নামাজে সূরা শেষে পুনরায় হাত তোলা ও তাকবীর দেওয়া এবং তাশাহুদে আঙুল নাড়ানো সম্পর্কে হানাফি ফিকহের বিধান।
Salah-Prayer · Hanafi
Question No:
441
Questioner:
Saleha Khatun
Question Asked:
20 May 2026, 09:54 PM
Reviewed & Published:
20 May 2026, 09:58 PM
Views:
26
Tokens:
2,436
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
ওস্তায কেউ যদি সূরা পড়ে রুকুতে যাওয়ার আগে আবার বুকের উপর হাত তুলে আল্লাহু আকবার বলে যায় এইরকম করে আবার তাশাহুদ পড়ার সময় আঙ্গুল নাড়াতে থাকে এইটা কি ঠিক?
Answer
উত্তর:
১. সূরা শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে পুনরায় হাত তুলে তাকবীর বলা:
- হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, রুকুতে যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটি তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলার নিয়ম। কুরআন তিলাওয়াত শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে পুনরায় হাত তুলে তাকবীর দেওয়া নবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা প্রমাণিত নয়। এটি একটি বিদ‘আত (নতুন সংযোজন), যা নামাজের সৌন্দর্য ও সুন্নাত থেকে বিচ্যুতি।
- রেফারেন্স: রদ্দুল মুহতার (১/৪৫৭) ও ফাতাওয়া উসমানি (১/১৪২) তে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, নামাজের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় বা অপ্রমাণিত কাজ করলে তা মাকরূহে তানযীহী হবে।
- তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এটি নিয়মিত করলে নামাজের মধ্যে তাহরীমার (ফরয) কোনো ক্ষতি না হলেও, এরূপ করা সুন্নাতের বিপরীত।
২. তাশাহুদ পড়ার সময় আঙ্গুল নাড়ানো:
- হানাফি মাযহাব মতে, তাশাহুদকালে শাহাদাত আঙুল (ডান হাতের তর্জনী) উত্তোলন করা সুন্নাত। তবে নাড়াচাড়া করা বা ঝাঁকানো বিদ‘আত।
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, শুধু "লা ইলাহা" বলার সময় আঙুল উত্তোলন করবেন এবং "ইল্লাল্লাহ"-এ নামিয়ে দেবেন। আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রহ.) রদ্দুল মুহতার (১/৪৭২)-এ লিখেছেন, আঙুল নাড়ানো মাকরূহ।
- বাহেশতী জেওর (প্রথম খণ্ড, নামাজ অধ্যায়)-এ উল্লেখ আছে, তাশাহুদে আঙুল নাড়ানো বিদ‘আত এবং নামাজরত ব্যক্তির শান্তি বিনষ্ট করে।
সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা:
- রুকুর তাকবীর: শুধু একবার হাত উত্তোলন শেষে তাকবীর বলবেন এবং রুকুতে যাবেন।
- তাশাহুদের আঙুল: শুধু তর্জনী নির্দেশনার সময় স্থির রাখবেন, নাড়াবেন না।
- সতর্কতা: নামাজে কোনো অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রমাণিত কাজ করলে নামাজের পূর্ণতা ও প্রশান্তি ব্যাহত হয়। নবী (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতি মেনে চলাই সর্বোত্তম।
ফতোয়া ভিত্তিক নির্দেশনা:
- ফাতাওয়া উসমানি (১/১৪২) ও ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৭৬)-এ বলা হয়েছে, "উক্ত কাজগুলো বিদ‘আত ও মাকরূহ। নামাজ শুদ্ধ হলেও সওয়াব কমে যেতে পারে।"
- **মুফতি তাকি উসমানি (হাফি.)**ও তাঁর ফিকহি মাকালাত-এ একই মতামত দিয়েছেন।
সুতরাং, প্রশ্নোক্ত দুটি কাজই ঠিক নয়। নামাজে সহিহ সুন্নাত তরিকা অনুসরণ করে বিদ‘আত ও মাকরূহ কাজ পরিহার করা কর্তব্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুন্নাতের ওপর আমল করার তওফিক দিন। (আমিন)