ক্রয়-কৃত পণ্য ফেরত দেওয়ার বিধান জানতে চাই?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আমি এক দোকান থেকে ডালের বস্তা কিনি, এরপর সামনের দোকানে তার চেয়ে কিছুটা ভালো কোয়ালিটির ডাল পায়। এবং compare করার জন্য কিনা বস্তা সামান্য ফুটো করে কিছু টা ডাল হাতে নেই এবং কিনা বস্তা টি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। বিক্রেতা কে আমি তার যদি ক্ষতি না হয়, এই শর্তে ফেরত নেওয়ার অনুরোধ করি, আর যদি তাঁর ক্ষতি হয় তাহলে ফেরত দিবো না। তিনি রাজি হন, এবং তার সমস্যার জন্য ১০ টাকা ক্ষতিপূরণ রাখতে বললে উনি তা রাখেন নি, যদিও বস্তার ব্যাপারে কিছু বলি নি। এখন আমি কি তাকে ঠকালাম? আমার করনীয় কি??
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, আপনি একটি ডালের বস্তা ক্রয় করেছেন এবং পরে অন্য দোকানে ভালো মানের ডাল দেখে সেটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিক্রেতা আপনার অনুরোধে রাজি হয়েছেন এবং কোনো ক্ষতিপূরণ (১০ টাকা) নিতে রাজি হননি। এখন আপনার করণীয় সম্পর্কে ইসলামি বিধান নিম্নরূপ:
১. ক্রয়-বিক্রয়ের মূলনীতি:
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রেতার জন্য পণ্য ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি একটি নৈতিক ও সদয় আচরণ হিসেবে গণ্য হয়। হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা করে দেবেন।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯০০)
২. আপনার করণীয়:
আপনি বিক্রেতার কাছে ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং তিনি রাজি হয়েছেন। যেহেতু তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ নিতে রাজি হননি, তাই আপনি তাকে "ঠকালেন" এমনটি বলা যাবে না। বরং আপনি সৎ ও ন্যায়পরায়ণ আচরণ করেছেন। তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:
- পণ্যের অবস্থা: আপনি বস্তাটি সামান্য ফুটো করে কিছু ডাল হাতে নিয়েছেন। এটি যদি পণ্যের মূল্য বা মানের ওপর প্রভাব ফেলে থাকে, তাহলে বিক্রেতার সম্মতি ছাড়া ফেরত দেওয়া উচিত নয়। তবে যেহেতু তিনি রাজি হয়েছেন, তাই এটি বৈধ।
- ক্ষতিপূরণ: বিক্রেতা যদি ক্ষতিপূরণ নিতে রাজি না হন, তাহলে আপনি তাকে জোর করে দিতে পারবেন না। তবে আপনি চাইলে তার সদয় আচরণের জন্য দোয়া করতে পারেন।
৩. ফিকহি নির্দেশনা:
হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-হিদায়াহ ও রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে, ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পর পণ্য ফেরত দেওয়া (ইকালাহ) একটি বৈধ ও প্রশংসনীয় কাজ, যদি উভয় পক্ষ সম্মত হয়। তবে শর্ত হলো, পণ্যটি এমন অবস্থায় থাকতে হবে যাতে বিক্রেতার ক্ষতি না হয়। আপনার ক্ষেত্রে বিক্রেতা সম্মত হয়েছেন, তাই এটি বৈধ।
৪. আপনার করণীয়:
- আপনি যদি নিশ্চিত হন যে বিক্রেতা কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হননি, তাহলে আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
- তবে আপনি চাইলে বিক্রেতার সদয় আচরণের জন্য তাকে কিছু উপহার বা দোয়া করতে পারেন, যা ইসলামি আদবের অংশ।
- ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উত্তম।
৫. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:
আপনি তাকে ঠকালেননি, বরং আপনি সৎ ও ন্যায়পরায়ণ আচরণ করেছেন। যেহেতু বিক্রেতা নিজে রাজি হয়েছেন এবং কোনো ক্ষতিপূরণ নেননি, তাই আপনার ওপর কোনো দায়িত্ব নেই। আল্লাহ তায়ালা আপনার এই সৎ আচরণের বিনিময়ে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।