অন্যকে শাড়ি পরিয়ে দেওয়া বিষয়ক প্রশ্ন

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 3804
Questioner: Tazry
Question Asked: 11 Aug 2026, 10:14 AM
Reviewed & Published: 11 Aug 2026, 11:37 AM
Views: 26
Tokens: 3,402
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১। এমন যদি হয় যে আমি জানি কেউ বেপর্দা চলাফেরা করে। পর্দা মেইন্টেইন করে না। তার কোনো প্রয়োজনে যদি তাকে শাড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে কি পাপ হবে? যেহেতু আমি জানি যে সে বেপর্দাতেই চলবে?
২। যদি তাকে শাড়ি পরিয়ে দিয়ে বলি যে হিজাব পড়তে, কিন্তু সে পড়লো না, এক্ষেত্রেও কি আমার পাপ হবে কি না? ৩। পাপ হলে তাকে কিভাবে মানা করা যেতে পারে? কারণ মানা করলে আবার মনক্ষুন্ন হয়ার আশংকা থাকে।

Answer

শাড়ি পরানো প্রসঙ্গে ইসলামি নির্দেশনা

প্রশ্নের উত্তর

১. বেপর্দা চলাফেরাকারীকে শাড়ি পরানো প্রসঙ্গে

যদি আপনি জানেন যে, উক্ত মহিলা বেপর্দা চলাফেরা করবে এবং শাড়ি পরিধান করলে তা তার পর্দা লঙ্ঘনের কারণ হবে, তবে তাকে শাড়ি পরানো বা এ ধরনের পোশাক প্রদানে সহায়তা করা পাপের কাজে সহযোগিতা হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ "তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না।" (সূরা আল-মায়িদা: ২)

যদি আপনি জানেন যে, শাড়ি পরিধান করলে সে বেপর্দা হবে এবং এটি তার জন্য পাপের কারণ হবে, তবে তাকে শাড়ি পরিয়ে দেওয়া পাপের সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে যদি শাড়িটি এমনভাবে পরানো হয় যা পর্দার শর্ত পূরণ করে (অর্থাৎ পুরো শরীর ঢেকে রাখে) এবং সে তা মান্য করবে বলে আপনার ধারণা থাকে, তাহলে সমস্যা নেই।

তবে মনে রাখতে হবে, শাড়ি নিজেই পর্দা লঙ্ঘনের কারণ নয় যদি তা দিয়ে শরীর ঢেকে রাখা হয়। মূল বিষয় হলো পর্দার শর্ত পূরণ করা।

২. হিজাব পড়ার নির্দেশ দিয়ে শাড়ি পরানো প্রসঙ্গে

যদি আপনি তাকে শাড়ি পরিয়ে দেন এবং সাথে সাথে হিজাব বা পর্দা করার নির্দেশ দেন, কিন্তু সে তা না মানে, তাহলে আপনার পাপ হবে না। কারণ আপনি তাকে পাপের কাজে সহযোগিতা করেননি; বরং আপনি তাকে সৎকাজের নির্দেশ দিয়েছেন। পাপ তার নিজের কর্মের জন্য হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ "যে ব্যক্তি ভালো কাজের দিকে পথ দেখায়, সে ঐ কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পাবে।" (সহীহ মুসলিম: ১৮৯৩)

আপনার দায়িত্ব হলো উপদেশ দেওয়া, আর সে তা মানবে কি না তা তার নিজের দায়িত্ব। তবে যদি আপনি নিশ্চিতভাবে জানেন যে, সে শাড়ি পরে বেপর্দা হয়ে যাবে এবং এটি তার পাপের কারণ হবে, তাহলে তাকে শাড়ি পরিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

৩. পাপ হলে মানা করার পদ্ধতি

যদি আপনি মনে করেন যে, তাকে মানা করলে মনক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে, তবে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে মানা করতে পারেন:

ক. নরম ও হিকমতপূর্ণ ভাষায় উপদেশ: আল্লাহ তাআলা বলেন:

ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ "তোমার রবের পথে আহ্বান করো হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।" (সূরা আন-নাহল: ১২৫)

খ. ব্যক্তিগতভাবে উপদেশ: জনসমক্ষে নয়, বরং একান্তে তাকে পর্দার গুরুত্ব বোঝান।

গ. কুরআন-হাদিসের দলিল পেশ করা: পর্দার আদেশ সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের আয়াত-হাদিস শোনান। যেমন:

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا "আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে যা সাধারণত প্রকাশমান তা ছাড়া।" (সূরা আন-নূর: ৩১)

ঘ. ভালোবাসা ও সহানুভূতির সাথে: তাকে বোঝান যে, আপনি তার মঙ্গল কামনা করছেন এবং আখিরাতের সাফল্যের জন্যই এ কথা বলছেন।

ঙ. দোয়া করা: তার হেদায়েতের জন্য দোয়া করুন। হেদায়েত দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ।

চ. মনক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে: যদি মনে করেন উপদেশ দিলে সে আরও খারাপ হয়ে যাবে বা সম্পর্ক নষ্ট হবে, তবে নীরব থাকা এবং তার জন্য দোয়া করা উত্তম। তবে যদি উপদেশ দেওয়া ফরজ পর্যায়ের হয় (যেমন: প্রকাশ্য পাপ), তাহলে শর্তসাপেক্ষে উপদেশ দেওয়া জরুরি।

ফতোয়া

হানাফি মাযহাবের দৃষ্টিতে: পর্দা লঙ্ঘনকারীকে এমন পোশাক পরিয়ে দেওয়া যা তার পাপের কারণ হবে, তা পাপের সহযোগিতা হিসেবে গণ্য হবে। তবে যদি আপনি তাকে উপদেশ দেন এবং সে তা না মানে, তাহলে আপনার পাপ হবে না। পাপ তার নিজের কর্মের জন্য হবে।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে, পাপের কাজে সহযোগিতা করা হারাম। তাই এমন পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

সারসংক্ষেপ

| অবস্থা | পাপ হবে? | |--------|----------| | জানা সত্ত্বেও শাড়ি পরিয়ে দেওয়া (যা পর্দা লঙ্ঘনের কারণ) | হ্যাঁ, পাপ হবে | | শাড়ি পরিয়ে হিজাবের উপদেশ দেওয়া, কিন্তু সে না মানা | না, আপনার পাপ হবে না | | শাড়ি পরানো যা পর্দার শর্ত পূরণ করে | না, পাপ হবে না |

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.