বিতরের সালাতে কুনুত পড়তে ভুলে গেলে করণীয়

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 3634
Questioner: Md Riad Hossain
Question Asked: 07 Aug 2026, 11:01 PM
Reviewed & Published: 07 Aug 2026, 11:13 PM
Views: 11
Tokens: 2,482
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিতর নামাজে দোয়ায়ে কুনুত না পড়ে ভুলে রুকুতে যেতে লাগলে এবং পুরোপুরি রুকুতে না গিয়ে দারিয়ে গেলে এবং কুনুত না পরেই আবার রুকুতে গেলে এবং শেষে সাহু সিজদাহ দিলে নামাজ হবে ?

Answer

বিতর নামাজে কুনুত ভুলে যাওয়া সংক্রান্ত মাসআলা

প্রশ্নের উত্তর

আপনার প্রশ্নটি হলো: বিতর নামাজে দোয়া কুনুত না পড়ে ভুলে রুকুতে যেতে শুরু করলে, কিন্তু পুরোপুরি রুকুতে না গিয়ে আবার দাঁড়িয়ে গেলে, তারপর কুনুত পড়ে আবার রুকুতে গেলে এবং শেষে সাহু সিজদা দিলে নামাজ শুদ্ধ হবে কি না?

উত্তর: হ্যাঁ, এইভাবে নামাজ শুদ্ধ হবে। তবে কিছু শর্ত ও বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে, যা নিচে উল্লেখ করা হলো:

বিস্তারিত মাসআলা

১. কুনুতের অবস্থান

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা ও সূরা মিলিয়ে পড়ার পর তাকবির বলে হাত তুলে দোয়া কুনুত পড়তে হয়। এরপর রুকুতে যেতে হয়।

২. ভুলে রুকুতে যাওয়ার পর দাঁড়িয়ে গেলে

যদি কেউ ভুলে কুনুত না পড়ে রুকুতে যেতে শুরু করে, কিন্তু পুরোপুরি রুকুতে না গিয়ে (অর্থাৎ রুকুর সীমায় পৌঁছানোর আগেই) মনে পড়ে এবং দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে তাকে দাঁড়িয়ে থেকেই কুনুত পড়তে হবে। কারণ রুকুর সীমায় পৌঁছানোর আগে ফিরে আসা বৈধ।

রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) -এ উল্লেখ আছে:

"যদি কুনুতের আগে ভুলে রুকুতে চলে যায়, তবে রুকুতে গিয়ে মনে পড়লে সে রুকু থেকে ফিরে এসে কুনুত পড়বে। আর যদি রুকুতে যাওয়ার সময় (পূর্ণ রুকুর আগে) মনে পড়ে, তবে দাঁড়িয়ে থেকেই কুনুত পড়বে।" (রদ্দুল মুহতার, ২/১৬)

৩. পুরোপুরি রুকুতে চলে গেলে

যদি কেউ পুরোপুরি রুকুতে চলে যায় (অর্থাৎ রুকুর সীমায় পৌঁছে যায়) এবং সেখানে গিয়ে মনে পড়ে, তাহলে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী সে রুকু থেকে ফিরে এসে কুনুত পড়বে।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি) -তে আছে:

"যদি ইমাম কুনুত ভুলে যায় এবং রুকুতে চলে যায়, তাহলে সে রুকু থেকে ফিরে এসে কুনুত পড়বে এবং পুনরায় রুকুতে যাবে।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১১২)

৪. সাহু সিজদার প্রয়োজনীয়তা

যেহেতু কুনুত ভুলে যাওয়ার কারণে নামাজে একটি ওয়াজিব (কুনুত) আদায়ে বিলম্ব হয়েছে এবং তাতে নামাজের ক্রম (তারতীব) পরিবর্তন হয়েছে, তাই শেষ বৈঠকে সাহু সিজদা দেওয়া ওয়াজিব হবে। সাহু সিজদা দিলে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে।

ইমদাদুল ফাতাওয়া -তে আছে:

"কুনুত ভুলে যাওয়ার কারণে যদি রুকু থেকে ফিরে এসে কুনুত পড়া হয়, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৪৫)

৫. আপনার বর্ণিত পরিস্থিতির বিশ্লেষণ

আপনি যা বর্ণনা করেছেন:

  • কুনুত না পড়ে ভুলে রুকুতে যেতে লাগলেন
  • পুরোপুরি রুকুতে না গিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন
  • তারপর কুনুত পড়লেন
  • আবার রুকুতে গেলেন
  • শেষে সাহু সিজদা দিলেন

এই ক্ষেত্রে আপনার নামাজ সম্পূর্ণ শুদ্ধ হয়েছে। কারণ:

  1. আপনি রুকুর সীমায় পৌঁছানোর আগেই ফিরে এসেছেন, তাই কুনুত পড়া বৈধ হয়েছে।
  2. কুনুত পড়ার পর পুনরায় রুকুতে যাওয়া সঠিক।
  3. শেষে সাহু সিজদা দেওয়ার মাধ্যমে ওয়াজিব তারতীবের ত্রুটি পূরণ হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • সাহু সিজদা হলো নামাজের শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাত পড়ার পর ডান ও বামে সালাম ফেরানোর আগে দুটি সিজদা করা। এরপর আবার আত্তাহিয়্যাত, দরুদ, দোয়া পড়ে সালাম ফেরানো হয়।
  • যদি কেউ পুরোপুরি রুকুতে চলে যাওয়ার পর মনে পড়ে, তাহলেও রুকু থেকে ফিরে এসে কুনুত পড়তে হবে এবং সাহু সিজদা দিতে হবে।
  • তবে যদি কেউ রুকুতে গিয়ে মনে করে যে, রুকু থেকে ফিরে গেলে নামাজ নষ্ট হবে (ভুল ধারণাবশত) এবং রুকুতে থেকেই যায়, তাহলে কুনুত ছুটে যাবে এবং সাহু সিজদা দিলে নামাজ শুদ্ধ হবে।

উপসংহার

আপনার বর্ণিত পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ সঠিক এবং শুদ্ধ। নামাজের কোনো ক্ষতি হয়নি। ইনশাআল্লাহ আপনার নামাজ কবুল হবে।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.