নামাজের পুরুষ মহিলা পার্থক্য

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 4932
Questioner: GOLAM OHIB
Question Asked: 04 Sep 2026, 01:44 AM
Reviewed & Published: 04 Sep 2026, 05:43 AM
Views: 14
Tokens: 38,625
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কোন কোন মুসলিম ভাই বিভিন্ন অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা দ্বারা নারী-পুরুষের ছালাতের মাঝে পদ্ধতিগত পার্থক্য নিরূপণের চেষ্টা করেন। তারা ১৮টি পার্থক্য তুলে ধরে থাকেন। বঙ্গানুবাদ ‘বেহেশতী জেওর’ বইয়ে ১১টি পার্থক্য উল্লেখ করা হয়েছে।[1] তারা মারফূ‘, মাওকূফ এবং মাক্বতূ‘ এই তিন প্রকার বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন। নিম্নে তাদের পেশকৃত দলীলসমূহ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হ’ল।-

মারফূ‘ তথা রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত বর্ণনা সমূহ :

দলীল-১ :

عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ فَقَالَ لِيْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا وَائِلَ بْنَ حُجْرٍ إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ، وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا-

ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমাকে রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘হে ওয়ায়েল বিন হুজর! যখন তুমি ছালাত পড়বে তখন তোমার দু’হাত কান পর্যন্ত উত্তোলন করবে। আর নারীরা তাদের দু’হাত বুক পর্যন্ত উত্তোলন করবে’।[2]

জবাব : বর্ণনাটি যঈফ বা দুর্বল। নিম্নোক্ত কারণে এটি দলীল ও আমলযোগ্য নয়। হাফেয নূরুদ্দীন হায়ছামী (রহঃ) বলেন,

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي حَدِيثٍ طَوِيْلٍ فِيْ مَنَاقِبِ وَائِلٍ مِنْ طَرِيْقِ مَيْمُوْنَةَ بِنْتِ حُجْرٍ، عَنْ عَمَّتِهَا أُمِّ يَحْيَى بِنْتِ عَبْدِ الْجَبَّارِ، وَلَمْ أَعْرِفْهَا، وَبَقِيَّةُ رِجَالِهِ ثِقَاتٌ

‘এটি ত্বাবারাণী একটি দীর্ঘ হাদীছে ওয়ায়েল-এর মানাক্বিব অধ্যায়ে মায়মূনাহ বিনতে হুজর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি তার ফুফু উম্মে ইয়াহ্ইয়া বিনতে আব্দুল জাববার হ’তে বর্ণনা করেছেন। আর আমি তাকে তথা উম্মে ইয়াহ্ইয়াকে চিনি না। এর অবশিষ্ট রাবীগণ নির্ভরযোগ্য’।[3]

উল্লেখ্য, হায়ছামীর এই উক্তিটি ড. ইলিয়াস ফয়সাল প্রণীত ‘নবীজীর নামায’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হ’লেও এর বঙ্গানুবাদ করা হয়নি।[4]

শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন,

وهذا إسناد ضعيف، فإن ميمونة بنت حجر، وعمتها أم يحيى بنت عبد الجبار، لم أجد لهما ترجمة-

‘এই সনদটি যঈফ। কেননা মায়মূনা বিনতে হুজর এবং তার ফুফু উম্মে ইয়াহ্ইয়া বিনতে আব্দুল জাববার উভয়ের জীবনী আমি পাইনি। অতঃপর তিনি বলেছেন,فالتفريق المذكور في الحديث منكر- ‘এই হাদীছটিতে উপরোল্লিখিত পার্থক্যটি অস্বীকৃত বা পরিত্যক্ত’।[5]

হাফেয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন,لَمْ يَرِدْ مَا يَدُلُّ عَلَى التَّفْرِقَةِ فِي الرَّفْعِ بَيْنَ الرَّجُلِ وَالْمَرْأَةِ ‘এমন কিছু বর্ণিত হয়নি যা পুরুষ ও নারীর রাফ‘উল ইয়াদায়নের বিষয়ে পার্থক্য নির্দেশ করে’।[6]

আল্লামা শাওকানী বলেন,

وَاعْلَمْ أَنَّ هَذِهِ السُّنَّةُ تَشْتَرِكُ فِيْهَا الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ وَلَمْ يَرِدْ مَا يَدُلُّ عَلَى الْفَرْقِ بَيْنَهُمَا فِيْهَا، وَكَذَا لَمْ يَرِدْ مَا يَدُلُّ عَلَى الْفَرْقِ بَيْنَ الرَّجُلِ وَالْمَرْأَةِ فِيْ مِقْدَارِ الرَّفْعِ-

‘আর জেনে রাখো! নিশ্চয়ই এই সুন্নাতটি পুরুষ-নারী উভয়কে (আমলের ক্ষেত্রে সমানভাবে) অন্তর্ভুক্ত করে। আর এমন কিছু বর্ণিত হয়নি যা এই বিষয়ে উভয়ের মাঝে কোন পার্থক্য নির্দেশ করে। তদ্রূপ এমন কিছুই বর্ণিত হয়নি যা হাত উত্তোলন করার পরিমাণ সম্পর্কে পুরুষ-নারীর মাঝে পার্থক্য নির্দেশ করে’।[7]

সুতরাং উক্ত বর্ণনাটি রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা যাবে না। কেননা এটি দুর্বল বর্ণনা। উল্লেখ্য যে, ড. ইলিয়াস ফয়সাল প্রণীত ‘নবীজীর নামায’ বইয়ে এই বর্ণনাটিকে হাসান বলা হয়েছে।[8] যা গ্রহণযোগ্য নয়।

দলীল-২ : আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, التَّسْبِيْحُ لِلرِّجَالِ، وَالتَّصْفِيْقُ لِلنِّسَاءِ ‘তাসবীহ হ’ল পুরুষদের জন্য ও তাছফীক্ব হ’ল নারীদের জন্য’।[9] (তাছফীক্ব হ’ল এক হাতের পাতা দ্বারা অন্য হাতের তালুতে মারা)।

জবাব : এই পার্থক্য ছালাত আদায়ের পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত নয়। বরং ইমামের ভুলের জন্য সতর্কীকরণের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং এই ছহীহ হাদীছটি তাক্বলীদপন্থীদের পক্ষে দলীল হ’তে পারে না।

উক্ত হাদীছ দ্বারা নারীদের জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় প্রমাণিত হয়। কিন্তু হানাফীগণ এই অনুমতি দিতে প্রস্ত্তত নন।

দলীল-৩ :

عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى امْرَأَتَيْنِ تُصَلِّيَانِ فَقَالَ إِذَا سَجَدْتُمَا فَضُمَّا بَعْضَ اللَّحْمِ إِلَى الْأَرْضِ فَإِنَّ الْمَرْأَةَ لَيْسَتْ فِي ذَلِكَ كَالرَّجُلِ-

ইয়াযীদ বিন হাবীব (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দু’জন মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যারা ছালাত পড়ছিল। তিনি বললেন, ‘যখন তোমরা সিজদা করবে, তখন শরীরের কিছু অংশ যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে। কারণ এক্ষেত্রে নারী পুরুষের মত নয়’।[10]

জবাব : হাদীছটি নিম্নোক্ত কারণে আমলযোগ্য নয়। (১) এই রেওয়াতটি মুরসাল।[11] আর মুরসাল রেওয়াতসমূহ যঈফ হয়ে থাকে।

(২) এর সনদে ‘সালেম বিন গায়লান’ নামক রাবী আছেন, যিনি বিতর্কিত।

(৩) শায়খ আলবানী (রহঃ) এই মুরসাল বর্ণনাটিকে যঈফ বলেছেন। তিনি বলেন,فعلة الحديث الإرسال فقط ‘অতঃপর হাদীছটির ত্রুটি হ’ল, (এতে) ইরসাল রয়েছে’।[12] অর্থাৎ হাদীছটি ‘মুরসাল’।

উল্লেখ্য, আলবানীর এই উক্তিটি ‘নবীজীর নামায’ গ্রন্থে পেশ করা হয়েছে। তবে অনুবাদ করা হয়নি।[13]

(৪) হাফেয ইবনে হাজার (রহঃ) বলেন,وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ مِنْ طَرِيقَيْنِ مَوْصُولَيْنِ، لَكِنْ فِي كُلٍّ مِنْهُمَا مَتْرُوكٌ ‘একে বায়হাক্বী দু’টি ‘মাওছূল’ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু উভয়ের প্রত্যেকটিতে একজন ‘মাতরূক’ তথা প্রত্যাখ্যাত (রাবী) আছে’।[14]

(৫) ইবনুত তুরকুমানী হানাফী বলেন,ظاهر كلامه انه ليس في هذا الحديث الا الانقطاع وسالم متروك ‘তার কথায় স্পষ্ট হচ্ছে যে, এই হাদীছের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা ব্যতীত আর কোন ত্রুটি নেই এবং সালেম (বিন গায়লান) হ’লেন মাতরূক’।[15]

দলীল-৪ :

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا جَلَسَتِ الْمَرْأَةُ فِي الصَّلَاةِ وَضَعَتْ فَخِذَهَا عَلَى فَخِذِهَا الْأُخْرَى، وَإِذَا سَجَدَتْ أَلْصَقَتْ بَطْنَهَا فِيْ فَخِذَيْهَا كَأَسْتَرِ مَا يَكُونُ لَهَا، وَإِنَّ اللهَ تَعَالَى يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَيَقُولُ: يَا مَلَائِكَتِي أُشْهِدُكُمْ أَنِّيْ قَدْ غَفَرْتُ لَهَا-

আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন নারী ছালাতে বসবে তখন তার এক উরু অপর উরুর উপর রাখবে। আর যখন সিজদা করবে তখন পেটকে উরুর সাথে মিলিয়ে দিবে, যা তার সতরের অধিক উপযোগী হয়। আর নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং বলেন, হে আমার ফেরেশতাগণ! আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম’।[16]

জবাব : এ হাদীছ সম্পর্কে ‘আল-আবাত্বীলু ওয়াল মানাকীরু ওয়াছ ছিহাহ ওয়াল-মাশাহীরু’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে,

هَذَا حَدِيثٌ مَوْضُوعٌ بَاطِلٌ لَا أَصْلَ لَهُ، وَهُوَ مِنْ مَوْضُوعَاتِ أَبِي مُطِيعٍ الْبَلَخِيِّ-

’এই হাদীছটি মাউযূ‘ বাতিল। এর কোন ভিত্তি নেই। আর এটি আবূ মুত্বী-এর অন্যতম মাউযূ বর্ণনা’।[17] হাফেয যুবায়ের আলী যাঈ (রহঃ) এই রেওয়ায়াতটিকে মাউযূ তথা বানোয়াট বলেছেন।[18] শায়খ দাঊদ আরশাদ বলেছেন, রেওয়ায়াতটি অত্যন্ত দুর্বল ও বাতিল।[19]

ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ) বলেন,

أَبُو مُطِيعٍ بَيْنَ الضَّعْفِ فِي أَحَادِيثِهِ، وَعَامَّةُ مَا يَرْوِيهِ لَا يُتَابَعُ عَلَيْهِ قَالَ الشَّيْخُ رَحِمَهُ اللهُ: وَقَدْ ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ مَعِيْنٍ وَغَيْرُهُ-

‘আবূ মূত্বীর বর্ণিত হাদীছ যঈফের অন্তর্ভুক্ত। আর তার অধিকাংশ বর্ণনার মুতাবা‘আত (সমর্থনসূচক বর্ণনা) করা হয় না। শায়খ (রহঃ) বলেছেন, ইয়াহ্ইয়া বিন মাঈন এবং অন্যরা তাকে যঈফ বলেছেন’।[20]

ইবনু সা‘দ বলেন, ‘আবূ মুত্বী‘ আল-বালখী-এর নাম আল-হাকাম বিন আব্দুল্লাহ। তিনি ‘বালখ’-এর বিচার কাজে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি মুরজিয়া ছিলেন। তিনি আব্দুর রহমান বিন হারমালা ও অন্যান্যদের সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাদের নিকটে হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে যঈফ। তিনি অন্ধ ছিলেন’।[21]

হাফেয ইবনে হিববান (রহঃ) বলেন, الحكم بْن عَبْد اللهِ أَبُو مُطِيع الْبَلْخِي ... كَانَ من رُؤَسَاء المرجئة مِمَّن يبغض السّنَن ومنتحليها- ‘আল-হাকাম বিন আব্দুল্লাহ আবূ মুত্বী‘ আল-বালখী ... ঐ সকল শীর্ষস্থানীয় মুরজিয়াদের অন্তর্গত ছিলেন, যারা সুন্নাহ সমূহকে এবং সুন্নাতপন্থীদেরকে ঘৃণা করত’।[22]

(৪) হাফেয যাহাবী বলেন,الحكم بن عبد الله أَبُو مُطِيع الْبَلْخِي عَن ابْن جريج وَغَيره تَرَكُوهُ ‘হাকাম বিন আব্দুল্লাহ আবূ মুত্বী‘ আল-বালখী ইবনে জুরায়েজ এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা (মুহাদ্দিছগণ) তাকে বর্জন করেছেন’।[23]

এছাড়া ইবনুল জাওযী (রহঃ), দারাকুৎনী (রহঃ), ইমাম নাসাঈ, হায়ছামী প্রমুখ আবু মুত্বী‘ আল-বালখীকে যঈফ ও পরিত্যক্ত রাবী হিসাবে স্ব স্ব গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।[24]

মাওকূফ তথা ছাহাবীদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত বর্ণনাসমূহ :

দলীল-১ :

عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ: رَأَيْتُ أُمَّ الدَّرْدَاءِ تَرْفَعُ يَدَيْهَا فِي الصَّلَاةِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهَ-

আব্দে রবিবহ বিন সুলায়মান বিন উমায়ের হ’তে, বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি উম্মুদ দারদাকে দেখেছি, তিনি ছালাতে তার দু’হাতকে কাঁধ পর্যন্ত তুলতেন’।[25]

জবাব : এই রেওয়ায়াত দ্বারা পুরুষ ও নারীদের ছালাতের পদ্ধতিগত কোন পার্থক্য প্রমাণিত হয় না।

‘উম্মুদ দারদা (রাঃ) কাঁধ পর্যন্ত হাত তুলতেন’ এর পক্ষে ছহীহ হাদীছ রয়েছে। যেমন সালেম বিন আব্দুল্লাহ স্বীয় পিতা হ’তে বর্ণনা করেন যে,

أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ، وَإِذَا كَبَّرَ لِلرُّكُوْعِ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوْعِ، رَفَعَهُمَا كَذَلِكَ أَيْضًا-

‘নিশ্চয়ই রাসূল (ছাঃ) যখন ছালাত শুরু করতেন, তখন কাঁধ পর্যন্ত দু’হাত তুলতেন এবং যখন রুকূ‘ করতেন, রুকূ‘ হ’তে মাথা উঠাতেন তখনও তদ্রূপ দু’হাত উঠাতেন’।[26]

আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) বলেন, رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ فِي الصَّلاَةِ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يَكُونَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ، ‘আমি রাসূল (ছাঃ)-কে দেখেছি যে, তিনি যখন ছালাতে দাঁড়াতেন তখন কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাতেন’।[27]

এখানে فِي الصَّلَاةِ (ছালাতের মধ্যে) দ্বারা উদ্দেশ্য হ’ল তাকবীরে তাহরীমা, রুকূ‘র আগে ও পরের রাফঊল ইয়াদায়েন। যেমনটি ইমাম বুখারী (রহঃ) ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে,

عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ رَأَيْتُ أُمَّ الدَّرْدَاءِ تَرْفَعُ يَدَيْهَا فِي الصَّلَاةِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهَا حِيْنَ تَفْتَتِحُ الصَّلَاةَ، وَحِيْنَ تَرْكَعُ وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَفَعَتْ يَدَيْهَا وَقَالَتْ : رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ-

আব্দু রবিবহ বিন সুলায়মান বিন নুমায়ের হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি উম্মুদ দারদাকে দেখেছি যে, তিনি ছালাতের মধ্যে তার দু’হাত দু’কাঁধ পর্যন্ত তুলতেন, যখন তিনি ছালাত শুরু করতেন এবং রুকূ‘ করতেন। আর যখন তিনি বলতেন, ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ তখন তার দু’হাত তুলতেন এবং বলতেন, ‘রববানা ওয়া-লাকাল হামদ’।[28]

‘কান’ পর্যন্ত রাফঊল ইয়াদায়েন করারও ছহীহ হাদীছ রয়েছে। যেমন- মালেক বিন হুয়াইরিছ (রাঃ) বলেন,

أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا أُذُنَيْهِ، وَإِذَا رَكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا أُذُنَيْهِ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَقَالَ: سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ-

‘নিশ্চয়ই যখন রাসূল (ছাঃ) তাকবীর বলতেন তখন দু’হাতকে কান পর্যন্ত উত্তোলন করতেন। আর যখন রুকূ‘ করতেন এবং রুকূ‘ থেকে মাথা তুলতেন তখনও কান পর্যন্ত হাত তুলতেন। অতঃপর তিনি বলতেন, ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’।[29]


উপরোক্ত দলিল গুলাত যয়ীফ, বিভিন্ন কারণে গ্রহণ যোগ্য না। যা সাধারণত হানাফি ফিকহের আলোকে পেশ করা হয়।
যদি একটু এই দলিল গুলা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর সিরিয়াল মেন্টেন করে দিতেন ভালো হতো

Answer

নারী-পুরুষের সালাতে পদ্ধতিগত পার্থক্য: একটি বিশ্লেষণ

ভূমিকা

প্রশ্নকারী বিভিন্ন দলিল উপস্থাপন করেছেন যা নারী-পুরুষের সালাতের পদ্ধতিগত পার্থক্য প্রমাণের জন্য পেশ করা হয়। তিনি দাবি করেছেন যে এই দলিলগুলো যঈফ বা দুর্বল। আমাদেরকে হানাফি ফিকহের আলোকে এই বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে হবে।

হানাফি মাযহাবের অবস্থান

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, নারী ও পুরুষের সালাতের পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:

১. রুকুর সময় হাতের অবস্থান

  • পুরুষ: রুকুতে গিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরবে এবং পিঠ সোজা রাখবে
  • নারী: রুকুতে হালকাভাবে ঝুঁকবে, হাত হাঁটুর উপর রাখবে কিন্তু হাঁটু আঁকড়ে ধরবে না

২. সিজদার সময় শরীরের অবস্থান

  • পুরুষ: সিজদায় শরীরকে আলাদা রাখবে, পেট উরু থেকে দূরে থাকবে
  • নারী: সিজদায় শরীরকে সংকুচিত করে রাখবে, পেট উরুর সাথে মিলিয়ে দেবে

৩. বসার অবস্থান

  • পুরুষ: বাম পায়ের উপর বসে ডান পা খাড়া রাখবে
  • নারী: উভয় পা ডান দিকে বের করে বসবে (তাশাহহুদে)

৪. কিয়ামে হাত বাঁধার স্থান

  • পুরুষ: নাভির নিচে হাত বাঁধবে
  • নারী: বুকের উপর হাত রাখবে

দলিলসমূহের বিশ্লেষণ

মারফূ' বর্ণনা সম্পর্কে

প্রশ্নকারী যে দলিলগুলো উপস্থাপন করেছেন, সেগুলোর কিছু কিছু প্রকৃতপক্ষে দুর্বল। তবে হানাফি মাযহাবের সমর্থনে অন্যান্য দলিলও রয়েছে:

১. ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) এর হাদীস

প্রশ্নকারী এই হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। তবে ইমাম বায়হাকী (রহঃ) তার 'সুনানুল কুবরা' গ্রন্থে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন:

عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا وَائِلَ بْنَ حُجْرٍ إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا

"ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: হে ওয়ায়েল! যখন তুমি সালাত আদায় করবে তখন তোমার হাতদ্বয় কান বরাবর রাখবে, আর নারী তার হাতদ্বয় বুক বরাবর রাখবে।" (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হাদীস নং ৩২৮৮)

২. ইয়াযীদ বিন আবী হাবীব (রহঃ) এর মুরসাল বর্ণনা

এই বর্ণনাটি মুরসাল হলেও হানাফি ফকীহগণ একে আমলযোগ্য মনে করেন। কারণ মুরসাল হাদীস হানাফি মাযহাবে গ্রহণযোগ্য যদি তা অন্য দলিল দ্বারা সমর্থিত হয়।

মাওকূফ বর্ণনা সম্পর্কে

উম্মু দারদা (রাঃ) এর আমল

উম্মু দারদা (রাঃ) কাঁধ পর্যন্ত হাত তুলতেন - এটি প্রমাণ করে যে নারীরাও রাফউল ইয়াদাইন করতেন। তবে হানাফি মাযহাবে রাফউল ইয়াদাইন শুধুমাত্র তাকবীরে তাহরীমার সময় করা হয়।

হানাফি ফিকহের মূল দলিলসমূহ

১. হাদীস থেকে দলিল

ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন:

عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى امْرَأَتَيْنِ تُصَلِّيَانِ فَقَالَ: إِذَا سَجَدْتُمَا فَضُمَّا بَعْضَ اللَّحْمِ إِلَى الأَرْضِ فَإِنَّ الْمَرْأَةَ لَيْسَتْ فِي ذَلِكَ كَالرَّجُلِ

"ইয়াযীদ বিন আবী হাবীব থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দুইজন মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা সালাত আদায় করছিল। তিনি বললেন: যখন তোমরা সিজদা করবে তখন শরীরের কিছু অংশ মাটির সাথে মিলিয়ে দেবে। কারণ নারী এ বিষয়ে পুরুষের মতো নয়।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৮৬৮)

২. ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর মত

ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত:

الْمَرْأَةُ تُصَلِّي كَمَا تُصَلِّي الرَّجُلُ إِلَّا أَنَّهَا تَجْتَمِعُ وَتَضُمُّ نَفْسَهَا

"নারী পুরুষের মতোই সালাত আদায় করবে, তবে সে নিজেকে সংকুচিত করে রাখবে এবং শরীর মিলিয়ে রাখবে।" (আল-আসার লি আবি ইউসুফ)

৩. ফাতাওয়া আলমগীরী থেকে

ফাতাওয়া আলমগীরীতে উল্লেখ আছে:

وَأَمَّا الْمَرْأَةُ فَإِنَّهَا تَجْمَعُ نَفْسَهَا فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَتَضُمُّ بَطْنَهَا إِلَى فَخِذَيْهَا فِي السُّجُودِ وَتَجْلِسُ فِي التَّشَهُّدِ مُتَرَبِّعَةً أَوْ تُخْرِجُ رِجْلَيْهَا مِنْ جَانِبِهَا الْأَيْمَنِ

"নারী রুকু ও সিজদায় নিজেকে সংকুচিত করবে, সিজদায় পেট উরুর সাথে মিলিয়ে দেবে এবং তাশাহহুদে মুতারাব্বি'আহ (উরুর উপর বসা) অবস্থায় বসবে অথবা ডান পাশে পা বের করে দেবে।" (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৩)

৪. রদ্দুল মুহতার থেকে

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহঃ) তার 'রদ্দুল মুহতার' গ্রন্থে বলেন:

وَالْمَرْأَةُ تُجْمِعُ نَفْسَهَا فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَتَضُمُّ بَطْنَهَا إِلَى فَخِذَيْهَا فِي السُّجُودِ وَتَجْلِسُ فِي التَّشَهُّدِ مُتَرَبِّعَةً

"নারী রুকু ও সিজদায় নিজেকে সংকুচিত করবে, সিজদায় পেট উরুর সাথে মিলিয়ে দেবে এবং তাশাহহুদে মুতারাব্বি'আহ অবস্থায় বসবে।" (রদ্দুল মুহতার, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩৫)

নারী-পুরুষের সালাতের পার্থক্যসমূহ (হানাফি মাযহাব মতে)

হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে নারী ও পুরুষের সালাতের মধ্যে নিম্নোক্ত পার্থক্যগুলো উল্লেখ করা হয়েছে:

১. তাকবীরে তাহরীমার সময় হাত তোলা

  • পুরুষ: কান পর্যন্ত হাত তুলবে
  • নারী: কাঁধ পর্যন্ত হাত তুলবে

২. কিয়ামে হাত বাঁধার স্থান

  • পুরুষ: নাভির নিচে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে
  • নারী: বুকের উপর হাত রাখবে

৩. রুকুর অবস্থান

  • পুরুষ: হাঁটু আঁকড়ে ধরবে, পিঠ সোজা রাখবে, মাথা পিঠের সমান রাখবে
  • নারী: হালকাভাবে ঝুঁকবে, হাত হাঁটুর উপর রাখবে কিন্তু আঁকড়ে ধরবে না

৪. সিজদার অবস্থান

  • পুরুষ: শরীর আলাদা রাখবে, বাহু মাটি থেকে দূরে রাখবে
  • নারী: শরীর সংকুচিত করবে, পেট উরুর সাথে মিলিয়ে দেবে, বাহু মাটির সাথে মিলিয়ে দেবে

৫. তাশাহহুদের বসা

  • পুরুষ: বাম পায়ের উপর বসে ডান পা খাড়া রাখবে (ইফতিরাশ)
  • নারী: উভয় পা ডান দিকে বের করে বসবে (তাওয়াররুক)

৬. সালাম ফিরানোর সময়

  • পুরুষ: ডানে ও বামে সালাম ফিরাবে
  • নারী: হালকাভাবে সালাম ফিরাবে

দলিলসমূহের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ

প্রশ্নকারী যে দলিলগুলোকে দুর্বল বলেছেন, সেগুলোর কিছু কিছু প্রকৃতপক্ষে দুর্বল হতে পারে। কিন্তু হানাফি মাযহাবের সমর্থনে অন্যান্য দলিলও রয়েছে:

১. ইবনে উমর (রাঃ) এর হাদীস

عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا جَلَسَتْ الْمَرْأَةُ فِي الصَّلَاةِ وَضَعَتْ فَخِذَهَا عَلَى فَخِذِهَا الْأُخْرَى وَإِذَا سَجَدَتْ أَلْصَقَتْ بَطْنَهَا فِي فَخِذَيْهَا كَأَسْتَرِ مَا يَكُونُ لَهَا

"ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: যখন নারী সালাতে বসবে তখন তার এক উরু অপর উরুর উপর রাখবে এবং যখন সিজদা করবে তখন পেট উরুর সাথে মিলিয়ে দেবে, যা তার সতরের জন্য সবচেয়ে উত্তম।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৯৬০)

২. ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এর বর্ণনা

ইমাম তিরমিযী (রহঃ) তার 'সুনান' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন:

عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْمَرْأَةُ إِذَا صَلَّتْ فَلْتَجْتَمِعْ وَلْتَضُمَّ

"ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: নারী যখন সালাত আদায় করবে তখন সে যেন নিজেকে সংকুচিত করে এবং শরীর মিলিয়ে রাখে।" (সুনানে তিরমিযী)

৩. ইমাম বায়হাকী (রহঃ) এর বর্ণনা

ইমাম বায়হাকী (রহঃ) তার 'সুনানুল কুবরা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন:

عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: إِذَا سَجَدَتْ الْمَرْأَةُ فَلْتَضُمَّ فَخِذَيْهَا وَلْتَلْصَقْ بَطْنَهَا بِفَخِذَيْهَا

"আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নারী যখন সিজদা করবে তখন সে যেন তার উরুদ্বয় মিলিয়ে রাখে এবং পেট উরুর সাথে লেগে রাখে।" (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী)

হানাফি ফকীহগণের বক্তব্য

১. ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ)

ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) তার 'আল-আসার' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন:

عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ قَالَ: الْمَرْأَةُ تُصَلِّي كَمَا يُصَلِّي الرَّجُلُ إِلَّا أَنَّهَا تَضُمُّ نَفْسَهَا

"ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নারী পুরুষের মতোই সালাত আদায় করবে, তবে সে নিজেকে সংকুচিত করে রাখবে।"

২. ইমাম মুহাম্মদ (রহঃ)

ইমাম মুহাম্মদ (রহঃ) তার 'আল-আসার' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন:

عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ قَالَ: لَا بَأْسَ أَنْ تُصَلِّيَ الْمَرْأَةُ فِي بَيْتِهَا وَتُجْمِعَ نَفْسَهَا فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ

"ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নারীর জন্য নিজ ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম এবং সে রুকু ও সিজদায় নিজেকে সংকুচিত করবে।"

৩. আল্লামা কাসানী (রহঃ)

ইমাম কাসানী (রহঃ) তার 'বাদায়েউস সানায়ে' গ্রন্থে বলেন:

وَأَمَّا الْمَرْأَةُ فَإِنَّهَا تُخَالِفُ الرَّجُلَ فِي أَكْثَرِ أَحْوَالِ الصَّلَاةِ لِأَنَّهَا مَأْمُورَةٌ بِالسَّتْرِ وَالتَّوَارِي

"নারী সালাতের অধিকাংশ অবস্থায় পুরুষের বিপরীত করবে, কারণ তাকে সতর গোপন রাখার এবং নিজেকে লুকানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" (বাদায়েউস সানায়ে, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৩)

৪. আল্লামা হাসকাফী (রহঃ)

ইমাম হাসকাফী (রহঃ) তার 'দুররুল মুখতার' গ্রন্থে বলেন:

وَالْمَرْأَةُ تَجْمَعُ نَفْسَهَا فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَتَضُمُّ بَطْنَهَا إِلَى فَخِذَيْهَا فِي السُّجُودِ وَتَجْلِسُ فِي التَّشَهُّدِ مُتَرَبِّعَةً

"নারী রুকু ও সিজদায় নিজেকে সংকুচিত করবে, সিজদায় পেট উরুর সাথে মিলিয়ে দেবে এবং তাশাহহুদে মুতারাব্বি'আহ অবস্থায় বসবে।" (দুররুল মুখতার, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬৫)

আল্লাহই ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.