ بن وهب أنبأ حيوة بن شريح عن سالم بن غيلان عن يزيد بن أبي حبيب : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم مر على امرأتين تصليان فقال إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل (سنن الكبرى للبيهقى، كتاب الحيض، باب ما يستحب للمرأة من ترك التجافي في الركوع والسجود، رقم الحديث-3016)

তাবেয়ী ইয়াযীদ বিন আবী হাবীব রহ. বলেন-একবার রাসূল সা. দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশ্য) বললেন-“যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে। কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষদের মত নয়। (সুনানুল বায়হাকী, হাদিস নং-৩০১৬, কিতাবুল মারাসিল লি ইমাম আবু দাউদ-৫৫, হাদিস নং-৮০)

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আলেম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ “আওনুল বারী” (১/৫২০) তে লিখেছেন-“উল্লেখিত হাদিসটি সকল ইমামদের উসুল অনুযায়ী দলীল হিসেবে পেশ করায় যোগ্য”।

মুহাদ্দিস মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আমীর ইয়ামানী “সুবুলুস সালাম” শরহু বুলুগিল মারাম” গ্রন্থে (১/৩৫১-৩৫২) এই হাদিসকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে পুরুষ ও মহিলার সেজদার পার্থক্য করেছেন।

২.

وَالآخَرُ حَدِيثُ أَبِى مُطِيعٍ : الْحَكَمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَلْخِىِّ عَنْ عُمَرَ بْنِ ذَرٍّ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- :« إِذَا جَلَسْتِ الْمَرْأَةُ فِى الصَّلاَةِ وَضَعَتْ فَخِذَهَا عَلَى فَخِذِهَا الأُخْرَى ، وَإِذَا سَجَدْتْ أَلْصَقَتْ بَطْنَهَا فِى فَخِذَيْهَا كَأَسْتَرِ مَا يَكُونُ لَهَا ، وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَيَقُولُ : يَا مَلاَئِكَتِى أُشْهِدُكُمْ أَنِّى قَدْ غَفَرْتُ لَهَا (السنن الكبرى، كتاب الصلاة، باب مَا يُسْتَحَبُّ لِلْمَرْأَةِ مِنْ تَرْكِ التَّجَافِى فِى الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ، رقم الحديث-3324)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছন-“মহিলা যখন নামাযের মধ্যে বসবে তখন যেন (ডান) উরু অপর উরুর উপর রাখে। আর যখন সেজদা করবে তখন যেন পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে। যা তার সতরের জন্য অধিক উপযোগী। আল্লাহ তায়ালা তাকে দেখে বলেন-ওহে আমার ফেরেস্তারা! তোমরা সাক্ষী থাক। আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। (সুনানে বায়হাকী-২/২২৩, হাদিস নং-৩৩২৪)

এই হাদিসটি হাসান।

৩.

حدثنا محمد بن عبد الله الحضرمي قال حدثتني ميمونة بنت عبد الجبار بن وائل بن حجر عن أبيها عبد الجبار عن علقمة عمها عن وائل بن حجر قال : جئت النبي صلى الله عليه و سلم ………….فقال لي رسول الله صلى الله عليه و سلم : يا وائل بن حجر إذا صليت فاجعل يديك حذاء أذنيك والمرأة تجعل يديها حذاء ثدييها (المعجم الكبير، باب الواو، وائل بن حجر الحضرمي القيل، رقم الحديث-28)

হযরত ওয়াইল বিন হুজর রা. বলেন। আমি নবীজী সা. এর দরবারে হাজির হলাম। তখন তিনি আমাকে (অনেক কথার সাথে একথাও) বলেছিলেন যে, হে ওয়াইল বিন হুজর! যখন তুমি নামায শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে। আর মহিলা হাত উঠাবে বুক বরাবর। (আল মুজামুল কাবীর, হাদিস নং-২৮)

এই হাদিসটিও হাসান।

উল্লেখিত হাদিসগুলি থেকে একথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কিছু কিছু হুকুমের ক্ষেত্রে মহিলার নামায আদায়ের পদ্ধতি পুরুষের নামায আদায়ের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। বিশেষত ২ নং হাদিসটি দ্বারা একথাও বুঝা গেল যে, মহিলার নামায আদায়ের শরীয়ত নির্ধারিত ভিন্ন এই পদ্ধতির মধ্যে ওই দিকটিই বিবেচনায় রাখা হয়েছে যা তার সতরও পর্দার পক্ষে সর্বাধিক উপপোযী।

উল্লেখ্য যে, এই সব হাদিসের সমর্থনে মহিলাদের নামায আদায়ের পদ্ধতির পার্থক্য ও ভিন্নতাকে নির্দেশ করে এমন আরো কিছু হাদিস আছে। পক্ষান্তরে এগুলির সাথে বিরোধপূর্ণ একটি হাদীসও কোথাও পাওয়া যাবেনা। যাতে বলা হয়েছে যে, পুরুষ ও মহিলার নামাযের পদ্ধতিতে কোন পার্থক্য নেই। বরং উভয়ের নামাযই এক ও অভিন্ন। একথার পক্ষে একটি হাদীসও নেই।

সাহাবায়ে কিরামের ফতোয়া

১.

5072 – عبد الرزاق عن إسرائيل عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي قال إذا سجدت المرأة فلتحتفز ولتلصق فخذيها ببطنها (مصنف عبد الرزاق، كتاب الصلاة، باب تكبير المرأة بيديها وقيام المرأة و ركوعها وسجودها، رقم الحيث-5072)

হযরত আলী রা. বলেছেন-মহিলা যখন সেজদা করে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা করে এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/১৩৮, হাদিস নং-৫০৭২, মুসান্নাফে ইবনে শাইবা-২/৩০৮, হাদিস নং-২৭৯৩, সুনানে কুবরা বায়হাকী-২/২২২)

২.

حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الأَشَجِّ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ؛ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ صَلاَةِ الْمَرْأَةِ ؟ فَقَالَ : تَجْتَمِعُ وَتَحْتَفِزُ. (مصنف ابن ابى شيبة، كتاب الصلاة، في المرأة كَيْفَ تَجْلِسُ فِي الصَّلاَةِ، رقم الحديث-2794)

হযরত ইবনে আব্বাস রা. কে জিজ্ঞেস করা হল-মহিলারা কিভাবে নামায আদায় করবে? তিনি বললেন-“খুব জড়সড় হয়ে অঙ্গের সাথে অঙ্গ মিলিয়ে নামায আদায় করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০২, হাদিস নং-২৭৯৪)

উপরে মহিলাদের নামায সম্পর্কে দু’জন সাহাবীর যে মত বর্ণিত হল, আমাদের জানা মতে কোন হাদীসগন্থের কোথাও একজন সাহাবী থেকেও এর বিপরীত কিছু বিদ্যমান নেই।

রাসূল সা. থেকে সাহাবায়ে কিরাম যে, দ্বীন শিখেছেন তাদের কাছ থেকে তা শিখেছেন তাবেয়ীগণ। তাঁদের ফাতওয়া থেকেও এ কথাই প্রতীয়মান হয় যে,”মহিলাদের নামায পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। নিম্নে তাঁদের মধ্য থেকে প্রসিদ্ধ কয়েকজনের ফাতওয়া উল্লেখ করা হয়।

১.

2486- حدثنا هشيم ، قال : أخبرنا شيخ لنا ، قال : سمعت عطاء ؛ سئل عن المرأة كيف ترفع يديها في الصلاة ؟ قال : حذو ثدييها(مصنف ابن ابى شيبه، كتاب الصلاة، باب من كان يتم التكبير ولا ينقصه في كل رفع وخفض،)

হযরত আতা বিন আবী রাবাহ কে জিজ্ঞেস করা হল-“নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে?” তিনি বললেন-“বুক বরাবর”। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,-১/২৭০, হাদিস নং-২৪৮৬)

২.

2489- حدثنا محمد بن بكر ، عن ابن جريج ، قال : قلت لعطاء : تشير المرأة بيديها بالتكبير كالرجل ؟ قال : لا ترفع بذلك يديها كالرجل ، وأشار فخفض يديه جدا ، وجمعهما إليه جدا ، وقال : إن للمرأة هيئة ليست للرجل ، وإن تركت ذلك فلا حرج.

হযরত ইবনে জুরাইজ রহ. বলেন-“আমি আতা বিন আবী রাবাহকে জিজ্ঞেস করলাম-“মহিলা তাকবীরের সময় পুরুষের সমান হাত তুলবে?” তিনি বললেন-“মহিলা পুরুষের মত হাত তুলবেনা। এরপর তিনি তার উভয় হাত (পুরুষ অপেক্ষা) অনেক নিচুতে রেখে শরীরের সাথ খুব মিলিয়ে রাখলেন এবং বললেন-মহিলাদের পদ্ধতি পুরুষ থেকে ভিন্ন। তবে এমন না করলেও অসুবিধা নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/২৭০, হাদিস নং-২৪৮৯, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক,হাদিস নং-৫০৬৬,৬২৫১)

৩.

2796- حدثنا جرير ، عن ليث ، عن مجاهد ؛ أنه كان يكره أن يضع الرجل بطنه على فخذيه إذا سجد كما تصنع المرأة.

হযরত মুজাহিদ বিন জাবর রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি পুরুষের জন্য মহিলার মত উরুর সাথে পেট লাগিয়ে সেজদা করাকে অপছন্দ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০২, হাদিস নং-২৮৯৬)

৪.

2487- حدثنا رواد بن جراح ، عن الأوزاعي ، عن الزهري ، قال : ترفع يديها حذو منكبيها.

হযরত যুহরী রহ. বলেন-“মহিলা কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/২৭০, হাদীস নং-২৪৮৭)

৫.

5068 – عبد الرزاق عن معمر عن الحسن وقتادة قالا إذا سجدت المرأة فإنها تنضم ما استطاعت ولا تتجافى لكي لا ترفع عجيزتها

হযরত হাসান বসরী ও কাতাদা রহ. বলেন-“মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যথাসম্ভব জড়সড় হয়ে থাকবে। অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ফাঁকা রেখে সেজদা দিবেনা যাতে কোমড় উঁচু হয়ে না থাকে”। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/১৩৭, হাদিস নং-৫০৬৮, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০৩)

৬.

2795- حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِِ ، عَنْ مُغِيرَةَ ، عَنْ إبْرَاهِيمَ ، قَالَ : إذَا سَجَدَتِ الْمَرْأَةُ فَلْتَضُمَّ فَخِذَيْهَا ، وَلْتَضَعْ بَطْنَهَا عَلَيْهِمَا.(مصنف ابن ابى شيبة، كتاب الصلاة، في المرأة كَيْفَ تَجْلِسُ فِي الصَّلاَةِ، رقم الحديث-2795)

হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহ. বলেন-মহিলা যখন সেজদা করবে তখন যেন সে উভয় উরু মিলিয়ে রাখে এবং পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০২, হাদিস নং-২৭৯৫)

৭.

5071 – عبد الرزاق عن معمر والثوري عن منصور عن إبراهيم قال كانت تؤمر المرأة أن تضع ذراعها وبطنها على فخذيها إذا سجدت ولا تتجافى كما يتجافى الرجل لكي لا ترفع عجيزتها

হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহ. আরো বলেন-“মহিলাদের আদেশ করা হত তারা যেন সেজদা অবস্থায় হাত ও পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে। পুরুষের মত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফাঁকা না রাখে। যাতে কোমড় উঁচু হয়ে না থাকে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/১৩৭, হাদিস নং-৫০৭১)

৮.

2799- حَدَّثَنَا إسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ زُرْعَةَ بْنْ إِبْرَاهِيمَ ، عَن خَالِدِ بْنِ اللَّجْلاَجِ ، قَالَ : كُنَّ النِّسَاءُ يُؤْمَرْنَ أَنْ يَتَرَبَّعْنَ إذَا جَلَسْنَ فِي الصَّلاَةِ ، وَلاَ يَجْلِسْنَ جُلُوسَ الرِّجَالِ عَلَى أَوْرَاكِهِنَّ ، يُتَّقي ذَلِكَ عَلَى الْمَرْأَةِ ، مَخَافَةَ أَنْ يَكُونَ مِنْهَا الشَّيءُ.

হযরত খালেদ বিন লাজ্জাজ রহ. বলেন-“মহিলাদেরকে আদেশ করা হত যেন নামাযে দুই পা ডান দিক দিয়ে বের করে নিতম্বের উপর বসে। পুরুষদের মত না বসে। আবরণযোগ্য কোন কিছু প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার আশংকায় মহিলাদেরকে এমনি করতে হয়। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০৩, হাদিস নং-২৭৯৯)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.