টাকা কোথাও ইনভেস্টমেন্টে থাকলে যাকাত ও কুরবানী দেওয়া প্রসঙ্গে

Zakat and Charity · Hanafi

Question No: 343
Questioner: Nusrat Jahan
Question Asked: 19 May 2026, 10:03 AM
Reviewed & Published: 19 May 2026, 10:19 AM
Views: 39
Tokens: 5,705
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ডিভোর্সি মহিলা। সম্পদ ৬ লাখ টাকা ইনভেস্টমেন্ট,৬ আনা স্বর্ন,২ ভরি রোপা আছে। হাতে ক্যাশ টাকা নেই। আর ৭০ ভরি রূপা এক্স হাজবেন্ডের এর আমানত আছে। মূল মালিক এক্স।

এর মধ্যে টাকাটা ইনভেস্টে।

৩৩০০০ টাকা প্রফিট আসে। সেখান থেকে ২০,০০০ দিয়ে দেয় যার সাথে সাবলেট থাকে ঐ আত্মীয়াকে। এর বাইরে বাকিটাকা চিকিৎসা ব্যক্তিগত অন্যান্য খরচে চলে যায়।ক্যাশ টাকা জমা থাকে না উনার কাছে ওভাবে।



ইনভেস্টমেন্ট থেকে মাসিক খরচের টাকা আসে। এর মধ্যে বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে গতমাসে টাকা আসেনাই,এই মাসেও আসেনাই। জুনের ১০ তারিখের আগে আসার চান্স নাই।

কুরবানি দিতে হবে কি না?

উনার একটা ডায়মন্ডের নাকফুল আছে। কুরবানী দিতে হলে ওটা সেল করতে হবে

Answer

প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্নে বর্ণিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উক্ত ডিভোর্সি মহিলার নিজস্ব সম্পদ নিম্নরূপ:

  • নগদ বিনিয়োগ: ৬,০০,০০০ টাকা (মূলধন)
  • স্বর্ণ: ৬ আনা = প্রায় ৪.৩৭ গ্রাম
  • রূপা: ২ ভরি = প্রায় ২৩.৩৪ গ্রাম
  • একটি ডায়মন্ডের নাকফুল (মূল্য অজ্ঞাত) (এটার উপর যাকাত আসে না)
  • এছাড়া ৭০ ভরি রূপা এক্স-হাজবেন্ডের আমানত, যা তার নিজস্ব সম্পদ নয়। (এটার কারণে ঐ মহিলার উপর যাকাত আসবে না)

তার কোনো নগদ টাকা নেই। বিনিয়োগ থেকে মাসিক ৩৩,০০০ টাকা প্রফিট আসত, কিন্তু গত দুই মাস বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে প্রফিট আসেনি। আগামী ১০ জুনের আগে আসার সম্ভাবনা নেই। তিনি প্রফিট থেকে ২০,০০০ টাকা একজন আত্মীয়াকে দেন (সম্ভবত ভাড়া) এবং বাকি টাকা চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত খরচে চলে যায়।

কুরবানি ওয়াজিব হবে কি?

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিম্নোক্ত শর্তগুলি পূরণ হতে হবে:

  • মুসলিম, আকল-বালেগ, মুকিম (মুসাফির নয়)।
  • নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া (যাকাতের নেসাবের সমপরিমাণ) – অর্থাৎ ৭.৫ ভরি স্বর্ণ বা ৫২.৫ ভরি রুপার মূল্যের সমতুল্য নগদ বা ব্যবসায়িক পণ্য বা স্বর্ণ-রুপা থাকা।

এই মহিলার নিকট নিজস্ব বিনিয়োগের মূলধন ৬ লাখ টাকা রয়েছে, যা বর্তমান রুপার বাজারমূল্য অনুযায়ী নেসাবের চেয়ে অনেক বেশি। এটি যাকাতযোগ্য সম্পদ (নগদ অর্থের ন্যায়)। তাই তিনি নেসাবের মালিক গণ্য হবেন।

এখন প্রশ্ন হলো, তার নিকট নগদ টাকা না থাকায় এবং প্রফিট আসা বন্ধ থাকায় কুরবানি ওয়াজিব হবে কি না?

হানাফি ফিকহের কিতাবে স্পষ্ট: কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাবের মালিক হওয়াই যথেষ্ট। নগদ টাকা হাতে থাকা জরুরি নয়। সম্পদ যদি বিনিয়োগকৃত বা অন্যকোনো আকারে থাকে, তবুও কুরবানি ওয়াজিব হয়। (রদ্দুল মুহতার, কিতাবুল আদাহি; ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৫৬)

অতএব, উক্ত মহিলার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে।

কুরবানি দেয়ার উপায় কী?

যেহেতু তার নিকট নগদ টাকা নেই এবং বিনিয়োগ থেকে টাকা তুলতে অসুবিধা হতে পারে, তিনি নিম্নোক্ত উপায়ে কুরবানি আদায় করতে পারেন:

১. ডায়মন্ডের নাকফুল বিক্রি করে বা নিজস্ব স্বর্ণ-রুপা (যা নেসাবের অতিরিক্ত) বিক্রি করে কুরবানির পশু ক্রয় করা। ডায়মন্ড নাকফুল নিজের জরুরী প্রয়োজনীয় অলংকার নয়, তাই ওয়াজিব আদায়ের জন্য এটি বিক্রি করা জায়েজ এবং জরুরি।

২. বিনিয়োগ থেকে আংশিক মূলধন উত্তোলন সম্ভব হলে তা দিয়ে কুরবানি করা।

৩. কুরবানির দিন (১০, ১১, ১২ জিলহজ) পর্যন্ত যদি টাকা এলে তাও দিতে পারেন।

৪. কোনো নিকট আত্মীয়ের কাছ থেকে (সুদমুক্ত) ঋণ নিয়েও কুরবানী দিতে পারেন। পরে টাকা আসলে উক্ত ঋণ পরিশোধ করবেন।

গুরুত্বপূর্ণ নোট:

  • হানাফি ফিকহে কুরবানি ওয়াজিব আদায় না করলে গুনাহ হবে এবং কাযা আদায় করতে হবে।

হানাফি কিতাবের দলিল:

  • রদ্দুল মুহতার: “যে ব্যক্তি যাকাতের নেসাব পরিমাণ স্বর্ণ, রুপা বা ব্যবসায়িক পণ্যের মালিক, তার উপর কুরবানি ওয়াজিব।” (খন্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪৫২)
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী): “কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য সম্পদ সহজলভ্য হওয়া জরুরি নয়। বিনিয়োগকৃত সম্পদও নেসাবের অন্তর্ভুক্ত।” (খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৬০)
  • বেহেশতি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী): “যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ আছে, তার কুরবানি ওয়াজিব। নগদ না থাকলে জিনিসপত্র বিক্রি করে দেবে।”

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.