অযুর সময় দাড়ি খিলাল করা প্রসঙ্গে
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
অযুতে দাড়ি খিলালের বিধান
প্রশ্নের উত্তর
আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: পাতলা দাড়ির ক্ষেত্রে দাড়ির গোড়ায় পানি পৌঁছানোই যথেষ্ট। আলাদাভাবে খিলাল করা জরুরি নয়। তবে সুন্নাহ অনুযায়ী খিলাল করতে চাইলে তা করা যেতে পারে, কিন্তু পাতলা দাড়ির ক্ষেত্রে তা আলাদাভাবে করার প্রয়োজন নেই।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা
১. দাড়ি খিলালের বিধান
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, অযুতে দাড়ি খিলাল করা সুন্নত। রাসূলুল্লাহ (সা.) অযুর সময় দাড়ি খিলাল করতেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُخَلِّلُ لِحْيَتَهُ فِي الْوُضُوءِ "উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) অযুর সময় দাড়ি খিলাল করতেন।" (ইবনে মাজা, হাদিস: ৪৩০; তিরমিজি, হাদিস: ৩১)
২. ঘন দাড়ির ক্ষেত্রে খিলাল
ঘন দাড়ির ক্ষেত্রে, দাড়ির ভেতরের চামড়ায় পানি পৌঁছানোর জন্য খিলাল করা প্রয়োজন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, ঘন দাড়ির ক্ষেত্রে খিলাল করা সুন্নত এবং এর মাধ্যমে দাড়ির গোড়ায় পানি পৌঁছানো ওয়াজিব নয়, বরং বাইরে থেকে পানি পৌঁছালেই অযু শুদ্ধ হবে। তবে খিলাল করা সুন্নত।
৩. পাতলা দাড়ির ক্ষেত্রে বিধান
পাতলা দাড়ির ক্ষেত্রে (যেখানে চামড়া দেখা যায়), দাড়ির গোড়ায় পানি পৌঁছানো ফরজ বা ওয়াজিব। কারণ পাতলা দাড়ির নিচের চামড়া দাড়ির বাইরের অংশ হিসেবে গণ্য। তাই পাতলা দাড়ির ক্ষেত্রে পানি দিয়ে মুখমণ্ডল ধোয়ার সময়ই দাড়ির গোড়ায় পানি পৌঁছে যায় এবং আলাদাভাবে খিলাল করার প্রয়োজন নেই।
রদ্দুল মুহতার (১ম খণ্ড, ২৯৩ পৃষ্ঠা)-এ উল্লেখ আছে:
"وَالْخِلَالُ سُنَّةٌ لِلرَّجُلِ فِي لِحْيَتِهِ الْكَثَّةِ، وَأَمَّا الْخَفِيفَةُ فَيَجِبُ إيصَالُ الْمَاءِ إلَى بَشَرَتِهَا" "ঘন দাড়ির ক্ষেত্রে খিলাল করা পুরুষের জন্য সুন্নত। আর পাতলা দাড়ির ক্ষেত্রে তার নিচের চামড়ায় পানি পৌঁছানো ওয়াজিব (এবং তা পানি ধোয়ার সময়ই পৌঁছে যায়)।"
৪. ইমামদের মতামত
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) -এর মতে, ঘন দাড়ি খিলাল করা সুন্নত। পাতলা দাড়ির ক্ষেত্রে খিলাল করার প্রয়োজন নেই, কারণ পানি ধোয়ার সময়ই গোড়ায় পানি পৌঁছে যায়।
ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) -এর মতে, ঘন দাড়ি খিলাল করা ওয়াজিব (অন্য মতে সুন্নত)।
ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) -এর মতে, ঘন দাড়ির ক্ষেত্রে খিলাল করা সুন্নত, আর পাতলা দাড়ির ক্ষেত্রে খিলাল করা প্রয়োজন নেই।
৫. ফতোয়ায়ে উসমানি ও অন্যান্য কিতাবের উদ্ধৃতি
ফতোয়ায়ে উসমানি (১ম খণ্ড, ৫৪ পৃষ্ঠা)-তে উল্লেখ আছে:
"পাতলা দাড়ি হলে খিলাল করা জরুরি নয়। কারণ পানি দিয়ে মুখ ধোয়ার সময়ই দাড়ির গোড়ায় পানি পৌঁছে যায়। আর ঘন দাড়ি হলে খিলাল করা সুন্নত।"
ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া / আলমগিরি (১ম খণ্ড, ৮ পৃষ্ঠা)-তে উল্লেখ আছে:
"وَأَمَّا تَخْلِيلُ اللِّحْيَةِ فَسُنَّةٌ لِلرَّجُلِ إذَا كَانَتْ كَثَّةً، وَإِنْ كَانَتْ خَفِيفَةً لَا يَحْتَاجُ إلَى التَّخْلِيلِ" "ঘন দাড়ি হলে খিলাল করা পুরুষের জন্য সুন্নত। আর পাতলা দাড়ি হলে খিলালের প্রয়োজন নেই।"
৬. সুন্নাহ হিসেবে আলাদাভাবে খিলাল করা
যদি কেউ সুন্নাহ হিসেবে আলাদাভাবে খিলাল করতে চান, তবে তা করা যেতে পারে। তবে পাতলা দাড়ির ক্ষেত্রে তা আলাদাভাবে করার প্রয়োজন নেই, কারণ পানি ধোয়ার সময়ই দাড়ির গোড়ায় পানি পৌঁছে যায়। খিলাল করা সুন্নত, তাই কেউ যদি সুন্নতের সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে খিলাল করেন, তা বৈধ এবং সওয়াবের কাজ।
সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিধান | |-------|-------| | পাতলা দাড়ি | দাড়ির গোড়ায় পানি পৌঁছানোই যথেষ্ট, আলাদা খিলাল জরুরি নয় | | ঘন দাড়ি | খিলাল করা সুন্নত | | সুন্নাহ হিসেবে খিলাল | পাতলা দাড়ির ক্ষেত্রেও করা যেতে পারে, তবে জরুরি নয় |
উপসংহার
পাতলা দাড়ির ক্ষেত্রে অযুতে দাড়ির গোড়ায় পানি পৌঁছানোই যথেষ্ট। আলাদাভাবে খিলাল করা জরুরি নয়। তবে সুন্নতের সওয়াব লাভের জন্য কেউ খিলাল করতে চাইলে তা করতে পারেন, এতে কোনো অসুবিধা নেই। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
দলিল: রদ্দুল মুহতার (১/২৯৩), ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (১/৮), ফতোয়ায়ে উসমানি (১/৫৪), বাহিশতি জেওর (১ম খণ্ড, অযু অধ্যায়)