বাচ্চার সাথে করা অন্যায় প্রসঙ্গে
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আল্লাহ কি মাফ করবেন আমাকে? ঠিক কি করলে আমি এই ভয়ানক গুনাহগুলো থেকে মাফ পাইতে পারি ও প্রায়শ্চিত্ত করতে পারি?
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নকারিণীর জন্য আমার হৃদয়ের গভীর থেকে সহমর্মিতা ও দোয়া রইল। আপনার অনুশোচনা ও তওবার আগ্রহই আপনার ঈমানের প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ "বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আয-যুমার: ৫৩)
তওবার শর্তসমূহ
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতার-এ তওবার শর্ত উল্লেখ করেছেন:
১. গুনাহ থেকে বিরত থাকা - সম্পূর্ণরূপে এই আচরণ বন্ধ করা ২. অনুশোচনা করা - কৃতকর্মের জন্য অন্তরে অনুতপ্ত হওয়া ৩. দৃঢ় সংকল্প - ভবিষ্যতে আর এই গুনাহ না করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করা ৪. হক আদায় করা - যদি কারো হক নষ্ট হয়ে থাকে, তা ফিরিয়ে দেওয়া
সন্তানের প্রতি অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত
আপনার মেয়ের প্রতি যে অন্যায় করেছেন, তার জন্য:
১. ক্ষমা প্রার্থনা করুন - আপনার মেয়ের কাছে ক্ষমা চান। যদিও সে ছোট, তবে তার বয়স অনুযায়ী বুঝিয়ে বলুন যে আপনি ভুল করেছেন এবং ক্ষমা চাইছেন।
২. ভালোবাসা ও দোয়া - তার জন্য বেশি বেশি দোয়া করুন এবং ভালোবাসা দিয়ে তার ক্ষত পূরণের চেষ্টা করুন।
৩. সদকা - ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, যেসব গুনাহের কাফফারা নির্দিষ্ট নেই, সেখানে সদকা করা এবং নফল ইবাদত করা উপকারী।
৪. অতিরিক্ত নফল ইবাদত - বেশি বেশি নফল নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত করুন।
রাগ নিয়ন্ত্রণের উপায়
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ "প্রকৃত শক্তিশালী那人 কুস্তি জিতে যে ব্যক্তি নয়, বরং সেই ব্যক্তি যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।" (সহীহ বুখারী: ৬১১৪)
রাগ নিয়ন্ত্রণে কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ:
- রাগ উঠলে "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন
- অবস্থান পরিবর্তন করুন (দাঁড়িয়ে থাকলে বসে পড়ুন)
- অজু করুন
- চুপ থাকুন
আশার বাণী
আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত দয়ালু। আপনার আন্তরিক তওবা ও সংস্কারের প্রচেষ্টা অবশ্যই কবুল হবে। তবে মনে রাখবেন, তওবা কবুল হওয়ার জন্য শর্ত হলো গুনাহ ছেড়ে দেওয়া। যদি আবার ভুল হয়ে যায়, আবার তওবা করুন। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَىٰ مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ "আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে বা নিজেদের উপর জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া কে গুনাহ মাফ করবে? এবং তারা জেনে-শুনে নিজেদের কৃতকর্মে অটল থাকে না।" (সূরা আলে ইমরান: ১৩৫)
দোয়া
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهَا ذَنْبَهَا وَطَهِّرْ قَلْبَهَا وَثَبِّتْهَا عَلَى الطَّاعَةِ
"হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, তার অন্তরকে পবিত্র করুন এবং আনুগত্যের উপর তাকে প্রতিষ্ঠিত রাখুন।"
আমিন।