বিড়াল মারা গেলে কি করবো
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
বিড়াল মারা গেলে করণীয় — মাটি দেওয়া vs ডাস্টবিনে ফেলা
উত্তর
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন: বিড়াল বা অন্য কোনো প্রাণী মারা গেলে তা মাটিতে পুঁতে ফেলা ইসলামী বিধান অনুযায়ী কর্তব্য নয়, বরং এটি একটি সম্মানজনক ও স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা। তবে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
মূল বিধান
১. মৃত প্রাণীর দাফন সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলামী ফিকহের আলোকে, যে সকল প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল (যেমন: গরু, ছাগল, মুরগি ইত্যাদি) সেগুলো মারা গেলে সেগুলোকে মাটিতে পুঁতে ফেলা বা দাফন করা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)। কারণ এগুলো অপবিত্র ও দুর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে এবং মানুষের ক্ষতি করতে পারে।
কিন্তু বিড়াল, কুকুর ইত্যাদি যে সকল প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম, সেগুলো মারা গেলে সেগুলোকে মাটিতে পুঁতে ফেলা ওয়াজিব বা ফরজ নয়। বরং এগুলোকে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া বা অপসারণ করা উচিত, যাতে মানুষের ক্ষতি না হয় এবং পরিবেশ দূষিত না হয়। অন্যদিকে মানুষ বা পরিবেশের ক্ষতি না হলে উন্মুক্ত স্থানেও রাখা যেতে পারে যাতেকরে অন্যান্য প্রাণীদের খাবারের ব্যবস্থা হয়।
২. ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার বিধান
বিড়াল মারা গেলে তা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া গুনাহের কাজ নয়, যদি নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ হয়:
১. মৃত বিড়ালটি এমনভাবে ডাস্টবিনে ফেলা হয় যাতে তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে মানুষের কষ্ট না হয় ২. এটি যেন পথচারীদের বা প্রতিবেশীদের জন্য উপদ্রব না হয় ৩. মৃত প্রাণীটি যেন এমন স্থানে না ফেলা হয় যেখানে মানুষ চলাচল করে বা যেখানে এটি দেখতে খারাপ লাগে
তবে মাটিতে পুঁতে দেওয়াই উত্তম যদি সম্ভব হয়, কারণ এটি অধিকতর সম্মানজনক ও স্বাস্থ্যসম্মত।
হানাফী ফিকহের দলিল
ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) ও অন্যান্য ইমামগণের মত
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-হিদায়াহ এবং রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে:
مَا لَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ إِذَا مَاتَ لَا يَجِبُ دَفْنُهُ وَلَكِنْ يُسْتَحَبُّ
অর্থ: "যে প্রাণীর গোশত খাওয়া যায় না, তা মারা গেলে দাফন করা ওয়াজিব নয়, বরং মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)।"
ফতোয়ায়ে আলমগীরী
ফতোয়ায়ে আলমগীরীতে বলা হয়েছে:
وَإِذَا مَاتَتْ الْهِرَّةُ وَنَحْوُهَا فَلَا بَأْسَ بِإِلْقَائِهَا فِي الْمَزْبَلَةِ إذَا لَمْ يَتَأَذَّ بِهَا أَحَدٌ
অর্থ: "বিড়াল বা অনুরূপ প্রাণী মারা গেলে তা ডাস্টবিন বা আবর্জনার স্থানে ফেলে দেওয়াতে কোনো দোষ নেই, যদি তাতে কারো কষ্ট না হয়।"
ইমদাদুল ফতোয়া — আশরাফ আলী থানভী (রহঃ)
হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী (রহঃ)在其 ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেন:
মৃত বিড়াল বা কুকুর মাটিতে পুঁতে দেওয়া মুস্তাহাব, তবে যদি তা সম্ভব না হয় বা ঝামেলা হয়, তাহলে এমন স্থানে ফেলে দেওয়া যাবে যেখানে মানুষের উপদ্রব না হয়। এতে গুনাহ নেই।
ব্যবহারিক সমাধান
যেহেতু প্রশ্নকারী উল্লেখ করেছেন যে মাটি দিতে গেলে অনেকে ঝামেলা করে, তাই নিম্নলিখিত সমাধানগুলো দেওয়া যেতে পারে:
১. নিজে চেষ্টা করুন
যদি সম্ভব হয়, নিজে একটি ছোট গর্ত খুঁড়ে বিড়ালটিকে পুঁতে দিন। এতে কোনো গুনাহ নেই এবং এটি উত্তম কাজ।
২. ডাস্টবিনে ফেলুন (শর্তসাপেক্ষে)
যদি মাটি দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে বিড়ালটিকে একটি পলিথিন বা ব্যাগে ভরে ভালোভাবে বেঁধে ডাস্টবিনে ফেলুন। এতে গুনাহ হবে না।
৩. দূরবর্তী স্থানে ফেলা
যদি সম্ভব হয়, বিড়ালটিকে কোনো নির্জন স্থানে বা ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিন।
গুরুত্বপূর্ণ নোট
১. মাটি দেওয়া ফরজ নয় — বিড়ালের মতো হারাম গোশতের প্রাণী দাফন করা ফরজ বা ওয়াজিব নয় ২. ডাস্টবিনে ফেলা গুনাহ নয় — তবে শর্ত হলো যেন তা থেকে মানুষের কষ্ট না হয় ৩. মাটি দেওয়া উত্তম — সম্ভব হলে মাটি দেওয়াই উত্তম, কারণ এটি সম্মানজনক ৪. ঝামেলা এড়ানো জায়েয — যদি মাটি দিতে গিয়ে ঝামেলা হয়, তাহলে ডাস্টবিনে ফেলা জায়েয
উপসংহার
বিড়াল মারা গেলে তা মাটিতে পুঁতে দেওয়া মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) কিন্তু ফরজ বা ওয়াজিব নয়। যদি মাটি দেওয়া সম্ভব না হয় বা অন্যেরা বাধা দেয়, তাহলে বিড়ালটিকে ভালোভাবে ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া জায়েয এবং এতে কোনো গুনাহ হবে না। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন মৃত বিড়ালটি থেকে যেন মানুষের কোনো ক্ষতি বা কষ্ট না হয়।
আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন।