ফেসবুক ব্যবহার কি জায়েজ
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।
ফেসবুক একটি প্ল্যাটফর্ম বা মাধ্যম। ইসলামী দৃষ্টিতে কোনো মাধ্যম নিজে হালাল বা হারাম নয়; বরং তার ব্যবহারের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে হুকুম নির্ধারিত হয়। যেহেতু ফেসবুক একটি বহুমুখী প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ভালো কাজ (দ্বীন প্রচার, শিক্ষা, ব্যবসা, পরিবার-আত্মীয়ের সাথে যোগাযোগ) এবং খারাপ কাজ (অশ্লীলতা, গীবত, মিথ্যা প্রচার, হারাম সম্পর্ক) উভয়ই করা সম্ভব।
কুরআন ও হাদীসের আলোকে মূলনীতি:
১. আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
"তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় একে অপরকে সাহায্য করো, এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সাহায্য করো না।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ২)
২. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ
"তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় দেখে, সে যেন তা নিজ হাতে পরিবর্তন করে।" (সহীহ মুসলিম: ৪৯)
হানাফী ফিকহের আলোকে বিস্তারিত:
১. ফেসবুক ব্যবহারের মূল হুকুম:
ফেসবুক ব্যবহার করা মূলত জায়েয (অনুমোদিত), যদি তা বৈধ কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে যদি কেউ ফেসবুকে এমন কনটেন্ট শেয়ার করে বা সাপোর্ট করে যা ইসলামী বিধান লঙ্ঘন করে (যেমন: সমকামিতার প্রচার, অশ্লীলতা, ধর্মবিদ্বেষ), তাহলে তা হারাম হবে।
২. সমকামিতা সাপোর্টের প্রসঙ্গ:
সমকামিতা ইসলামে স্পষ্টভাবে হারাম এবং কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের এই কাজকে ঘৃণ্য ও সীমালঙ্ঘন বলেছেন (সূরা আল-আ'রাফ: ৮০-৮১)। তাই ফেসবুক যদি কোনো নির্দিষ্ট পোস্ট, গ্রুপ বা পেজের মাধ্যমে সমকামিতাকে উৎসাহিত করে, তাহলে সেই নির্দিষ্ট কনটেন্ট দেখা, শেয়ার করা বা সাপোর্ট করা সম্পূর্ণ হারাম।
৩. ফেসবুক ব্যবহারের শর্ত:
- ফেসবুক ব্যবহার করে কোনো হারাম কাজ (যেমন: গীবত, অশ্লীল ছবি দেখা, মিথ্যা প্রচার) না করা।
- নিজের পোস্ট বা শেয়ারে এমন কিছু না রাখা যা ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী।
- ফেসবুকের অ্যালগরিদম বা প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা যদি হারাম কনটেন্টকে প্রমোট করে, তবুও ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো শুধু বৈধ কনটেন্ট ব্যবহার করা এবং হারাম কনটেন্ট থেকে বিরত থাকা।
হানাফী কিতাবের উদ্ধৃতি:
- আল-হিদায়াহ (১/৩৪৫) এবং ফাতাওয়া আলমগীরী (৫/৩৫০)-তে বলা হয়েছে: "যে মাধ্যম বা বস্তু নিজে হারাম নয়, কিন্তু তাতে হারাম কাজ করা সম্ভব, তা ব্যবহার করা জায়েয, তবে হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।"
- রদ্দুল মুহতার (৯/৫৬০)-এ এসেছে: "যদি কোনো বস্তু বা মাধ্যম অধিকাংশ ক্ষেত্রে হারাম কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে তা থেকে বিরত থাকা উত্তম, তবে সম্পূর্ণ হারাম বলা যাবে না।"
মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম)-এর মত:
তিনি বলেন: "ফেসবুকের মতো মাধ্যম নিজে হারাম নয়। তবে এতে হারাম কাজ (যেমন: অশ্লীলতা, গীবত, হারাম সম্পর্ক) করা হারাম। আর যদি কেউ ফেসবুকে দ্বীন প্রচার বা বৈধ ব্যবসা করে, তাহলে তা জায়েয এবং সওয়াবের কাজ।" (ইসলাহী খুতুবাত, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ২৪৩)
সারসংক্ষেপ:
- ফেসবুক ব্যবহার করা জায়েয, যদি তা বৈধ কাজে ব্যবহৃত হয়।
- ফেসবুকের মাধ্যমে সমকামিতা বা অন্য কোনো হারাম কাজকে সাপোর্ট করা, শেয়ার করা বা প্রচার করা সম্পূর্ণ হারাম।
- ফেসবুক ব্যবহারের সময় অবশ্যই হারাম কনটেন্ট থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নিজের অ্যাকাউন্টকে বৈধ কাজে ব্যবহার করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন। (আমীন)