নামাযে সূরা ফাতাহ এর 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' পড়লে বা শুনলে কি দুরুদ পড়তে হবে?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
নামাজের মধ্যে সূরা ফাতাহ এর মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ আয়াত আসলে কি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা দরুদ শরীফ পড়া লাগবে? মুসল্লিদের জন্য কি পড়া লাগবে অথবা মুসল্লিরা যদি সশব্দে না পড়ে মনে মনেও কি তাদেরকে দরুদ শরীফ পড়া লাগবে কিনা?
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি যে, সূরা ফাতিহায় "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" বাক্যটি সরাসরি নেই। তবে সূরা ফাতাহ এর মধ্যে রয়েছে।
১. নামাজের মধ্যে দরুদ শরীফ পাঠ করার বিধান (হানাফি মাযহাব)
হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, নামাজের মধ্যে দরুদ শরীফ পাঠ করা ওয়াজিব।
- শেষ বৈঠকে (ক্বা'দায়ে আখিরা): তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়ার পর দরুদে ইবরাহীম পড়া সুন্নত। যদি কেউ ভুলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে দরুদ না পড়ে, তবে নামাজ ফাসিদ হয়ে যাবে না, কিন্তু নামাজ মাকরুহে তানযিহি হবে।
দলিল (হাদিস): হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন যখন আমরা তাশাহহুদের পর বসি তখন যেন এই দোয়া পড়ি: "আল্লাহুম্মা সাল্লি 'আলা মুহাম্মাদিন..." (অর্থাৎ দরুদ শরীফ)। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৯৬৮; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯৭)
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে শেষ বৈঠকে দরুদ শরীফ পাঠ করা সুন্নত। (রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড, ৪৮৭ পৃষ্ঠা; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১ম খণ্ড, ৭৫ পৃষ্ঠা)
২. সূরা ফাতিহা তিলাওয়াতের সময় দরুদ শরীফ পড়া
সূরা ফাতিহা তিলাওয়াতের সময় বা নামাজের কেরাতের (কুরআন তিলাওয়াত) সময় দরুদ শরীফ পড়া জায়েয নয়। নামাজের কেরাতের মধ্যে শুধুমাত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে হয়। কেরাতের মাঝখানে দরুদ শরীফ পড়লে নামাজ ভেঙে যাবে না, তবে এটি মাকরুহে তাহরিমি (নিষিদ্ধ) হবে, কারণ এটি নামাজের নিয়মের বাইরে।
তবে আপনি যদি "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" শব্দটি সূরা ফাতিহার কোনো আয়াতে না পেয়ে থাকেন, তাহলে বুঝতে হবে এটি সম্ভবত সূরা ফাতহ (৪৮ নং সূরা) এর আয়াত। সূরা ফাতহের ২৯ নং আয়াতে আছে: "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ..." এই আয়াত তিলাওয়াত করার সময় দরুদ শরীফ পড়া মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) যদি কেউ নামাজের বাইরে তিলাওয়াত করে। কিন্তু নামাজের ভিতরে এই আয়াত তিলাওয়াত করলে দরুদ শরীফ পড়া যাবে না, কারণ নামাজের কেরাতের মধ্যে দরুদ শরীফ পড়া নিষিদ্ধ।
৩. মুসল্লিদের জন্য দরুদ শরীফ পড়া কি জরুরি?
আপনার প্রশ্নের শেষ অংশে আপনি জিজ্ঞেস করেছেন, "মুসল্লিরা যদি সশব্দে না পড়ে মনে মনেও কি তাদেরকে দরুদ শরীফ পড়া লাগবে?"
উত্তর: না, মুসল্লীরাও দুরুদ পড়বে না।
- নামাজের শেষ বৈঠকে ইমাম, মুক্তাদি (মুসল্লি) এবং একাকী নামাজ পড়ুয়া সবার উপরই দরুদ শরীফ পড়া সুন্নত ।
দলিল: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন নামাজে বসে, তখন সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, তারপর আমার উপর দরুদ পাঠ করে, তারপর নিজের জন্য দোয়া করে।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৯৬৮; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯৭)
৪. সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)
| বিষয় | বিধান | |---|---| | শেষ বৈঠকে দরুদ শরীফ পড়া | সুন্নত (সবার জন্য) | | প্রথম বৈঠকে দরুদ শরীফ পড়া | সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে | | নামাজের কেরাতের মধ্যে দরুদ শরীফ পড়া | নিষিদ্ধ (মাকরুহে তাহরিমি) | | মুক্তাদির জন্য দরুদ শরীফ | ** নিষিদ্ধ ** | | দরুদ না পড়লে শেষ বৈঠকে | ** নামায হয়ে যাবে তবে মাকরুহে তানযিহি** হবে |
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।