ইসলামী ফিকহের বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 4777
Questioner: Nurul Amin
Question Asked: 01 Sep 2026, 09:50 PM
Reviewed & Published: 02 Sep 2026, 05:44 AM
Views: 45
Tokens: 5,581
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১.যদি নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে যায় কিন্তু একামত দেইনি এমতাবস্থায় একামত দেওয়ার আগে যদি কোনো ব্যাক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সামনে না গিয়ে পেছনের কাতারে বসে কিন্তু তার নিয়ত হলো
ইকামত দিলে সামনের কাতারে যাবে। এটা কি জায়েয?

২. যদি কেউ সুন্নত নামায বা কাযা নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে পিছনের কাতারে দাড়ায় কিন্তু তার নিয়ত একামত দিলে সামনের কাতারে যাবে তা কি জায়েয?

৩. যদি ফরজ নামাজ এর পর সুন্নত বা ওয়াজিব নামাজ আদায় করতে যদি সু্যোগ থাকা সত্ত্বেও সামনের কাতারে না যায় বা পেছনের কাতারে চলে যায় তা কি জায়েয?

৪. কারো নাম মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান,নুর রাখা এবং এসব নামে ব্যাক্তিকে ডাকা কি জায়েয?

৫.যদি কোনো ব্যাক্তির নামে রহমান থাকে এবং তার নাম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয় যেমন "রহমান ফার্মেসী" তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানকে এই নামে ডাকা কি জায়েয?(যদি রহমান দ্বারা ব্যাক্তি নয় বরং আল্লাহকে উদ্দেশ্য করা হয়)

৬.যদি গুপ্তাঙ্গের ও বগলের লোম কাটার পর দেখা গেল বেশিরভাগ (প্রায় ৯৯.৯৯%) কাটা হয়ে গেল কিন্তু কোনো কারণে কিছু লোম বাকি রইল।এটা কি জায়েয হবে?

Answer

ইসলামী প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: ১. যদি নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে যায় কিন্তু একামত দেইনি, এমতাবস্থায় একামত দেওয়ার আগে যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সামনে না গিয়ে পেছনের কাতারে বসে কিন্তু তার নিয়ত হলো ইকামত দিলে সামনের কাতারে যাবে। এটা কি জায়েয?

উত্তর: মসজিদে প্রবেশের পর ইকামতের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে যেকোনো স্থানে বসা জায়েয। তবে যদি সামনের কাতারে স্থান খালি থাকে এবং ইকামত দেওয়ার পর সামনের কাতারে যাওয়ার নিয়ত থাকে, তাহলে পেছনের কাতারে বসা অনুচিত। কারণ সামনের কাতারে বসা বা দাঁড়ানো অধিক সওয়াবের কাজ। তবে ইকামতের পর সামনের কাতারে যাওয়ার নিয়ত থাকলে কোনো সমস্যা নেই, ইনশাআল্লাহ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো যারা সামনের কাতারে দাঁড়ায়।" (সহীহ মুসলিম)

তবে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সামনের কাতার খালি রেখে পেছনের কাতারে বসে এবং ইকামতের পর সামনে যাওয়ার ইচ্ছা রাখে, তাতেও কোনো সমস্যা নেই, তবে উত্তম হলো প্রথম থেকেই সামনের কাতারে যাওয়া।

২. যদি কেউ সুন্নত নামায বা কাযা নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে পিছনের কাতারে দাঁড়ায় কিন্তু তার নিয়ত ইকামত দিলে সামনের কাতারে যাবে তা কি জায়েয?

উত্তর: জায়েয। কারণ সুন্নত বা কাযা নামাজ পড়ার সময় যদি ইকামত দেওয়া হয়, তাহলে সুন্নত বা কাযা নামাজ সংক্ষিপ্ত করে শেষ করা এবং জামাআতে শরীক হওয়া আবশ্যক। ইকামতের পর সামনের কাতারে গিয়ে জামাআতে শরীক হওয়া জায়েয এবং উত্তম।

হাদীসে এসেছে: "যখন ইকামত দেওয়া হয়, তখন ফরজ নামাজ ছাড়া অন্য কোনো নামাজ নেই।" (সহীহ মুসলিম)

৩. যদি ফরজ নামাজের পর সুন্নত বা ওয়াজিব নামাজ আদায় করতে যদি সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সামনের কাতারে না যায় বা পেছনের কাতারে চলে যায়, তা কি জায়েয?

উত্তর: ফরজ নামাজের পর সুন্নত বা ওয়াজিব নামাজ আদায়ের জন্য সামনের কাতারে যাওয়া উত্তম, তবে পেছনের কাতারে গিয়ে আদায় করাও জায়েয। তবে যদি মসজিদে স্থান সংকুলান হয় এবং সামনের কাতারে স্থান খালি থাকে, তাহলে সামনের কাতারে যাওয়া অধিক সওয়াবের কাজ। পেছনের কাতারে গিয়ে নামাজ পড়া জায়েয হলেও সামনের কাতারের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়।

৪. কারো নাম মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, নুর রাখা এবং এসব নামে ব্যক্তিকে ডাকা কি জায়েয?

উত্তর: জায়েয। "রহমান" আল্লাহর একটি বিশেষ গুণবাচক নাম, তবে "মুজিবুর রহমান" অর্থ "রহমানের উত্তরদাতা" বা "রহমানের প্রতি আহ্বানকারী" - এ ধরনের যৌগিক নাম রাখা জায়েয। "জিয়াউর রহমান" অর্থ "রহমানের আলো" - এটিও জায়েয। "নুর" অর্থ আলো - এটি একটি ভালো নাম। তবে শুধুমাত্র "রহমান" নামটি এককভাবে রাখা মাকরুহ, কারণ এটি আল্লাহর বিশেষ নাম। কিন্তু "আব্দুর রহমান" (রহমানের দাস) বা "মুজিবুর রহমান" ইত্যাদি যৌগিক নাম রাখা জায়েয।

৫. যদি কোনো ব্যক্তির নামে রহমান থাকে এবং তার নাম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয় যেমন "রহমান ফার্মেসী" তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানকে এই নামে ডাকা কি জায়েয? (যদি রহমান দ্বারা ব্যক্তি নয় বরং আল্লাহকে উদ্দেশ্য করা হয়)

উত্তর: যদি "রহমান" দ্বারা আল্লাহকে উদ্দেশ্য করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানের নাম "রহমান ফার্মেসী" রাখা হয়, তাহলে এটি জায়েয। কারণ এটি আল্লাহর নামের সাথে যুক্ত হয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম হয়েছে, যা শিরক বা অন্যায় নয়। তবে যদি মনে করা হয় যে "রহমান" শব্দটি দ্বারা প্রতিষ্ঠানের মালিককে বোঝানো হচ্ছে, তাহলে সেটি জায়েয নয়। মূলত: "রহমান" আল্লাহর বিশেষ নাম, তাই এটি দ্বারা আল্লাহকেই উদ্দেশ্য করা উত্তম। প্রতিষ্ঠানের নামে "রহমান" ব্যবহার করা জায়েয, তবে শর্ত হলো এটি দ্বারা আল্লাহকেই বোঝানো হবে।

৬. যদি গুপ্তাঙ্গের ও বগলের লোম কাটার পর দেখা গেল বেশিরভাগ (প্রায় ৯৯.৯৯%) কাটা হয়ে গেল কিন্তু কোনো কারণে কিছু লোম বাকি রইল। এটা কি জায়েয হবে?

উত্তর: হ্যাঁ, জায়েয। ফিতরা (স্বাভাবিক স্বভাব) অনুযায়ী গুপ্তাঙ্গের ও বগলের লোম কাটা বা উপড়ে ফেলা সুন্নত। যদি কেউ চেষ্টা করার পরও কিছু লোম বাকি থেকে যায়, তাহলে তাতে কোনো গুনাহ নেই। তবে উত্তম হলো সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা। যদি কিছু লোম বাকি থাকে, তাহলে সেগুলো পরে কেটে ফেলা উচিত। তবে ৯৯.৯৯% কাটা হয়ে গেলে এবং অল্প কিছু বাকি থাকলে তা জায়েয এবং কোনো সমস্যা নেই।

দলিল:

  • বগলের লোম কাটা বা উপড়ে ফেলা ফিতরার অন্তর্ভুক্ত। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
  • গুপ্তাঙ্গের লোম কাটাও ফিতরার অন্তর্ভুক্ত। (সহীহ মুসলিম)

উপসংহার: উপরোক্ত সবগুলো বিষয়ই জায়েয, তবে কিছু বিষয়ে উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন করা অধিক সওয়াবের কাজ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.