লাল স্রাবকে কি মাসিক ধরবো কিনা?
Taharah Purity · Hanafi
Question
জুলাই মাসের ২১ তারিখে আমার মাসিক শুরু হয় ২৭ তারিখে ভালো হয়। আগস্ট মাসের ১৮ তারিখে দুপুর থেকে সাদা এবং লাল মিশ্রিত স্রাব যায় ১৯শে আগস্ট সকালে সাদাস্রাব যায় আবার রাতে লাল স্রাব যায়। ২০ শে আগস্ট মেটে রংয়ের স্রাব যায়। এই তিন দিন কোন প্রকার রক্ত যায়নি মাসিকের মত। তাহলে কি আমি এই তিন দিন মাসিক ধরবো। নামাজ পড়বো না।আরো দুই তিন মাস আগে চার পাঁচ দিন এমন হয়েছে একবার লালস্রাব একবার সাদাস্রাব। চার পাঁচ দিন এমন হওয়ার পর স্বাভাবিক আবার সাত দিন রক্ত গেছে। এখন আমার প্রশ্ন হল আমি কি এইভাবে সাদা লালস্রাব কে মাসিক ধরবো নাকি পরে যেটা বেশি করে রক্ত যাবে সেটাকে মাসিক ধরবো?
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। ইসলামি ফিকহের পরিভাষায় মাসিক (حیض) হলো সেই রক্ত যা সুস্থ নারীর জরায়ু থেকে নির্দিষ্ট সময়ে বের হয়। পবিত্রতা (طہر) অবস্থায় যে স্রাব বের হয় তা মাসিক নয়।
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী বিশ্লেষণ:
১. জুলাই মাসের ২১ তারিখে মাসিক শুরু হয়ে ২৭ তারিখে শেষ হয়েছে—এটি আপনার স্বাভাবিক অভ্যাস (عادت)। ২. আগস্ট মাসের ১৮ তারিখ দুপুর থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত যে সাদা, লাল মিশ্রিত, সাদা, লাল এবং মেটে রঙের স্রাব গেছে—এটি কি মাসিক নাকি ইস্তিহাযা (استحاضة - অসুস্থতাজনিত রক্ত)?
হানাফি ফিকহের নিয়ম:
- যদি কোনো নারীর নির্দিষ্ট মাসিকের অভ্যাস থাকে (যেমন: ৭ দিন), তাহলে সেই অভ্যাসের দিনগুলোতে আসা রক্তকে মাসিক ধরা হবে। অভ্যাসের চেয়ে বেশি দিন রক্ত এলে তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।
- তবে যদি রক্তের রং ও প্রকৃতি পরিবর্তিত হয় (যেমন: লাল, কালো, ঘন, দুর্গন্ধযুক্ত) তাহলে সেটি মাসিক; আর যদি সাদা বা পানি জাতীয় হয় তাহলে সেটি মাসিক নয়, বরং ইস্তিহাযা বা পবিত্রতার স্রাব।
- গুরুত্বপূর্ণ নীতি: মাসিকের ন্যূনতম সময়কাল হলো ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন। এর কম বা বেশি রক্ত মাসিক নয়।
আপনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত:
আগস্ট মাসের ১৮, ১৯ এবং ২০ তারিখে যে স্রাব গেছে— তা যদি মাসিকের রক্তের মতো লাল, ঘন বা দুর্গন্ধযুক্ত না হয়ে থাকে, বরং সাদা, মেটে বা পানি মিশ্রিত স্রাব হয়, তাহলে এই তিন দিন মাসিক ধরবেন না। এটি পবিত্রতার স্রাব (طہر) হিসেবে গণ্য হবে। তাই এই তিন দিন আপনাকে নামাজ পড়তে হবে এবং রোজা রাখতে হবে (যদি রোজা থাকে)।
কিন্তু যদি ১৮ তারিখ দুপুর থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত স্রাবের মধ্যে রক্তের প্রাধান্য থাকে (অর্থাৎ লাল রং স্পষ্ট রক্ত হয় এবং তা টানা ৩ দিন স্থায়ী হয়), তাহলে সেটি মাসিক হিসেবে গণ্য হবে। যেহেতু আপনি বলেছেন "কোন প্রকার রক্ত যায়নি মাসিকের মত", তাই ধারণা করা যায় এটি মাসিক নয়।
আরও দুই-তিন মাস আগের ঘটনা: চার-পাঁচ দিন সাদা-লাল স্রাবের পর ৭ দিন রক্ত গেছে। সেখানে ৭ দিনের রক্তকেই মাসিক ধরা হয়েছে, কারণ সেটিই ছিল প্রকৃত মাসিকের রক্ত। সাদা-লাল স্রাবগুলো পবিত্রতার স্রাব ছিল।
আপনার করণীয়:
- আগস্ট মাসের ১৮-২০ তারিখের স্রাব যদি মাসিকের রক্তের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ (লাল, ঘন, দুর্গন্ধ) না হয়, তাহলে এই তিন দিন মাসিক ধরবেন না। নামাজ পড়বেন।
- এরপর যদি ২১ তারিখ থেকে বা পরে টানা ৩ দিন বা তার বেশি প্রকৃত রক্ত যায়, তাহলে সেটিই মাসিক হিসেবে গণ্য হবে। সেই রক্ত শেষ হলে গোসল করে নামাজ শুরু করবেন।
- মাসিকের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০ দিন। এর বেশি রক্ত গেলে তা ইস্তিহাযা (অসুস্থতাজনিত রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই অবস্থায় নামাজ-রোজা করতে হবে।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া: "أقل الحيض ثلاثة أيام ولياليها، وأكثره عشرة أيام" (মাসিকের ন্যূনতম সময় ৩ দিন ৩ রাত, সর্বোচ্চ ১০ দিন)।
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): "الصفرة والكدرة في أيام الحيض حيض، وفي أيام الطهر طهر" (মাসিকের দিনে সাদা-মেটে স্রাব মাসিক; পবিত্রতার দিনে তা পবিত্রতা)।
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: "إذا رأت دما أسود أو أحمر فهو حيض، وإن رأت صفرة أو كدرة في غير أيام الحيض فليس بحيض" (কালো বা লাল রক্ত মাসিক; সাদা বা মেটে রক্ত মাসিকের দিন ছাড়া মাসিক নয়)।
সারকথা: আপনি ১৮-২০ আগস্টের স্রাবকে মাসিক ধরবেন না, কারণ এটি মাসিকের রক্তের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নয়। পরবর্তীতে যদি প্রকৃত রক্ত ৩ দিন বা তার বেশি স্থায়ী হয়, সেটিই মাসিক হিসেবে গণ্য হবে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।