উমরাহতে স্বামী স্ত্রীর মিলন সম্পর্কে
Hajj and Umrah · Hanafi
Question
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। উমরাহর ইহরাম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ। কিন্তু ইহরাম খোলার (চুল কাটার) পর উমরাহর সমস্ত নিষিদ্ধ কাজ হালাল হয়ে যায়।
উত্তর:
জ্বী, ইহরাম খোলার (চুল কাটা ও গোসল করার) পর থেকে উমরাহর সাথে সম্পর্কিত সমস্ত নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যায়। সুতরাং, মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে এবং মদিনায় অবস্থানকালীন সময়ে স্ত্রী সহবাস করা সম্পূর্ণ জায়েজ (বৈধ)।
দলিল ও ব্যাখ্যা:
১. ইহরামের নিষেধাজ্ঞা কতটুকু? ইহরামের নিষেধাজ্ঞাগুলো (যেমন: সহবাস, সুগন্ধি ব্যবহার, চুল-নখ কাটা, শিকার করা ইত্যাদি) শুধুমাত্র ইহরাম অবস্থার জন্যই প্রযোজ্য। ইহরাম খুলে ফেলার সাথে সাথেই এই সমস্ত নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যায়।
২. উমরাহর সমাপ্তি: উমরাহর মূল কাজ হলো: ইহরাম বাঁধা, তাওয়াফ (৭ চক্কর), সাঈ (সাফা-মারওয়ায় ৭ চক্কর) এবং চুল কাটা বা ছোট করা। এই চারটি কাজ সম্পন্ন করার পরই উমরাহ সম্পন্ন হয় এবং ইহরামের বন্ধন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যায়। এরপর আর কোনো বিধিনিষেধ থাকে না।
৩. কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা:
- কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: "অতঃপর যখন তোমরা ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাও, তখন তোমরা যা ইচ্ছা করতে পারো।" (সূরা আল-মায়িদা: ২) - এই আয়াতের সাধারণ নির্দেশনা অনুযায়ী ইহরাম খোলার পর সবকিছু হালাল হয়ে যায়।
- হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উমরাহ সম্পন্ন করার পর চুল কাটলেন এবং সাথে সাথে ইহরামের সব নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যায়। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
৪. হানাফি ফিকহের নির্দেশনা: হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-হিদায়াহ ও রদ্দুল মুহতার-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, উমরাহর তাওয়াফ, সাঈ এবং হালক (চুল কাটা) সম্পন্ন করার পর ইহরামের সমস্ত নিষিদ্ধ কাজ হালাল হয়ে যায়। (রদ্দুল মুহতার, ২য় খণ্ড, কিতাবুল হজ্জ)
সারকথা: আপনি যখন চুল কেটে ইহরাম খুলে ফেলবেন, তখন আপনার উমরাহ সম্পন্ন হয়ে যাবে। এরপর মক্কায় বা মদিনায় যতদিনই থাকুন না কেন, স্ত্রী সহবাস করা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং বৈধ। এতে কোনো গুনাহ বা কাফফারা নেই। তবে মনে রাখবেন, ইহরাম অবস্থায় (চুল কাটার আগ পর্যন্ত) সহবাস করলে উমরাহ নষ্ট হয়ে যায় এবং কাফফারা ওয়াজিব হয়।
আল্লাহ তাআলা আপনার উমরাহ কবুল করুন এবং সহজ করুন। আমিন।