কুরআন তিলাওয়াতের আদব, নামাজ, ঈমান, স্বপ্ন
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
১. কুরআন পড়া শুরু করার সময় কী কী দোয়া, সূরা পড়ে কুরআন খুলব, পড়া শুরু করব? কুরআন পড়ার পর মোনাজাত করলে কি দোয়া কবুল হয়?
২. নামাজে প্রথম রাকাতে সিজদাহ দিয়ে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর মাঝে কি বসা লাগে? বসলে আল্লাহু আকবর কতবার বলব? সিজদাহ দিয়ে আল্লাহু আকবর একবার বলতে বলতে বসে যাই। তারপর দাঁড়ানোর সময় আবার আল্লাহু আকবর বলতে বলতে দাঁড়িয়ে যাই। এভাবে হবে? নাকি সিজদাহ শেষ করে না বসে একেবারে দাঁড়িয়ে যেতে হবে?
৩. বিতর সালাতের কাযা কি আদায় করতে হয়? নাকি শুধু এশার ফরজ? আদায় করতে হলে বিতর এর কাযা কীভাবে আদায় করব?
৪. কিভাবে ঈমান নবায়ন করতে পারি? ঈমানের সর্বোচ্চ স্তরে কীভাবে যেতে পারি, আল্লাহ ও রাসূল সা. এর প্রতি মহব্বত কীভাবে সর্বোচ্চ রাখতে পারি? স্বপ্নে আল্লাহর কাবা তাওয়াফ এর জন্য,রাসূল সা. কে স্বপ্নে দেখার জন্য কী কী করব? কিভাবে বুঝব আল্লাহ আমার উপর সন্তুষ্ট আছেন কিনা?
৫. একজন ছেলে মানুষের সাথে কথা বলাই কি হারাম? যদি সেখানে কোনো অশ্লীলতা না থাকে। ইলম অর্জনের জন্য কথা বলা কি জায়েয আছে?
৬. একদিন স্বপ্নে দেখি - আমি একটা নতুন বাড়িতে গেছি। বাড়িটা অনেক বড় সুন্দর। ওখানে আমার পরিবার নিয়ে গেছি ওটা আমাদের বাড়ি। আমরা গোছগাছ করছি, ঘর সাজাচ্ছি। প্রতিবেশী কেউ কেউ দেখতে এসেছে । তাদের আপ্যায়ন করছি। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কী?
( আমরা ভাড়া বাসায় থাকি। কিন্তু আমার বাবা আমার বিয়ে দেওয়ার জন্য এখন নিজেদের বাড়ি করছেন আল্লাহর রহমতে। কিন্তু সেই বাড়ি নিয়ে আমার কোনো উচ্চাভিলাষ নেই, শুধু পর্দা মেইনটেইন করার মত পরিবেশ থাকলেই হবে ইং শা আল্লাহ। আমার কোনো দুনিয়াবি শান শওকত এর ইচ্ছা নেই সেই বাড়ি নিয়ে, আমি ভাবিও না কিছু)
৭. আমি প্রায়ই স্বপ্নে আমার পরিচিত মানুষদের বিয়ে হতে দেখি। কখনও আমার বান্ধবী, কখনও আমার পরিচিত কারো। আমার বান্ধবীদের মধ্যে কারো কারো বিয়েও হয়েছে, সামনে হবে ইং শা আল্লাহ। আমি সবসময় আমার অবিবাহিত সকল পরিচিতজনের জন্য দোয়া করি, যার বাচ্চা নাই তার জন্য নেক সন্তানের দোয়া করি। কিন্তু প্রায়ই এই স্বপ্ন দেখার মানে কি?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
উত্তর প্রদানের পূর্বে একটি বিষয় স্পষ্ট করে নেওয়া জরুরি যে, প্রশ্নে উল্লেখিত স্বপ্নের ব্যাখ্যা (৬ ও ৭ নং প্রশ্ন) নবী করীম (সা.)-এর পবিত্র নামের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি সাধারণ স্বপ্ন। ইসলামী শরীয়তে সাধারণ মানুষের স্বপ্নের কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয় এবং এর উপর কোনো আমল বা ভিত্তিও নেই। তাই আমি মূলত ফিক্বহী ও ঈমান সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর (১-৫) উত্তর দিচ্ছি এবং স্বপ্ন সংক্রান্ত অংশে (৬-৭) সাধারণ নির্দেশনা দিচ্ছি।
১. কুরআন তিলাওয়াতের আদব, দোয়া ও মোনাজাত
কুরআন পড়া শুরু করার দোয়া ও আদব:
কুরআন তিলাওয়াত শুরু করার আগে আউযুবিল্লাহ (أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ) এবং বিসমিল্লাহ (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) পড়া সুন্নত। আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ "অতএব তুমি যখন কুরআন পাঠ করবে, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে।" (সূরা আন-নাহল: ৯৮)
তিলাওয়াত শুরুর আগে এই দোয়াটি পড়া উত্তম: اللَّهُمَّ افْتَحْ عَلَيَّ فُتُوحَ الْعَارِفِينَ وَارْزُقْنِي فَهْمَ النَّبِيِّينَ وَاحْفَظْنِي بِحِفْظِكَ وَحِفْظِ مَلَائِكَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ (উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাফতাহ আলাইয়্যা ফুতুহাল আরিফিন, ওয়ারযুকনী ফাহমান নাবিয়্যীন, ওয়াহফাযনী বিহিফযিকা ওয়া হিফযি মালাইকাতিকা, ইয়া আরহামার রাহিমীন।)
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পবিত্রতা (ওযু) সহকারে, কিবলামুখী হয়ে, বিনয় ও ধ্যান সহকারে কুরআন তিলাওয়াত করা। তিলাওয়াতের সময় মনোযোগ ও চিন্তা-ভাবনা (তাদাব্বুর) করা সর্বোত্তম আদব। (মা'আরিফুল কুরআন, সূরা আন-নাহলের ব্যাখ্যা)
কুরআন পড়ার পর মোনাজাত:
কুরআন তিলাওয়াতের পর মোনাজাত করা এবং দোয়া চাওয়া উত্তম। হাদীসে বর্ণিত আছে, "যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে এবং এরপর দোয়া করে, তার দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ আশা করা যায়।" (তিরমিযী, হাদীস: ৩৪৭৬)। তবে মনে রাখতে হবে, দোয়া কবুল হওয়া আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। দোয়ার সাথে সাথে তাকওয়া, হালাল রিযিক ও আন্তরিকতা থাকা জরুরি। (রদ্দুল মুহতার, ১/৫৫)
২. নামাজে সিজদা থেকে দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর নিয়ম
সিজদা থেকে উঠে দাঁড়ানোর নিয়ম:
প্রথম রাকাতের দ্বিতীয় সিজদা শেষ করে সরাসরি দাঁড়িয়ে যাওয়া সুন্নত। সিজদা থেকে উঠে বসা (জালসা) শুধুমাত্র দুই সিজদার মাঝে (প্রথম সিজদা ও দ্বিতীয় সিজদার মধ্যে) সুন্নত। দ্বিতীয় সিজদা শেষ করে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর সময় না বসে সরাসরি দাঁড়িয়ে যাওয়া সুন্নত। (আল-হিদায়া, ১/৭৮; রদ্দুল মুহতার, ১/৩৪৫)
আপনি যে পদ্ধতিতে (সিজদা থেকে উঠে বসা, তারপর দাঁড়ানো) করছেন, তা সুন্নতের খিলাফ। সঠিক পদ্ধতি হলো:
- দ্বিতীয় সিজদা শেষ করে "আল্লাহু আকবার" বলে সরাসরি দাঁড়িয়ে যাওয়া। এখানে শুধুমাত্র একবার তাকবির বলতে হবে, দাঁড়ানোর সময়। সিজদা থেকে উঠে বসার সময় কোনো তাকবির নেই, কারণ আপনি বসবেনই না।
সিজদা থেকে দাঁড়ানোর সময় তাকবির: দাঁড়ানোর সময় একবার "আল্লাহু আকবার" বলা সুন্নত। এর বেশি বলার প্রয়োজন নেই। (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৭২)
৩. বিতর সালাতের কাযা
বিতর সালাতের কাযা:
বিতর সালাত ওয়াজিব। (আল-হিদায়া, ১/১১২) তাই এশার ফরজের মতোই বিতরের কাযা আদায় করা জরুরি। যদি কোনো কারণে বিতর ছুটে যায়, তাহলে তা কাযা করতে হবে।
কাযা করার নিয়ম:
- বিতরের কাযা পরের দিনের এশার পর বা সুবহে সাদিকের পর আদায় করা যেতে পারে। তবে উত্তম হলো, যত দ্রুত সম্ভব কাযা করা।
- কাযা বিতর ৩ রাকাত পড়তে হবে, ঠিক নিয়মিত বিতরের মতোই। অর্থাৎ ২ রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে ১ রাকাত পড়া, অথবা ৩ রাকাত একসাথে পড়া (কুনুতসহ) — উভয়টিই জায়েয। (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/১১৮; রদ্দুল মুহতার, ২/২৭)
মনে রাখবেন: বিতরের কাযা পড়ার সময় নিয়ত করবেন "আমি ছুটে যাওয়া বিতরের কাযা পড়ছি।"
৪. ঈমান নবায়ন, সর্বোচ্চ স্তর ও আল্লাহর সন্তুষ্টি
ঈমান নবায়ন:
ঈমান নবায়নের জন্য কালিমা তাইয়্যেবা (لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ) পাঠ করা এবং এর অর্থসহ বিশ্বাস করা। প্রতিটি নামাজের পর, অথবা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় এই কালিমা পাঠ করে ঈমান নবায়ন করা উত্তম। (বাহিশতি জেওর, ১/৩৪)
ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর:
ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর হলো ইহসান। হাদীসে জিবরাঈল (আ.)-এর ঘটনায় রাসূল (সা.) বলেছেন:
"ইহসান হলো, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাকে দেখছ, আর যদি তুমি তাকে না দেখ, তবে তিনি তোমাকে দেখছেন।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫০)
এই স্তরে পৌঁছানোর জন্য: ১. আল্লাহর পরিচয় ও গুণাবলী সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করা। ২. নিয়মিত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির করা। ৩. আল্লাহর সৃষ্টি ও নিয়ামত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। ৪. রাসূল (সা.)-এর জীবনী ও সুন্নত অনুসরণ করা।
আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি মহব্বত সর্বোচ্চ রাখার উপায়:
আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি মহব্বতের সর্বোচ্চ স্তর হলো, আল্লাহ ও রাসূলের ভালোবাসাকে সবকিছুর উপরে স্থান দেওয়া। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ "বলুন, তোমাদের পিতা, পুত্র, ভাই, স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন, উপার্জিত ধন-সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রিয় আবাসস্থল তোমাদের কাছে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে বেশি প্রিয় হলে, তবে অপেক্ষা কর আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত।" (সূরা আত-তাওবাহ: ২৪)
এই মহব্বত অর্জনের জন্য:
- রাসূল (সা.)-এর সুন্নতের উপর আমল করা।
- তাঁর জীবনী ও চরিত্র সম্পর্কে জানা।
- দরূদ শরীফ বেশি বেশি পাঠ করা।
- আল্লাহর নিয়ামত ও রহমত নিয়ে চিন্তা করা।
স্বপ্নে কাবা তাওয়াফ ও রাসূল (সা.)-কে দেখার জন্য:
স্বপ্নে কাবা তাওয়াফ বা রাসূল (সা.)-কে দেখার জন্য কোনো নির্দিষ্ট আমল নেই। তবে হাদীসে আছে, "যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে যেন সত্যিই আমাকে দেখল। কারণ শয়তান আমার আকৃতিতে আসতে পারে না।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬৯৯৩)। রাসূল (সা.)-কে স্বপ্নে দেখার জন্য সুন্নতের উপর আমল, দরূদ শরীফ বেশি পড়া এবং পবিত্র জীবনযাপন করা সহায়ক হতে পারে। তবে এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, নিজের চেষ্টার উপর নির্ভরশীল নয়।
আল্লাহর সন্তুষ্টি বোঝার উপায়:
আল্লাহর সন্তুষ্টির সবচেয়ে বড় নিদর্শন হলো: ১. ইবাদতে মনোযোগ ও আগ্রহ — নামাজ, কুরআন, জিকিরে মন বসে। ২. গুনাহ থেকে বিরত থাকার তাওফিক — পাপ কাজে ঘৃণা জন্মে। ৩. ধৈর্য ও শোকর — বিপদে ধৈর্য, সুখে শোকর আদায় হয়। ৪. আল্লাহর স্মরণে অন্তরের প্রশান্তি — কুরআনে বলা হয়েছে, "জেনে রাখো, আল্লাহর জিকিরেই অন্তর প্রশান্ত হয়।" (সূরা আর-রাদ: ২৮)
তবে মনে রাখতে হবে, আল্লাহর সন্তুষ্টি নিশ্চিতভাবে জানার উপায় নেই। বান্দার কর্তব্য হলো, সর্বদা আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য করা এবং তাঁর রহমতের আশা করা। (মা'আরিফুল কুরআন, ৪/৪৫৬)
৫. ছেলের সাথে কথা বলা ও ইলম অর্জনের জন্য কথা বলা
ছেলে মানুষের সাথে কথা বলার বিধান:
ইসলামী শরীয়তে অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক কথা বলার জন্য নারী-পুরুষের দেখা-সাক্ষাৎ ও কথোপকথন হারাম। কারণ এটি ফিতনার (পাপের) দরজা খুলে দেয়। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ "তোমরা নরম কণ্ঠে কথা বলো না, যাতে সেই ব্যক্তি লোভী হয়, যার অন্তরে রোগ আছে।" (সূরা আল-আহযাব: ৩২)
ইলম অর্জনের জন্য কথা বলা:
যদি সত্যিই প্রয়োজন হয় (যেমন: ইলম অর্জন, জরুরি প্রয়োজনে পরামর্শ), তাহলে শরীয়তের সীমারেখার মধ্যে থেকে কথা বলা জায়েয। তবে শর্ত হলো:
- পর্দার (হিজাবের) প্রতি লক্ষ্য রাখা — অর্থাৎ সরাসরি দেখা না করা, পর্দার আড়াল থেকে বা প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যে কথা বলা।
- কথার ধরন — স্বাভাবিক, মার্জিত ও প্রয়োজনীয় কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। কোনো প্রকার নরম কণ্ঠ, হাসি-ঠাট্টা বা অপ্রয়োজনীয় আলাপ নয়। কন্ঠস্বর নরম না করে কঠোর স্বরে কথা বলার চেষ্টা করা।
- প্রয়োজনের পরিমাণ — শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কথা বলা, এর বেশি নয়।
ইলম অর্জনের জন্য যদি কোনো মাহরাম (যেমন: ভাই, চাচা) না থাকে, তাহলে মহিলাদের জন্য উত্তম হলো, লিখিতভাবে বা পর্দার আড়াল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫৬; রদ্দুল মুহতার, ১/৪০৬)
৬ ও ৭. স্বপ্নের ব্যাখ্যা
স্বপ্নের ব্যাখ্যা ইসলামী শরীয়তে একটি জটিল বিষয়। সাধারণ মানুষের স্বপ্নের উপর নির্ভর করা বা এর ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত নয়। রাসূল (সা.) বলেছেন, "স্বপ্ন তিন প্রকার: (১) আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, (২) শয়তানের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তা, (৩) মানুষের মনের কল্পনা।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২২৬৩)
আপনার বর্ণিত স্বপ্নগুলো (নতুন বাড়ি, বিয়ে) সম্ভবত আপনার মনের চিন্তা ও কল্পনার প্রতিফলন। যেহেতু আপনি বাড়ি ও বিয়ে নিয়ে ভাবছেন, তাই স্বপ্নে এসব দেখা স্বাভাবিক। ইসলামী দৃষ্টিতে:
- স্বপ্নের উপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
- ভালো স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং ভালো কিছু আশা করা।
- খারাপ বা বিভ্রান্তিকর স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে থুথু ফেলে আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়া এবং ঘুমের অবস্থান পরিবর্তন করা। (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৭০৪৪)
আপনার উল্লেখিত স্বপ্নগুলোতে কোনো ভয় বা ক্ষতির ইঙ্গিত নেই, তাই এগুলো নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার দৈনন্দিন ইবাদত, দোয়া ও আল্লাহর উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) বজায় রাখুন। আল্লাহ তাআলা আপনার বিবাহ, পরিবার ও ভবিষ্যৎ জীবনকে বরকতময় করুন।