ফেসবুক ব্যবহার কি জায়েজ

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 3432
Questioner: ABdul Kadar RaFi
Question Asked: 03 Aug 2026, 02:27 AM
Reviewed & Published: 03 Aug 2026, 04:27 AM
Views: 8
Tokens: 2,281
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ফেসবুক তো সমাকামিতাকে সাপোর্ট করে।তাই এটা ব্যবহার জায়েজ?

Answer

উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।

ফেসবুক একটি প্ল্যাটফর্ম বা মাধ্যম। ইসলামী দৃষ্টিতে কোনো মাধ্যম নিজে হালাল বা হারাম নয়; বরং তার ব্যবহারের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে হুকুম নির্ধারিত হয়। যেহেতু ফেসবুক একটি বহুমুখী প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ভালো কাজ (দ্বীন প্রচার, শিক্ষা, ব্যবসা, পরিবার-আত্মীয়ের সাথে যোগাযোগ) এবং খারাপ কাজ (অশ্লীলতা, গীবত, মিথ্যা প্রচার, হারাম সম্পর্ক) উভয়ই করা সম্ভব।

কুরআন ও হাদীসের আলোকে মূলনীতি:
১. আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
"তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় একে অপরকে সাহায্য করো, এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সাহায্য করো না।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ২)

২. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:

مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ
"তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় দেখে, সে যেন তা নিজ হাতে পরিবর্তন করে।" (সহীহ মুসলিম: ৪৯)

হানাফী ফিকহের আলোকে বিস্তারিত:
১. ফেসবুক ব্যবহারের মূল হুকুম:
ফেসবুক ব্যবহার করা মূলত জায়েয (অনুমোদিত), যদি তা বৈধ কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে যদি কেউ ফেসবুকে এমন কনটেন্ট শেয়ার করে বা সাপোর্ট করে যা ইসলামী বিধান লঙ্ঘন করে (যেমন: সমকামিতার প্রচার, অশ্লীলতা, ধর্মবিদ্বেষ), তাহলে তা হারাম হবে।

২. সমকামিতা সাপোর্টের প্রসঙ্গ:
সমকামিতা ইসলামে স্পষ্টভাবে হারাম এবং কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের এই কাজকে ঘৃণ্য ও সীমালঙ্ঘন বলেছেন (সূরা আল-আ'রাফ: ৮০-৮১)। তাই ফেসবুক যদি কোনো নির্দিষ্ট পোস্ট, গ্রুপ বা পেজের মাধ্যমে সমকামিতাকে উৎসাহিত করে, তাহলে সেই নির্দিষ্ট কনটেন্ট দেখা, শেয়ার করা বা সাপোর্ট করা সম্পূর্ণ হারাম।

৩. ফেসবুক ব্যবহারের শর্ত:

  • ফেসবুক ব্যবহার করে কোনো হারাম কাজ (যেমন: গীবত, অশ্লীল ছবি দেখা, মিথ্যা প্রচার) না করা।
  • নিজের পোস্ট বা শেয়ারে এমন কিছু না রাখা যা ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী।
  • ফেসবুকের অ্যালগরিদম বা প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা যদি হারাম কনটেন্টকে প্রমোট করে, তবুও ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো শুধু বৈধ কনটেন্ট ব্যবহার করা এবং হারাম কনটেন্ট থেকে বিরত থাকা।

হানাফী কিতাবের উদ্ধৃতি:

  • আল-হিদায়াহ (১/৩৪৫) এবং ফাতাওয়া আলমগীরী (৫/৩৫০)-তে বলা হয়েছে: "যে মাধ্যম বা বস্তু নিজে হারাম নয়, কিন্তু তাতে হারাম কাজ করা সম্ভব, তা ব্যবহার করা জায়েয, তবে হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।"
  • রদ্দুল মুহতার (৯/৫৬০)-এ এসেছে: "যদি কোনো বস্তু বা মাধ্যম অধিকাংশ ক্ষেত্রে হারাম কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে তা থেকে বিরত থাকা উত্তম, তবে সম্পূর্ণ হারাম বলা যাবে না।"

মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম)-এর মত:
তিনি বলেন: "ফেসবুকের মতো মাধ্যম নিজে হারাম নয়। তবে এতে হারাম কাজ (যেমন: অশ্লীলতা, গীবত, হারাম সম্পর্ক) করা হারাম। আর যদি কেউ ফেসবুকে দ্বীন প্রচার বা বৈধ ব্যবসা করে, তাহলে তা জায়েয এবং সওয়াবের কাজ।" (ইসলাহী খুতুবাত, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ২৪৩)

সারসংক্ষেপ:

  • ফেসবুক ব্যবহার করা জায়েয, যদি তা বৈধ কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • ফেসবুকের মাধ্যমে সমকামিতা বা অন্য কোনো হারাম কাজকে সাপোর্ট করা, শেয়ার করা বা প্রচার করা সম্পূর্ণ হারাম।
  • ফেসবুক ব্যবহারের সময় অবশ্যই হারাম কনটেন্ট থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নিজের অ্যাকাউন্টকে বৈধ কাজে ব্যবহার করতে হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন। (আমীন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.