হায়েজ অবস্থায় রুকইয়াহ করা যাবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২. কোনো হায়েজগ্রস্থ রোগীকে রুকইয়াহ করানো যাবে?
Answer
রুকইয়াহ ও হায়েজ অবস্থা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
১. রাক্বী (যে ব্যক্তি রুকইয়াহ করে) তার নিজের হায়েজ অবস্থায় রুকইয়াহ করা যাবে কি? ২. কোনো হায়েজগ্রস্ত রোগীকে রুকইয়াহ করানো যাবে কি?
উত্তর
১. রাক্বীর নিজের হায়েজ অবস্থায় রুকইয়াহ করা
হায়েজ অবস্থায় রুকইয়াহ করা জায়েয। হায়েজ নারীদের জন্য যে সকল কাজ নিষিদ্ধ (সালাত, সাওম, কুরআন স্পর্শ করা, তাওয়াফ ইত্যাদি), রুকইয়াহ সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। রুকইয়াহ হলো দুআ ও কুরআনের আয়াত দ্বারা সুস্থতা কামনা করা, যা যিকিরের অন্তর্ভুক্ত।
দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلًا "আপনি আপনার রবের নাম স্মরণ করুন এবং একাগ্রচিত্তে তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করুন।" (সূরা আল-মুযাম্মিল: ৮)
হায়েজ অবস্থায় যিকির ও দুআ করা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে ইজমা রয়েছে। ইমাম বুখারী (রহ.) সহীহ বুখারীতে "باب ذكر الله تعالى بعد الصلاة واضطجاعه" শিরোনামে উল্লেখ করেছেন যে, আয়েশা (রা.) হায়েজ অবস্থায় যিকির করতেন।
হানাফী ফিকহের দলিল: বাদায়েউস সানায়ি' গ্রন্থে উল্লেখ আছে:
"وأما الذكر والدعاء فليس بحرام على الحائض عندنا" "আমাদের মতে হায়েজ অবস্থায় যিকির ও দুআ করা হারাম নয়।"
তবে শর্ত হলো, রুকইয়াহ করার সময় কুরআনের দোয়া মূলক আয়াত আয়াত মুখস্থ থেকে পড়তে হবে,তিলাওয়াতের নিয়ত থাকা যাবেনা, সরাসরি মুসহাফ (কুরআনের কিতাব) স্পর্শ করা যাবে না।কুরআনের আয়াত স্পর্শ করে লেখাও যাবেনা, কারণ হায়েজ অবস্থায় মুসহাফ স্পর্শ করা হারাম।
২. হায়েজগ্রস্ত রোগীকে রুকইয়াহ করানো
হায়েজগ্রস্ত রোগীকে রুকইয়াহ করানো সম্পূর্ণ জায়েয এবং এটি রোগীর জন্য উপকারী। রুকইয়াহ হলো কুরআনের আয়াত ও দুআ দ্বারা রোগীর উপর দম করা বা পড়ে ফুঁক দেওয়া। এটি রোগ নিরাময়ের একটি বৈধ পদ্ধতি।
দলিল: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ "যতক্ষণ পর্যন্ত রুকইয়াহতে শিরক না থাকে, ততক্ষণ তাতে কোনো দোষ নেই।" (সহীহ মুসলিম: ২২০০)
হানাফী ফিকহের দলিল: ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ (আলমগীরী) তে উল্লেখ আছে:
"الرقية بالقرآن وبأسماء الله تعالى جائزة" "কুরআন ও আল্লাহর নামসমূহ দ্বারা রুকইয়াহ করা জায়েয।"
রোগী হায়েজ অবস্থায় থাকলেও তার জন্য রুকইয়াহ করানো যাবে, কারণ হায়েজ কোনো রোগ নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। রুকইয়াহ গ্রহণে কোনো বাধা নেই।
গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ
১. রুকইয়াহতে কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা সহীহ দুআ ব্যবহার করতে হবে। ২. রাক্বী যদি নারী হন এবং হায়েজ অবস্থায় থাকেন, তবে তিনি মুখস্থ থেকে আয়াত পড়ে ফুঁ দিতে পারবেন, কিন্তু মুসহাফ স্পর্শ করতে পারবেন না। ৩. রুকইয়াহতে কোনো শিরকি বা বিদ'আতি পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না। ৪. রুকইয়াহ করার সময় নিয়ত হতে হবে সুস্থতা লাভের জন্য এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে।
উপসংহার
হায়েজ অবস্থায় রুকইয়াহ করা এবং হায়েজগ্রস্ত রোগীকে রুকইয়াহ করানো উভয়ই জায়েয। হায়েজের কারণে রুকইয়াহ করা বা করানো কোনো বাধা নয়। তবে রাক্বী নারী হলে তিনি যেন হায়েজ অবস্থায় মুসহাফ স্পর্শ না করেন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।