কুরবানির গরু কুরবানি বা বিক্রি করা সম্ভব না হলে করণীয় কি?
Qurbani-Slaughtering · Hanafi
Question
কুরবানির বিষয়ে কয়েকটি মাসআলা জানতে চাচ্ছিলাম।
যদি কেউ কুরবানির জন্য একটি গরু কেনে, কিন্তু পরে কোনো কারণে (যেমন কোনো সম্প্রদায় বা পরিস্থিতির কারণে গরু জবাই করতে বাধা দেওয়া হয়) সেই গরু কুরবানি করা সম্ভব না হয়, তাহলে করণীয় কী হবে?
১. যদি গরুটি বিক্রি করা যায়, তাহলে সেই টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনে কুরবানি করা এবং বাকি টাকা সদকা করলে কি কুরবানি আদায় হবে?
২. যদি গরুটি বিক্রি করা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্য টাকা দিয়ে ছাগল কিনে কুরবানি করা যাবে কি?
৩. আর যদি গরুটি কুরবানি করা বা বিক্রি করা—কোনোটাই সম্ভব না হয়, তাহলে কি গরুটি রেখে দেওয়া বা লালন-পালন করা যাবে?
দয়া করে কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে জানালে উপকৃত হবো।
জাযাকাল্লাহু খাইরান।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে নিম্নে কুরআন, হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত জানানো হলো।
১. গরুটি বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে ছাগল কিনে কুরবানি ও বাকি টাকা সদকা করলে কি আদায় হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, এতে কুরবানি আদায় হবে। তবে শর্ত হলো, ছাগলটি কুরবানির সময় (১০ জিলহজ সকাল থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের মধ্যে) জবাই করতে হবে। গরুটি যদি কুরবানির উদ্দেশ্যে কেনা হয়, কিন্তু জবাই করা সম্ভব না হয়, তাহলে তা বিক্রি করা জায়েজ। বিক্রির টাকা দিয়ে সমপরিমাণ বা কম মূল্যের পশু (যেমন ছাগল) কিনে কুরবানি করা যাবে। বাকি টাকা সদকা করা উত্তম, তবে ওয়াজিব নয়।
উল্লেখ্য: কুরবানির পশু কেনার পর তা জবাই করা ওয়াজিব হয়ে যায় না যতক্ষণ না তা কুরবানির দিনে জবাই করার জন্য নির্ধারিত করা হয়। বাহ্যিক বাধার কারণে জবাই করা অসম্ভব হলে, পশুটি বিক্রি করে অন্য পশু কুরবানি করা জায়েজ। (রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৮১)
২. গরুটি বিক্রি করা সম্ভব না হলে অন্য টাকা দিয়ে ছাগল কিনে কুরবানি করা যাবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, যাবে। কিন্তু পূর্বে কেনা গরুর ব্যাপারে কী করণীয়?
- গরুটি যদি জীবিত থাকে এবং বিক্রি করা সম্ভব না হয়, তাহলে সেটি আপনাকে জীবিত অবস্থায় কোনো অসহায়কে দান করে দিতে পারেন। অথবা জবাই করে গোশত সদকা করে দিতে পারেন। তবে কুরবানির নিয়ত বাতিল হবে না, বরং পৃথক টাকা দিয়ে ছাগল কিনে কুরবানি করলেই আপনার ওপর ওয়াজিব কুরবানি আদায় হবে। আর গরুর গোশত নিজে খাওয়া জায়েজ হবে না, বরং পুরোটাই সদকা করতে হবে। (ফাতাওয়া উসমানী ২/২৮৭, ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/২৬৮)
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি গরুটি কেনার পর কুরবানি করা অসম্ভব হয়, তাহলে সেটি বিক্রি করা বা জীবিত দান করা জায়েজ। কিন্তু জবাই করে গোশত নিজে খাওয়া বা বিক্রি করা জায়েজ নয়।
৩. গরুটি কুরবানি করা বা বিক্রি করা—কোনোটাই সম্ভব না হলে কি গরুটি রেখে দেওয়া বা লালন-পালন করা যাবে?
উত্তর: যদি গরুটি জবাই করা এবং বিক্রি করা উভয়ই অসম্ভব হয় (যেমন: বাজারে ক্রেতা নেই, পরিবহন অসম্ভব ইত্যাদি), তাহলে তা রেখে দেওয়া বা লালন-পালন করা জায়েজ। তবে শর্ত হলো, যতদিন বেঁচে থাকবে, তার দেখাশোনা করতে হবে। পরবর্তী বছর কুরবানি করা সম্ভব হলে সেই গরুটি কুরবানি করতে পারেন। কিন্তু যদি মারা যায় বা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে কোনো দায় হবে না। তবে এটি হালাল উপায়ে আয় করা পশু হলে তা বিক্রি করে সদকা করা উত্তম। (ফাতাওয়া আলমগীরী ৫/৩৬২, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৯)
সংক্ষিপ্ত ফিকহি নীতি:
- কুরবানির পশু কেনার পর তা জবাই করা ওয়াজিব নয় যতক্ষণ না তা নির্দিষ্ট সময়ে জবাইয়ের জন্য নির্ধারিত হয়। বাহ্যিক বাধা থাকলে তা বিক্রি বা দান করা জায়েজ।
- মূল লক্ষ্য হলো, কুরবানির দিনে একটি পশু জবাই করা। যদি প্রথম পশু জবাই করা অসম্ভব হয়, তাহলে অন্য পশু কিনে জবাই করলেই ওয়াজিব আদায় হবে।
- পূর্বে কেনা পশুর ক্ষেত্রে সর্বোত্তম হলো: বিক্রি করে সেই টাকা অন্য পশু কিনতে ব্যবহার করা। না পারলে জীবিত দান করে দেওয়া। আর কোনোটাই সম্ভব না হলে জবাই করে গোশত সদকা করা।
আল্লাহু তা'আলা আপনার কুরবানি কবুল করুন ও সহজতা দান করুন।
জাযাকাল্লাহু খাইরান।