কারো বৃহৎ উপকারের স্বার্থে তার বলা কথাগুলো যেগুলো সে গোপন রাখতে বলেছিলো সেগুলো কি কাওকে জানানো যাবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আমার একজন আত্মীয়া আমাকে উনার জীবনের কিছু দুর্ঘটনার কথা শেয়ার করেছেন। এবং বলেছেন এগুলো যাতে কাওকে না বলি। কিন্তু এই দুর্ঘটনাগুলোর জন্য উনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং উনার এই বিপর্যস্ততা কাটানোর জন্যই এই কথাগুলো অন্যদের জানানো জরুরি। সেক্ষেত্রে আমি কি এই কথাগুলো অন্যদের কাছে বলতে পারব??
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নের উত্তর:
আপনার আত্মীয়া আপনাকে তার জীবনের কিছু দুর্ঘটনার কথা বলেছেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এগুলো যেন কাউকে না বলা হয়। এখন প্রশ্ন হলো, তার মানসিক বিপর্যস্ততা কাটানোর জন্য আপনি কি তার অনুমতি ছাড়া এগুলো অন্যদের জানাতে পারবেন?
উত্তর: না, আপনি পারবেন না।
দলিল ও প্রমাণ:
১. আমানত রক্ষার নির্দেশ:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده" "সেই মুসলিম প্রকৃত মুসলিম, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।" (সহীহ বুখারী: ১০)
২. গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"إذا حدث الرجل بالحديث ثم التفت فهي أمانة" "যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলে এবং চারপাশে তাকায় (অর্থাৎ গোপন রাখার ইঙ্গিত দেয়), তখন তা আমানত।" (সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৬৮, তিরমিজি: ১৯৫৯)
আরেকটি হাদিসে এসেছে:
"من اؤتمن على سر فأفشاه فليس منا" "যে ব্যক্তির কাছে কোনো গোপন কথা আমানত হিসেবে রাখা হয়, অতঃপর সে তা প্রকাশ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (মুসনাদে বাযযার)
৩. কারো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় গোপন কথা প্রকাশ করা:
যদি কারো জান-মাল বা ইজ্জতের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলেও অনুমতি ছাড়া গোপন কথা প্রকাশ করা জায়েয নয়। তবে যদি কারো জীবনের নিরাপত্তার জন্য সত্যিই গুরুতর ঝুঁকি থাকে, তাহলে প্রযোজ্য কর্তৃপক্ষকে (যেমন: পুলিশ, ডাক্তার) জানানো যেতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে নয়।
৪. মানসিক বিপর্যস্ততা দূর করার বিকল্প উপায়:
আপনার আত্মীয়ার মানসিক বিপর্যস্ততা দূর করার জন্য আপনি তাকে উৎসাহিত করতে পারেন:
- বিশ্বস্ত কোনো আলেম বা ইসলামিক কাউন্সেলরের কাছে যেতে
- পেশাদার মনোবিদ বা থেরাপিস্টের পরামর্শ নিতে (যারা পেশাগতভাবে গোপনীয়তা রক্ষায় বাধ্য)
- দুআ ও যিকিরের মাধ্যমে সান্ত্বনা পেতে
- তার সাথে নিজে কথা বলে তাকে সান্ত্বনা দিতে
ফিকহী নীতিমালা:
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার -এ উল্লেখ করেছেন যে, কারো গোপনীয়তা প্রকাশ করা হারাম, যদি না তা প্রকাশ করা শরীয়তসম্মত কোনো প্রয়োজনে হয় (যেমন: অপরাধ প্রমাণ করা, ক্ষতি প্রতিরোধ করা)।
ফাতাওয়া হিন্দিয়া -তেও বলা হয়েছে:
"একজনের গোপনীয়তা অন্যজনের কাছে প্রকাশ করা জায়েয নয়, যতক্ষণ না তাতে শরীয়তের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ থাকে।"
উপসংহার:
আপনার আত্মীয়া আপনাকে তার গোপন কথা বলেছেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছেন যেন কাউকে না বলেন। তাই তার অনুমতি ছাড়া এই কথা অন্যদের জানানো জায়েয নয়। এটি একটি আমানত হিসেবে আপনার কাছে গচ্ছিত রয়েছে। আপনি তার মানসিক বিপর্যস্ততা দূর করতে চাইলে তাকে পেশাদার সাহায্য নিতে উৎসাহিত করুন, কিন্তু তার গোপন কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করবেন না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আমানত রক্ষার তাওফীক দান করুন। (আমিন)