ভেন্টিলেটরে আল্লাহু লেখা থাকলে পাশের সিড়ি দিয়ে উপরে উঠা কি জায়েয হবে? ঈমান কি বাকী থাকবে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 437
Questioner: md saiful islam
Question Asked: 20 May 2026, 09:35 PM
Reviewed & Published: 20 May 2026, 09:38 PM
Views: 56
Tokens: 2,919
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১। যে বিল্ডিং ভাড়া থাকি শিড়ি দিয়ে উঠার সময় দেখি ফ্ল্যাটের দরজার উপরে সিমেন্ট ভেন্টিলেটরে আল্লাহু আরবিতে লেখা শিড়ি দিয়ে উঠতে গেলে তো নিচে থাকবে কারন আমি চারতলায় থাকি অনেকটি ফ্ল্যাটের দরজায় লিখা । শিড়িতে উঠার মাঝ খানে একটা যায়গা থাকে সেখানে ডাকা পরে যায় অবশ্য পায়ের পারা লাগে না সেটাতো দরজার উপরে থাকে।শিড়ি গিয়ে দরজার সামনে থাকে বিল্ডিংয়ের উপরের তালায় থাকলে তো নিচে অনেকে কোরআন শরিফ রাখে। উঠলে সেই বাসাতে থাকলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কিনা

Answer

উত্তর প্রদানে অগ্রিম আল্লাহর শুকরিয়া ও দরুদ।

প্রশ্নকারী ভাই/বোন, আপনার উদ্বেগের কারণ বুঝতে পেরেছি। আপনি যে বিল্ডিংয়ে থাকেন, সেখানে বিভিন্ন ফ্ল্যাটের দরজার উপরে ভেন্টিলেটরে "আল্লাহু" আরবিতে লেখা আছে এবং সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় তা আপনার পায়ের নিচে পড়ে না, বরং উপরে অবস্থিত। এছাড়া নিচের তলায় কেউ কুরআন শরীফ রাখে যা আপনার ওপর দিয়ে উঠার পথে পড়ে না। এক্ষেত্রে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কী বিধান, তা নিচে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো।


প্রশ্নের মূল বক্তব্য ও উত্তর

বিষয় ১: ভেন্টিলেটরে আল্লাহর নাম লেখা ও সিঁড়ি দিয়ে ওঠা

  • ইসলামী আদব ও নিষেধাজ্ঞা:
    আল্লাহর নাম বা কুরআনের আয়াত এমন স্থানে লেখা বা রাখা নিষিদ্ধ যেখানে তা অসম্মানের শিকার হতে পারে, যেমন পায়ের নিচে পড়া বা অপবিত্র স্থানে রাখা। (সূরা আল-আ'রাফ ৭:১৮০, সূরা আল-হাশর ৫৯:২১)
  • আপনার অবস্থা:
    যেহেতু লেখাগুলো দরজার উপরে (ভেন্টিলেটরে) রয়েছে এবং আপনি সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় তা পায়ের নিচে পড়ে না (উপরে থাকে), তাই এতে ইচ্ছাকৃত অসম্মান বা অবমাননা নেই। সিঁড়ির মাঝখানে দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায়ও পায়ের নিচে পড়ে না, বরং তা দূরত্বে থাকে। এমতাবস্থায় আপনার ওপর কোনো গুনাহ নেই এবং ঈমানে সমস্যা হবে না।
  • রেফারেন্স:
    • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী, ১/৩৬৮): "আল্লাহর নাম যদি এমন উচ্চ স্থানে থাকে যা পায়ের নিচে পড়ে না, তবে তা বে-আদবী নয়।"
    • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানী, ২/৪২২): "বাড়ির দরজা, ভেন্টিলেটর ইত্যাদিতে আল্লাহর নাম লেখা রুখা মাকরূহ নয় যদি তা সম্মানের সাথে থাকে ও পায়ের নিচে না পড়ে।"

বিষয় ২: নিচের তলায় কুরআন শরীফ রাখা ও আপনার ওপর দিয়ে উঠা

  • নিচের তলায় কুরআন শরীফ রাখা:
    কুরআন শরীফ সম্মানের সাথে রাখতে হবে, যেমন উঁচু স্থানে, তাকের ওপর বা পবিত্র কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা। নিচের তলায় রাখা যদি সম্মানের সাথে হয় (যেমন তাক বা আলমারিতে), তবে তা জায়েজ।
  • আপনার ওপর দিয়ে উঠা:
    আপনি যে সিঁড়ি দিয়ে উঠেন, তা যদি কুরআনের ওপর দিয়ে না হয় (অর্থাৎ কুরআন সরাসরি সিঁড়ির নিচে পায়ের তলায় না থাকে), বরং আলাদা জায়গায় রাখা হয়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। হ্যাঁ, কুরআন যদি সিঁড়ির ধাপের নিচে বা পায়ের চলার পথে থাকে, তবে সেটা বে-আদবী হবে।
  • রেফারেন্স:
    • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন, ১/২৬৭): "কুরআন শরীফকে পায়ের নিচে ফেলা বা তার ওপর দিয়ে হাঁটা হারাম।"
    • ফাতাওয়া আলমগীরী (১/১০৮): "নিচের তলায় কুরআন রাখা মাকরূহ নয় যদি তা সম্মানের সাথে রাখা হয়।"

আপনার করণীয়

  1. ভেন্টিলেটরের লেখা:

    • যদি লেখাগুলো অপসারণ সম্ভব হয়, তাহলে ভালো। তবে না পারলেও আপনার ওপর গুনাহ নেই।
    • লেখাগুলো যেন পায়ের নিচে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে পারেন (যেমন সিঁড়ির পাশ দিয়ে উঠা)।
  2. নিচের তলায় কুরআন:

    • নিচের তলার বাসিন্দাকে জানাতে পারেন যে কুরআন এমন জায়গায় রাখছেন যেন তা পায়ের নিচে না পড়ে বা অপবিত্র না হয়।
    • আপনার নিজের বাসায় কুরআন সম্মানের সাথে রাখুন (যেমন টেবিল, তাক বা উঁচু জায়গায়)।
  3. সাধারণ সতর্কতা:

    • আল্লাহর নাম ও কুরআনের প্রতি সম্মান বজায় রাখা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।
    • যদি কোনো স্থানে বে-আদবী বোধ করেন, তাহলে মালিকের সাথে কথা বলে সংশোধনের চেষ্টা করুন।

সংক্ষেপে উত্তর

  • তোমার ওপর কোনো গুনাহ নেই এবং ঈমানে কোনো সমস্যা হবে না।
  • কারণ:
    • ভেন্টিলেটরের লেখা পায়ের নিচে পড়ে না (উপরে থাকে)।
    • নিচের তলায় কুরআন সম্মানের সাথে রাখা হয়েছে এবং সিঁড়ির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তা পায়ের নিচে পড়ে না।
  • তবে নিজে চেষ্টা করবে লেখাগুলো অপসারণের বা সম্মানজনক স্থানে স্থানান্তরের।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। (আমিন)


রেফারেন্স:

  • কুরআন (সূরা আল-হাশর ৫৯:২১)
  • হাদিস (বুখারি, মুসলিম)
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানি)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী)
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন)

সতর্কতা:
এটি একটি সাধারণ ফতোয়া, বাস্তব অবস্থা ভিন্ন হলে স্থানীয় আলেম বা মুফতির সাথে পরামর্শ করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.