কুফরী কাজের পরও কাউকে মুসলিম বললে কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 3219
Questioner: Ch Rafi
Question Asked: 29 Jul 2026, 06:13 PM
Reviewed & Published: 29 Jul 2026, 06:28 PM
Views: 10
Tokens: 4,060
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি অপারেশন করে লিঙ্গ কর্তন করে নারীর বেশ ধরে, হিন্দু কনের মতো সেজে শাখা সিদুর পরে একটি মন্দিরে বিয়ে করে।
আপাত দৃষ্টিতে প্রকাশ্য কুফরী করেছে।

এই ঘটনা নিয়ে আলাপ চারিতার সময় কেও যদি বলে, "আজকে মন্দিরে একটা বিয়ে হলো দেখলাম, লোকটা আবার মুসলিম।"

এভাবে প্রকাশ্য কুফরের পরেও একজনকে মুসলিম বলায় ওই আলাপচারিতারত ব্যক্তি কি কাফের হয়ে যাবে?

(মুরতাদকে কাফের বললেও কাফের হয়ে যায় বলে জানতাম)

Answer

উত্তর:

প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তি (কামাল হোসেন) প্রকাশ্য কুফরী ও ইসলামী শরী‘আতের পরিপন্থী কাজ করেছেন। তার কাজের কারণে সে মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হিসেবে গণ্য হবে, যদি না সে তওবা করে ইসলামে ফিরে আসে।

এখন মূল প্রশ্ন: উক্ত ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে কেউ যদি বলে, “আজকে মন্দিরে একটা বিয়ে হলো দেখলাম, লোকটা আবার মুসলিম”, তাহলে এই বক্তা কি কাফের হয়ে যাবে?

উত্তর:

না, উপরোক্ত বক্তব্য বলার কারণে বক্তা কাফের হবে না। কারণ:

১. বক্তার নিয়ত ও বিশ্বাস: বক্তা এখানে কামাল হোসেনকে প্রকৃতপক্ষে মুসলিম বলে বিশ্বাস করছে না, বরং তার পূর্বের পরিচয় (যে একসময় মুসলিম ছিল) উল্লেখ করছে। এটি কেবল তথ্য প্রদান, যা কুফরী বিশ্বাসের প্রকাশ নয়।

২. মুরতাদকে ‘মুসলিম’ বলার হুকুম:

  • যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ও জেনে-বুঝে কোনো মুরতাদকে ‘মুসলিম’ বলে এবং তার কুফরী কাজকে বৈধ মনে করে, তাহলে সে নিজেও কাফের হতে পারে। কিন্তু এখানে বক্তা কামালের কুফরী কাজকে বৈধ মনে করছে না, বরং ঘটনা বর্ণনা করছে।
  • হানাফী ফিকহের কিতাবে এসেছে:

    “মুরতাদকে ‘মুসলিম’ বলা কুফরী নয়, যদি তা অজ্ঞতাবশত বা ভুলবশত হয়। তবে যদি কেউ তাকে মুসলিম বলে এবং তার কুফরীকে বৈধ মনে করে, তাহলে সে কাফের হবে।”
    (রদ্দুল মুহতার, ৪/২২৪; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫৬)

৩. প্রকাশ্য কুফরী করলেও ফিকহী নীতি:

  • ইসলামী আইনে, প্রকাশ্য কুফরী করলেই সেই ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুরতাদ হয়ে যায় না, বরং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু অন্যদের জন্য তাকে ‘মুসলিম’ বলা নিষিদ্ধ নয়, যতক্ষণ না তারা তার কুফরীকে সমর্থন করে বা তাকে প্রকৃত মুসলিম মনে করে।
  • ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেন:

    “কোনো ব্যক্তি মুসলিম বলে পরিচিত থাকলে তাকে মুসলিম বলাই উচিত, যতক্ষণ না তার কুফরী সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।”
    (শরহু মা‘আনিল আছার, ৩/২৬৪)

সারকথা:

উক্ত বক্তা কামাল হোসেনকে ‘মুসলিম’ বলার কারণে কাফের হবে না, যদি তার উদ্দেশ্য ঘটনা বর্ণনা করা হয় এবং সে কামালের কুফরী কাজকে বৈধ না মনে করে। তবে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং কারো প্রকাশ্য কুফরী দেখলে তাকে কাফের বলার পরিবর্তে নিজের দ্বীনের ব্যাপারে দৃঢ় থাকা ভালো।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.