কৃত্রিম চুল দিয়ে ক্যাপ তৈরি করে আয়কৃত টাকা কি হালাল হবে?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
কৃত্রিম চুল দিয়ে ক্যাপ তৈরি করে আয়কৃত টাকার বিধান
প্রশ্নের উত্তর
মানুষের চুল দিয়ে ক্যাপ বা উইগ তৈরি করা এবং তা বিক্রি করা জায়েয নয়। সুতরাং এ কাজ থেকে আয়কৃত অর্থ হালাল হবে না। তবে ব্যক্তির ইনকাম সোর্স জরুরী প্রয়োজন হলে তাকে অবশ্যই অন্য কোনো হালাল উপায়ে উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে।
দলিল ও ব্যাখ্যা
১. মানুষের চুল ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা
মানুষের চুল দিয়ে উইগ বা ক্যাপ তৈরি করা ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ। এর কারণসমূহ:
ক) প্রতারণা ও ধোঁকা: মানুষের চুলের তৈরি উইগ পরলে তা দেখতে প্রকৃত চুলের মতো মনে হয়, যা প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতারণা ও ধোঁকা দিতে নিষেধ করেছেন।
খ) চুল সংযোগের নিষেধাজ্ঞা: হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"আল্লাহ তা'আলা অভিশাপ দিয়েছেন সেই নারীকে যে (অন্য নারীর) চুল সংযোগ করে এবং যে নারী চুল সংযোগ করায়।" (সহীহ বুখারী: ৫৯৩৭, সহীহ মুসলিম: ২১২৪)
গ) মানুষের চুলের অসম্মান: মানুষের চুল মানুষের শরীরের অংশ। এটি ব্যবহার করা মানুষের মর্যাদার পরিপন্থী।
২. মানুষের চুল বিক্রির বিধান
ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, মানুষের চুল বিক্রি করা জায়েয নয়। কারণ মানুষের শরীরের কোনো অংশ বিক্রি করা বৈধ নয়। (বাদায়েউস সানায়ে, ৫তম খণ্ড, ১৪৩ পৃষ্ঠা)
৩. কৃত্রিম চুল (প্লাস্টিকের) দিয়ে তৈরি ক্যাপ
যদি চুল প্লাস্টিকের বা অন্য কোনো পবিত্র ও বৈধ উপাদানের হয়, তবে তা দিয়ে ক্যাপ তৈরি করা এবং বিক্রি করা জায়েয আছে। তবে শর্ত হলো, তা এমনভাবে ব্যবহার করা না হয় যা শরীয়তে নিষিদ্ধ (যেমন: পুরুষের জন্য নারীর সাদৃশ্য অবলম্বন বা নারীর জন্য পরপুরুষের সামনে সাজসজ্জা)।
৪. মানুষের চুলের তৈরি ক্যাপ বিক্রির অর্থের বিধান
যেহেতু মানুষের চুল দিয়ে তৈরি ক্যাপ তৈরি ও বিক্রি করা নিষিদ্ধ, তাই এ কাজ থেকে অর্জিত অর্থও নাপাক ও হারাম বলে গণ্য হবে।
৫. তওবা ও সংশোধনের পথ
যে ব্যক্তি এ কাজে জড়িত হয়েছে, তার উচিত:
১. এ কাজ থেকে অবিলম্বে বিরত হওয়া ২. আল্লাহর কাছে তওবা করা ৩. অতীতে এ কাজ থেকে যে অর্থ উপার্জন করেছে, তা থেকে যতটুকু সম্ভব গরিব-মিসকিনকে দান করা (সদকা করা) ৪. ভবিষ্যতে হালাল উপায়ে উপার্জনের চেষ্টা করা
উপসংহার
মানুষের চুল দিয়ে ক্যাপ তৈরি করে বিক্রি করা শরীয়তে নিষিদ্ধ এবং এ থেকে আয়কৃত অর্থ হালাল নয়। ব্যক্তির ইনকাম সোর্সের প্রয়োজন থাকলেও হারাম উপায়ে উপার্জন করা জায়েয নয়। আল্লাহ তা'আলা অন্য হালাল উপায়ে রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। আল্লাহ বলেন:
"যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" (সূরা আত-তালাক: ২-৩)
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।