অমুসলিমদের সাথে সুদের আদান -প্রদান করা কী জায়েজ?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3624
Questioner: Nipa
Question Asked: 07 Aug 2026, 08:50 PM
Reviewed & Published: 07 Aug 2026, 08:54 PM
Views: 12
Tokens: 2,643
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি যতদূর জানি, সুদের আদান -প্রদান করা হারাম। কিন্তু একজনের থেকে শুনেছি, অমুসলিমদের সাথে সুদের আদান -প্রদান করা জায়েজ। এটা কতটুকু সত্য?

Answer

অমুসলিমদের সাথে সুদের আদান-প্রদান প্রসঙ্গে

উত্তর

আপনি যে কথা শুনেছেন তা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। ইসলামী শরীয়তে অমুসলিমদের সাথেও সুদের আদান-প্রদান করা হারাম। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ফিকহের বিধান রয়েছে যা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

কুরআন ও হাদীসের দলীল

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেন:

"অতঃপর তোমরা যদি তওবা করো, তবে তোমাদের মূলধন পাবে। তোমরা অত্যাচার করবে না এবং তোমাদের উপরও অত্যাচার করা হবে না।" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৯)

এই আয়াতে সুদ হারাম হওয়ার বিধানটি সাধারণভাবে ঘোষণা করা হয়েছে—মুসলিম ও অমুসলিম সবার সাথে।

হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

"সুদের আদান-প্রদানকারী, এর গ্রহীতা, এর লেখক এবং এর সাক্ষী—সবাই লানতপ্রাপ্ত।" (সহীহ মুসলিম: ১৫৯৮)

হানাফী ফিকহের বিধান

হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে:

১. দারুল হারব (যুদ্ধরত দেশ) সম্পর্কিত বিধান: ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, দারুল হারবের (যে দেশে মুসলিমরা নিরাপদ নয়) অমুসলিমদের সাথে সুদের লেনদেন জায়েয আছে, তবে শর্ত হলো—সে দেশে মুসলিমরা নিরাপত্তার সাথে বসবাস করতে পারে না এবং সেখানে ইসলামী বিধান প্রয়োগ হয় না। কিন্তু ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, দারুল হারবেও অমুসলিমদের সাথে সুদের লেনদেন জায়েয নয়। (বাদায়েউস সানায়ে, ৭ম খণ্ড, ৪৪৫ পৃষ্ঠা)

২. দারুল ইসলাম (ইসলামী রাষ্ট্র) সম্পর্কিত বিধান: দারুল ইসলামে তথা ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম বা অমুসলিম—সবার সাথে সুদের লেনদেন সম্পূর্ণ হারাম। (ফাতাওয়া আলমগীরী, ৩য় খণ্ড, ২১৪ পৃষ্ঠা)

৩. মুস্তামান (নিরাপত্তাপ্রাপ্ত অমুসলিম) সম্পর্কিত বিধান: যে অমুসলিম মুসলিম রাষ্ট্রে নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করে (যেমন: জিম্মি বা মুস্তামান), তার সাথে সুদের লেনদেন করা সম্পূর্ণ হারাম। (রদ্দুল মুহতার, ৪র্থ খণ্ড, ১৮৭ পৃষ্ঠা)

আধুনিক প্রেক্ষাপটে বিধান

আধুনিক যুগে মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) সহ প্রায় সকল সমকালীন আলেমগণ এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, বর্তমান বিশ্বে দারুল হারবের সেই পুরনো শর্ত প্রযোজ্য নয়। কারণ:

১. বর্তমানে মুসলিম দেশগুলোতে অমুসলিমরা নিরাপদে বসবাস করে ২. আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে সবাই নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ৩. সুদ অর্থনীতির একটি বৈশ্বিক সমস্যা যা সবার জন্য ক্ষতিকর

মুফতী তাকী উসমানী (দা.বা.) বলেন: "বর্তমান যুগে অমুসলিমদের সাথে সুদের লেনদেন জায়েয হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ বর্তমানে দারুল হারবের সেই শর্তগুলো আর বিদ্যমান নেই।" (ফিকহুল বুয়ূ, ১ম খণ্ড, ২২৫ পৃষ্ঠা)

সতর্কতা

যে ব্যক্তি আপনাকে বলেছে অমুসলিমদের সাথে সুদের আদান-প্রদান জায়েয, সে সম্ভবত দারুল হারব সম্পর্কিত ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর একটি মতের কথা উল্লেখ করেছে, কিন্তু তার শর্তগুলো বুঝতে পারেনি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই মতটি প্রযোজ্য নয়।

সুতরাং, অমুসলিমদের সাথেও সুদের আদান-প্রদান করা সম্পূর্ণ হারাম এবং কবীরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সুদ থেকে হেফাজত করুন। (আমিন)

সংক্ষিপ্ত উত্তর

অমুসলিমদের সাথে সুদের আদান-প্রদান করা জায়েয—এই কথা সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন। ইসলামী শরীয়তে মুসলিম ও অমুসলিম সবার সাথে সুদের লেনদেন হারাম। হ্যাঁ, ফিকহের কোনো কোনো কিতাবে দারুল হারবের বিশেষ শর্তে ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর একটি মত রয়েছে, কিন্তু বর্তমান বিশ্বে সেই শর্ত প্রযোজ্য নয়। তাই সকলের সাথে সুদের লেনদেন থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.