তাফসীর পড়বো,সেক্ষেত্রে কোন তাফসীরের কিতাব থেকে পড়া শুরু করবো?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 3540
Questioner: Mst Jannatul Ferdous Orny
Question Asked: 05 Aug 2026, 09:58 PM
Reviewed & Published: 05 Aug 2026, 10:02 PM
Views: 10
Tokens: 2,780
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস্সালামু-আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহু।

তাফসীর পড়তে চাচ্ছি। এই প্রথম পড়বো ইং শা আল্লহ।
এখন তাওজিহুল কুরআন এটা দিয়ে শুরু করবো।এখন কয়টা সূরা কিভাবে পড়লে তাফসীর টা আমি একদম মন থেকে উপলব্ধি করতে পারবো??? আর কিভাবে পড়লে জীবনে প্রতিফলিত করতে পারবো?? কোন টাইম এ কতোটুকু পড়লে ভালো হবে???

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। তাফসীর পড়ার আগ্রহ দেখে খুবই ভালো লাগলো। মহান আল্লাহ তায়ালা আপনার এই ইলমি যাত্রাকে বরকতময় করুন। আমিন।

আপনি তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন দিয়ে শুরু করতে চাচ্ছেন—এটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত এবং প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত। মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি দামাত বারাকাতুহুমের লেখা এই তাফসীরটি বর্তমান যুগের চাহিদা ও সমস্যার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত। এটি সাধারণ পাঠকের জন্য সহজবোধ্য এবং আধুনিক প্রেক্ষাপটে কুরআনের বার্তা উপস্থাপনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ।

তাফসীর কীভাবে পড়লে মন থেকে উপলব্ধি করা যাবে এবং জীবনে প্রতিফলিত করা যাবে:

১. নিয়ত সংশোধন: প্রথমেই নিয়ত করুন—আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, আমল শুদ্ধ করা এবং জীবনকে কুরআনমুখী করার জন্য পড়ছি। নিয়তের বিশুদ্ধতা ইলম অর্জনের মূল চাবিকাঠি।

২. ধীরে ধীরে ও মনোযোগ সহকারে পড়া: তাফসীর পড়ার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। প্রতিটি আয়াতের ব্যাখ্যা ধীরে ধীরে, মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। আয়াতটি প্রথমে পড়ুন, তারপর তার তাফসীর পড়ুন এবং চিন্তা করুন—এই আয়াতের নির্দেশ আমার জীবনের কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?

৩. পরিমাণ নির্ধারণ: শুরুতে অল্প পরিমাণে পড়া উত্তম। যেমন: প্রতিদিন ১ থেকে ২ পৃষ্ঠা বা একটি ছোট সূরা (যেমন: সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস, সূরা আসর) সম্পূর্ণ পড়া। নিয়মিতভাবে অল্প পড়া, মাঝে মাঝে অনেক পড়ার চেয়ে অনেক বেশি ফলপ্রসূ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "আল্লাহর নিকট সেই আমলই সবচেয়ে প্রিয়, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।" (সহিহ বুখারী: ৬৪৬৪)

৪. সবচেয়ে উত্তম সময়: ফজরের পর অথবা এশার পর তাফসীর পড়া উত্তম। কারণ এই সময়গুলোতে মন শান্ত থাকে এবং অন্য কাজের চাপ কম থাকে। তবে আপনার জন্য যে সময়টি সবচেয়ে আরামদায়ক এবং মনোযোগী হতে পারেন, সেই সময়টি বেছে নিন। নিয়মিততা বজায় রাখাই মূল বিষয়।

৫. আমলের নিয়ত: প্রতিটি আয়াতের তাফসীর পড়ার পর নিজেকে প্রশ্ন করুন—এই আয়াতের আলোকে আমার জীবনে কী পরিবর্তন আনা উচিত? একটি ছোট আমলও যদি জীবনে প্রয়োগ করার সংকল্প করেন, তবে তাফসীর আপনার জীবনে প্রতিফলিত হতে শুরু করবে। যেমন: সূরা ফাতিহা পড়ে বুঝলাম "ইয়্যাকা নাবুদু" (আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি) এর অর্থ—জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহর নির্দেশকে প্রাধান্য দেওয়া। এই শিক্ষাটুকুই যদি কাজে লাগান, তবে সার্থকতা এসে যাবে।

৬. দুআ করা: তাফসীর পড়া শুরু করার আগে দুআ করুন—"ইয়া আল্লাহ! আমাকে কুরআন বুঝার তাওফিক দিন এবং আমার জীবনে তা প্রয়োগ করার শক্তি দিন।"

কোন সূরা দিয়ে শুরু করবেন:

তাওযীহুল কুরআনে সূরাগুলো ক্রমানুসারে সাজানো। আপনি শুরু থেকে পড়তে পারেন। তবে প্রথমবার তাফসীর পড়ার অভিজ্ঞতার জন্য সূরা ফাতিহা দিয়ে শুরু করা অত্যন্ত উত্তম। কারণ এটি প্রতিটি নামাজে আমরা পড়ি, অথচ এর গভীর অর্থ অনেকেই জানি না। সূরা ফাতিহার তাফসীর পড়লে নামাজের অর্থ উপলব্ধি করতে পারবেন, যা আপনার ইবাদতে খুশু-খুযু আনার সহায়ক হবে। এরপর সূরা বাকারার শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে পড়তে পারেন।

মনে রাখবেন: তাফসীর পড়া একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রথম দিনেই সবকিছু মনে রাখা বা পুরোপুরি উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। ধৈর্য ধরে নিয়মিত পড়তে থাকুন। আল্লাহ তায়ালা ধীরে ধীরে আপনার অন্তর খুলে দেবেন। কুরআন অধ্যায়নের জন্য আল্লাহ তায়ালা বিশেষ নূর (আলো) দান করেন, ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালা আপনার এই ইলমি সফরকে কবুল করুন এবং তাফসীরের জ্ঞানকে আপনার জীবনে বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.