বিতর সালাত কি তাহাজ্জুদের জন্য রেখে দেওয়া জরুরী?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
১: তাহাজ্জুদের জন্য বিতর সালাত রেখে দেওয়া জরুরী?
২: বিতর সালাত মিস হয়ে গেলে এবং সকালেও কোনো কারনে পড়ার সুযোগ না হলে এটা পরে কিভাবে আদায় করতে হবে?
৩: নফল সালাতে সেজদায় কিছু চাওয়া / দোয়া করা জায়েজ আছে? উত্তম নিয়ম কি?
৪: ফজরের সময় ঘনিয়ে আসলে বিতরের সালাত ১ রাকাত আদায় করা যাবে?
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
১. তাহাজ্জুদের জন্য বিতর সালাত রেখে দেওয়া জরুরী কি?
বিতর সালাত ওয়াজিব। তবে তাহাজ্জুদের জন্য বিতর রেখে দেওয়া জরুরী নয়; বরং এটাই উত্তম যে, ইশার সালাতের পরপরই বিতর আদায় করে নেওয়া। কারণ, রাসূলুল্লাহ ﷺ সাধারণত তাহাজ্জুদের পর বিতর আদায় করতেন, কিন্তু উম্মতের জন্য সহজ করার জন্য তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ভয় করে যে, শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠতে পারবে না, সে যেন ইশার পরই বিতর আদায় করে নেয়। আর যে ব্যক্তি নিশ্চিত যে, শেষ রাতে উঠতে পারবে, সে যেন শেষ রাতে বিতর আদায় করে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৭৫৫)
তাই তাহাজ্জুদের জন্য বিতর রেখে দেওয়া জরুরী নয়। যদি কেউ তাহাজ্জুদের জন্য বিতর রেখে দেয়, তবে তা জায়েয আছে, কিন্তু শর্ত হলো—ঘুম থেকে উঠে বিতর আদায় করতেই হবে। যদি উঠতে না পারে, তাহলে ফজরের পর আদায় করবে।
২. বিতর সালাত মিস হয়ে গেলে এবং সকালেও কোনো কারণে পড়ার সুযোগ না হলে পরে কিভাবে আদায় করতে হবে?
বিতর সালাত ওয়াজিব। যদি কোনো কারণে বিতর আদায় করা না হয়, তবে তা কাজা করা জরুরী। বিতরের কাজা সম্পর্কে হানাফী মাযহাবের নিয়ম হলো:
- যদি ফজরের পর মনে পড়ে, তাহলে ফজরের পরেই কাজা আদায় করে নেওয়া যায়। তবে ফরজের পর নফলের সময় না থাকায় (সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত) বিতরের কাজা ফজরের পর আদায় করা মাকরূহ। তাই সূর্যোদয়ের পর (চাশতের সময়) আদায় করা উত্তম।
- যদি সকালেও সুযোগ না হয়, তাহলে যেকোনো সময় (মাকরূহ সময় ব্যতীত) বিতরের কাজা আদায় করা যাবে। বিতরের কাজা জোড়ায় জোড়ায় (২ রাকাত করে) আদায় করবে এবং শেষে ১ রাকাত বিতর আদায় করবে। অর্থাৎ মোট ৩ রাকাতই আদায় করতে হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১১২; রদ্দুল মুহতার, ২/১২)
৩. নফল সালাতে সেজদায় কিছু চাওয়া / দোয়া করা জায়েজ আছে? উত্তম নিয়ম কি?
নফল সালাতে সেজদায় আরবীতে কুরআন হাদীসে বর্নীত দোয়া করা জায়েয আছে। বরং সেজদায় দোয়া করা অত্যন্ত ফযীলতের কাজ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সেজদার সময়। তাই তোমরা সেজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৪৮২)
তবে সেজদায় দোয়া করার নিয়ম হলো—কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দোয়াগুলো পড়া। যেমন: "سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى" এর পর নিজের ভাষায় বা আরবিতে দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ কামনা করা যাবে। তবে ফরজ সালাতে সেজদায় দুনিয়ার দোয়া করা মাকরূহ (তাহরীমী); বরং ফরজ সালাতে শুধু কুরআন-হাদীসে বর্ণিত দোয়াগুলো পড়া উত্তম। আর নফল সালাতে সেজদায় দুনিয়া-আখিরাতের যেকোনো দোয়া করা জায়েয আছে। (রদ্দুল মুহতার, ২/২৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১০৮)
৪. ফজরের সময় ঘনিয়ে আসলে বিতরের সালাত ১ রাকাত আদায় করা যাবে?
ফজরের সময় ঘনিয়ে এলে বিতর ১ রাকাত আদায় করা জায়েয আছে। কারণ, বিতর ১, ৩, ৫, ৭ রাকাত যেকোনো সংখ্যায় আদায় করা যায়। তবে উত্তম হলো ৩ রাকাত। কিন্তু সময় সংকীর্ণ হলে ১ রাকাত বিতর আদায় করা জায়েয। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "বিতর হলো ১ রাকাত, শেষ রাতে।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৭৫২)
তবে ফজরের সময় ঘনিয়ে এলে ১ রাকাত বিতর আদায় করা যাবে, কিন্তু ফজরের ফরজ সালাতের জামাত শুরু হয়ে গেলে সেটা ছেড়ে বিতর আদায় করা যাবে না। ফজরের জামাত শুরু হয়ে গেলে জামাতে শরিক হবে এবং পরে বিতরের কাজা আদায় করবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১১২)
রেফারেন্সসমূহ:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ২/১২, ২/২৪
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১০৮, ১/১১২
- সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৪৮২, ৭৫২, ৭৫৫
- ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৮৪