পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করার বিধান

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 4910
Questioner: Ishika Rahad
Question Asked: 03 Sep 2026, 08:03 PM
Reviewed & Published: 03 Sep 2026, 08:12 PM
Views: 28
Tokens: 4,686
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Assalam walaikum..
আমি একজন মেয়ে আর আমার বাবা নেই কোনও বড় ভাই ও নেই। এখন আমি একজন কে অনেক ভালবাসি বাবা মারা যাওয়ার আগে থেকে আমরা একসাথে আছি । আমরা যখন জানতে পারি আমার হারাম এ আছি এই ব্যপার তার জন্য আমার বাবার আজাব হবে তাই আমরা চাচ্ছি একটা হালাল সম্পর্কে যেতে । আপাদত ইসলামিক ভাবে বিয়ে করতে গোপনে আর আমার বয়স হলে পরিবার কে জানাতে ছেলের পরিবার সব জানে আমাদের কে সহযোগিতা ও করে কিন্তু আমার পরিবার জানে না। যেহেতু আমার বাবা নেই আর এইটা হারাম তাই আমরা হালাল করতে চাচ্ছি গোপনে বিয়ে করে পরিবারকে এখনও কিছু না জানাইয়ে। আমার কোনও অভিবাবক নেই চাচাদের সাথে সম্পর্ক থাকলে ও তাদের আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না। এখন আমরা হারাম এ থাকতে চাচ্ছি না। সে ক্ষেত্রে যিনি আমাদের বিয়ে পড়াবেন তাঁকে বা আমার কোনও আত্মীয় যেমন কোনও চিনা জানা বড় ভাই কে আমদের বিয়ের সাক্ষী বানাতে পারি?

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নিচ্ছি—আপনি যে সম্পর্কে আছেন, তা সম্পূর্ণ হারাম ও গুনাহের কাজ। এই সম্পর্ক থেকে এখনই তওবা করে বেরিয়ে আসা জরুরি। তবে ভালো উদ্দেশ্যে (হারাম থেকে বাঁচতে) হালাল বিয়ে করার চেষ্টা করা প্রশংসনীয়।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী বিয়ের জন্য অভিভাবক (ওয়ালি) আবশ্যক:

হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ) নারীর জন্য নিজের বিয়ে নিজে করা জায়েয। কিন্তু হানাফি মাযহাবের ফতোয়া ও ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর বিশুদ্ধ মতানুসারে, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য অভিভাবক (ওয়ালি) শর্ত নয়, বরং দুইজন পুরুষ সাক্ষী বা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি শর্ত। (বাদায়েউস সানায়ি, আল-হিদায়া)

তবে পরবর্তী যুগের ফকিহগণ (মুতাআখখিরীন) সমাজের অনৈতিকতা ও বিশৃঙ্খলা রোধে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিয়ে মাকরুহ বলেছেন। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু: ১. আপনার বাবা নেই ২. চাচারা বিশ্বস্ত নন ৩. আপনি হারাম সম্পর্কে আছেন এবং তা থেকে বাঁচতে চান ৪. ছেলের পরিবার সম্পূর্ণ সহযোগিতাপ্রস্তুত

তাই এই অবস্থায় গোপনে হলেও বৈধভাবে বিয়ে করা জায়েয, যদি নিম্নোক্ত শর্তগুলো পূরণ হয়:

বিয়ের শর্তসমূহ: ১. ইজাব-কবুল (প্রস্তাব ও সম্মতি) - এক মজলিসে সম্পন্ন করতে হবে ২. দুইজন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে (সূরা বাকারা: ২৮২) ৩. মহর নির্ধারণ করতে হবে ৪. সাক্ষীরা মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের হতে হবে

আপনার প্রশ্নের উত্তর:

যিনি বিয়ে পড়াবেন (কাজী/ইমাম) তিনি সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবেন না, কারণ তিনি বিয়ে পড়ান। সাক্ষী হিসেবে আপনার পরিচিত কোনো চেনা-জানা বড় ভাই বা ছেলের পরিবারের দুজন বিশ্বস্ত মুসলিম পুরুষ সাক্ষী রাখতে পারবেন। তবে শর্ত হলো—তারা প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন ও মুসলিম হতে হবে।

রদ্দুল মুহতার (শামি)-এ উল্লেখ আছে:

"দুইজন পুরুষ সাক্ষী বা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হলে তা শুদ্ধ হবে।" (রদ্দুল মুহতার, ৩/১৩)

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে:

"প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের বিয়ে নিজে সম্পাদন করতে পারে, তবে তা দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে হতে হবে।" (আল-হিদায়া, ২/৩১২)

আপনার করণীয়:

১. সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে তওবা করুন—হারাম সম্পর্কের জন্য অনুতপ্ত হোন এবং দৃঢ় সংকল্প করুন যে আর এই পাপে ফিরে যাবেন না।

২. বিয়েটি সম্পন্ন করুন—ছেলের পরিবারের দুজন বিশ্বস্ত সদস্যকে সাক্ষী রেখে, একজন আলেম/ইমামের মাধ্যমে বিয়ে পড়ান। ছেলের পরিবার যেহেতু সহযোগিতা করছে, তারা সাক্ষী হিসেবে থাকতে পারবে।

৩. বিয়ের পর ধীরে ধীরে আপনার পরিবারকে জানান। যেহেতু আপনি বলেন "বয়স হলে পরিবারকে জানাবেন", তাই বিয়েটি গোপন রাখা জায়েয হবে, তবে এতে কোনো গুনাহ নেই যদি বিয়েটি বৈধ শর্তে সম্পন্ন হয়।

৪. বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসাথে থাকুন—এতে আর কোনো হারাম থাকবে না।

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)-এর ফতোয়া:

"যদি কোনো নারীর অভিভাবক না থাকে বা অভিভাবকগণ অন্যায়ভাবে বিয়েতে বাধা দেয়, তাহলে সে নিজে কোনো বিশ্বস্ত আলেমের মাধ্যমে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে করতে পারবে।" (ইমদাদুল ফতোয়া, ২/৩৮)

মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম)-এর মত:

"গোপনে বিয়ে করা জায়েয, তবে শর্ত হলো দুইজন সাক্ষী থাকতে হবে এবং পরবর্তীতে পরিবারকে জানানো উচিত।" (ফতোয়া উসমানি, ২/৪৫)

সতর্কতা:

  • বিয়ের পরও যদি আপনি গোপনে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত করুন যে আপনার ওপর স্বামীর ভরণপোষণের (খোরপোষ) দায়িত্ব রয়েছে।
  • বিয়েটি যেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়—মহর নির্ধারণ, সাক্ষী, ইজাব-কবুল—যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা না হয়।

আল্লাহ তায়ালা আপনার তওবা কবুল করুন এবং এই বিয়েতে বরকত দিন। আমিন।


মেটা ডেসক্রিপশন:

SEO কীওয়ার্ড: গোপন বিয়ের বিধান, অভিভাবক ছাড়া বিয়ে, নারীর নিজে বিয়ে করা, বিয়ের সাক্ষী কে হতে পারে, হানাফি ফতোয়া, ইসলামিক বিয়ের শর্ত

SEO সার্চ ফ্রেজ:

  • বাবা নেই মেয়ের বিয়ে কে পড়াবে
  • অভিভাবক ছাড়া বিয়ে কি জায়েয
  • গোপন বিয়ের সাক্ষী কে হবে
  • ইসলামে নারীর নিজে বিয়ে করার নিয়ম
  • হানাফি মাযহাবে বিয়ের সাক্ষী কয়জন

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.