কাগতিয়া মুনিরিয়া যুব তাবলীগ কি শিরক ও কুফরের সাথে যুক্ত ?

Faith and Belief · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 459
Questioner: Ali Azgor
Question Asked: 21 May 2026, 01:19 AM
Reviewed & Published: 21 May 2026, 01:28 AM
Views: 46
Tokens: 1,888
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহি ওয়াবারকাতুহু
চট্টগ্রামে রাউজানে কাগতিয়া মুনিরিয়া যুব তাবলীগ আছে তা কি শিরক এবং কুফরের সাথে যুক্ত। যারা কাগতিয়া করে তাদের আক্বিদা কী ধরনের হয়?

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নে উল্লেখিত “কাগতিয়া মুনিরিয়া যুব তাবলীগ” সম্পর্কে আমাদের নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে সাধারণভাবে “কাগতিয়া” বলতে বোঝানো হয় এমন একটি প্রথা যেখানে কাগজে (তাবিজ-কবচ) কিছু লিখে শরীরে ধারণ করা হয় বা ব্যবহার করা হয়, যা প্রায়শই শিরকি বিশ্বাসের সাথে যুক্ত হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে তাবিজ ব্যবহারের বিধান নির্ভর করে বিশ্বাসের ওপর:

  • যদি তাবিজে শুধু কুরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম লিখা হয় এবং তা আল্লাহর ওপর ভরসা ও নিরাময় হিসাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে কিছু আলিম তা জায়েজ বলেছেন (যেমন শায়খ ইবনে উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ) তবে শর্ত হলো তা এমনভাবে ধারণ করা যাবে না যে এটি নিজে থেকেই উপকার-অপকার করে—বরং আল্লাহর কাছেই প্রত্যাশা করতে হবে।
  • কিন্তু যদি বিশ্বাস করা হয় যে তাবিজ নিজেই উপকার করে বা রক্ষা করে, অথবা তাতে শিরকি মন্ত্র, জিন-ভূতের নাম বা অশ্লীল বাক্য লিখা থাকে, তাহলে তা শিরক ও কুফর।

ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন:

“যে ব্যক্তি তাবিজ (কবচ) ধারণ করে, আল্লাহ তাকে তার ওপর নির্ভর করার কারণে ছেড়ে দেন।”
(মুসনাদ আহমাদ, হাদীস সহীহ)

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:

“তাবিজ ব্যবহার করা, যদি তা কুরআনের আয়াত ব্যতীত অন্য কিছু হয়, তাহলে তা নাজায়েয। আর যদি কুরআনের আয়াত হয়, তবুও তা ধারণ করা সম্পর্কে সাহাবীদের থেকে মতভেদ রয়েছে; অনেক সাহাবী তা নিষেধ করেছেন।”
(মাজমূ’ ফাতাওয়া, ২৫/১৯৬)

“মুনিরিয়া” বা “যুব তাবলীগ” নামীয় কোনো দল যদি মাজারপূজা, পীরের অন্ধ অনুকরণ, তাবিজ-কবচের মাধ্যমে বিপদ দূর করা, কবরবাদ ইত্যাদি বিশ্বাস করে, তাহলে তা স্পষ্ট শিরক।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

“আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য; অতএব তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।”
(সূরা জিন, ২২:১৮)

শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

“যে ব্যক্তি কোনো ওলি, পীর, জিন বা ফেরেশতাকে ডাকে এবং তাদের কাছে সাহায্য চায়, অথবা তাদের জন্য মান্নত করে, সে শিরক করেছে এবং ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে।”
(মাজমূ’ ফাতাওয়া, ১/১৬০)

সুতরাং, কাগতিয়া প্রথা ও মুনিরিয়া দলটি যদি শিরকি কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তাহলে তা শিরক ও কুফর। তবে পৃথক ব্যক্তির আক্বীদা জানতে হলে তার বিশ্বাস ও আমল যাচাই করতে হবে। সাধারণত এসব দলের আক্বীদা সালাফি আক্বীদার বিপরীত—এরা তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ ও তাওহীদুল আসমা ওয়া সিফাতে পরিপন্থী কর্মকাণ্ড করে থাকে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.