ব্যাংকারের বাসায় পড়ানো এবং নাস্তা খাওয়া কি জায়েয?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্নটি দুটি অংশে বিভক্ত:
১. ব্যাংকারের বাড়িতে পড়াতে গিয়ে সেখানে নাস্তা খাওয়া কি গুনাহ হবে? ২. ব্যাংকারের সন্তানকে পড়ানোর বেতন কি হারাম হবে?
উত্তর:
প্রথম অংশ: নাস্তা খাওয়া প্রসঙ্গে
আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে, উক্ত নাস্তা হারাম উপার্জনের টাকায় কেনা হয়েছে, তবে তা খাওয়া আপনার জন্য জায়েয (বৈধ) হবে। ইসলামের মূলনীতি হলো, কোনো বস্তু হারাম প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা হালালই থাকবে। যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে, উক্ত নাস্তা হারাম টাকায় কেনা, তাই তা খাওয়া আপনার জন্য গুনাহের কাজ হবে না।
তবে যদি আপনি নিশ্চিতভাবে জানেন যে, উক্ত ব্যক্তির সমস্ত আয়ই সুদী লেনদেনের মাধ্যমে (যা স্পষ্ট হারাম), এবং সেই হারাম টাকায়ই নাস্তা কেনা হয়েছে, তাহলে সতর্কতা হিসেবে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উত্তম। কিন্তু যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন, তাই খেলে গুনাহ হবে না।
দ্বিতীয় অংশ: বেতন প্রসঙ্গে
আপনার পড়ানোর বেতন সম্পূর্ণ হালাল হবে। কারণ, আপনি যে কাজটি করছেন (শিক্ষা দেওয়া) তা সম্পূর্ণ বৈধ। আপনার কাজের বিনিময়ে আপনি যে পারিশ্রমিক পাচ্ছেন, তা হালাল। ব্যাংকারের উপার্জন হারাম হওয়ার কারণে আপনার বৈধ কাজের বিনিময় হারাম হয়ে যাবে না।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে:
আল্লাহ তাআলা বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ "হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে পবিত্র বস্তু দান করেছি তা থেকে খাও।" (সূরা বাকারা: ১৭২)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের হাতের উপার্জন থেকে খায়, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন।" (তাবরানি)
মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) তার ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেন যে, ব্যাংকে চাকরি করা বা ব্যাংকারের সাথে লেনদেন করা হারাম, কিন্তু ব্যাংকারের সন্তানকে পড়ানো বা তার বাড়িতে কোনো বৈধ কাজ করা জায়েয এবং এর বিনিময় হালাল।
সারসংক্ষেপ:
১. নাস্তা খাওয়া জায়েয, কারণ আপনি নিশ্চিত নন যে তা হারাম টাকায় কেনা। ২. আপনার বেতন সম্পূর্ণ হালাল, কারণ আপনার কাজ বৈধ এবং এর বিনিময় আপনার প্রাপ্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিকের তাওফিক দান করুন। আমিন।
রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ৯ম খণ্ড, ৫০৫ পৃষ্ঠা
- ফতোয়ায়ে উসমানি, ২য় খণ্ড, ৩৪৫ পৃষ্ঠা
- ইমদাদুল ফতোয়া, ৪র্থ খণ্ড, ২৮০ পৃষ্ঠা
- বেহেশতি জেওর, ২য় খণ্ড, ৪৫ পৃষ্ঠা