ইস্তিহাযার কারণে ১দিন তথা সর্বমোট ৫ ওয়াক্ত নামাজ কাযা হলে কাযা নামাযের তারতিব রক্ষা করা ওয়াজিব হবে কি না?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
কারো যদি ইস্তিহাযার সমস্যা থাকে ও ব্লিডিং ১০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর আগের মাসের পবিত্র হওয়ার সময়কাল ৯ দিনকে বাদ দিয়ে, বাকি ১ দিনের নামাজের কাযা আদায় করতে চায়, তাহলে তার জিম্মায় যে ৫ ওয়াক্ত নামাজ কাযা হয়, এটার জন্য কি তাকে সাহেবে তারতিব ধরা হবে কি না?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
উত্তর:
সংক্ষিপ্ত উত্তরঃ
হ্যাঁ, ওই নারীকে অবশ্যই সাহেবে তারতীব (Sahibe Tartib) হিসেবে গণ্য করা হবে। নতুন কোনো ওয়াক্তিয়া ফরয নামায আদায় করার আগে তার জিম্মায় থাকা এই ৫ ওয়াক্ত কাযা নামায ধারাবাহিকতা (তারতীব) বজায় রেখে আদায় করা তার জন্য শরীয়তসম্মতভাবে আবশ্যক।
বিস্তারিত ফিকহী বিশ্লেষণ ও শরয়ী নিয়মঃ
১. সাহেবে তারতীবের সংজ্ঞা ও সীমাঃ
হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ও সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক বিবেকবান মুসলমানের জিম্মায় যদি কাযা নামাযের সংখ্যা (বিতর ব্যতীত) অনূর্ধ্ব ৫ ওয়াক্ত (অর্থাৎ ৫ ওয়াক্ত বা তার কম) থাকে, তবে তাকে শরীয়তের পরিভাষায় 'সাহেবে তারতীব' বলা হয়। জিম্মায় কাযা নামাযের সংখ্যা ৬ ওয়াক্ত বা তার বেশি হয়ে গেলে সে আর সাহেবে তারতীব থাকে না; তখন তারতীব রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে রহিত হয়ে যায়।
- উৎস কিতাব: নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা ১২৯ (কাযা নামায আদায় করা পরিচ্ছেদ)।
২. আপনার বর্ণিত সুরতের প্রয়োগ ও হিসাবঃ
আপনার বর্ণিত সূরতে, ওই ঋতুবতী মহিলার রক্তক্ষরণ ১০ দিন অতিক্রম করার পর ইস্তহাজার হুকুম অনুযায়ী তার পূর্বের মাসের অভ্যাস বা আদত (৯ দিনের পবিত্রতা) বাদ দিয়ে বাকি ১ দিনের নামায কাযা হিসেবে তার জিম্মায় ওয়াজিব হয়।
- ১ দিনে কাযা হওয়া ফরয নামাযের সংখ্যা মোট ৫ ওয়াক্ত (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও এশা)।
- যদিও এশার নামাযের সাথে বিতর নামায পড়া ওয়াজিব, কিন্তু সাহেবে তারতীব হওয়ার জন্য ৬ ওয়াক্ত নামাযের যে সীমা রয়েছে, তা গণনার ক্ষেত্রে বিতর নামাযকে পৃথক ওয়াক্ত হিসেবে গণ্য করা হয় না (অর্থাৎ বিতর ব্যতীত ফরয নামাযের সংখ্যাই গণনা করা হয়)।
- যেহেতু তার জিম্মায় কাযা নামাযের সংখ্যা ঠিক ৫ ওয়াক্ত, যা ৬ ওয়াক্তের কম, সেহেতু তিনি নিশ্চিতভাবে সাহেবে তারতীব হিসেবেই বহাল থাকবেন।
- অতএব, নতুন কোনো ওয়াক্তিয়া নামায পড়ার আগে তাকে অবশ্যই ওই ৫ ওয়াক্ত নামাযের কাযা ধারাবাহিকতা মেনে আদায় করতে হবে। যদি কাযা নামায স্মরণ থাকা সত্ত্বেও তিনি নতুন ওয়াক্তের নামায পড়েন, তবে তার সেই নামায ফাসিদ (ত্রুটিযুক্ত) হয়ে যাবে।
- উৎস কিতাব: নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা ১২৯-১৩০ (কাযা নামায আদায় করা পরিচ্ছেদ)।
কিতাবের মূল ইবারত ও পৃষ্ঠা নির্দেশিকাঃ
-
নূরুল ঈযাহ (বাংলা অনূদিত) — পৃষ্ঠা: ১২৯:
"কাযা ও ওয়াক্তিয়া নামাযের মধ্যে এবং একাধিক কাযা নামাযের মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক। তবে তিনটি বিষয়ের কোন একটির কারণে ধারাবাহিকতা রক্ষা করার সেই আবশ্যকতা থাকে না। যেমন: ... ৩. কাযা নামায- বিতর ব্যতীত- (ন্যূনতম) ছয় ওয়াক্ত হওয়া।" (অর্থাৎ ৫ ওয়াক্ত পর্যন্ত কাযা থাকলে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা বা সাহেবে তারতীব থাকা বাধ্যতামূলক।)
-
নূরুল ঈযাহ (বাংলা অনূদিত) — পৃষ্ঠা: ১২৯-১৩০:
"যেমন ধরুন, পনের ওয়াক্ত নামায কাযা হয়েছিল। তা থেকে দশ ওয়াক্ত নামায আদায় করা হয়েছে, আর অবশিষ্ট রয়েছে পাঁচ ওয়াক্ত। এখানে লক্ষণীয় যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামায কাযা হলে সে ক্ষেত্রে ওয়াক্তিয়া নামায আদায় করতে গেলে কাযা নামাযগুলো পূর্বে আদায় করা ও সেগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক।"
-
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী — ১ম খণ্ড (কাযা নামায ও তারতীব অধ্যায়): হানাফী ফিকহের মুতামাদ ফতোয়া গ্রন্থ 'ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী' ১ম খণ্ডেও অনুরূপভাবে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাযা নামাযের সংখ্যা পাঁচ ওয়াক্ত বা তার কম হলে নামাযী ব্যক্তি সাহেবে তারতীব থাকে এবং তার জন্য তারতীব রক্ষা করা ওয়াজিব।
পালণীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তঃ ১ দিনের ইস্তহাজা বা হায়েযের ভুল গণনার কারণে ছুটে যাওয়া ৫ ওয়াক্ত নামাযের জন্য তিনি নিশ্চিতভাবে সাহেবে তারতীব। সুতরাং, নতুন কোনো ফরয নামায পড়ার আগে তাকে অবশ্যই ফজরের কাযা দিয়ে শুরু করে এশার কাযা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে নামাযগুলো আদায় করে নিতে হবে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।