নখে আঠা লেগে থাকলে নামাজ‌ হয় কি, বিয়ে পরবর্তী প্রশ্ন

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 3203
Questioner: ত্বলিবাহ
Question Asked: 29 Jul 2026, 07:59 AM
Reviewed & Published: 29 Jul 2026, 09:16 AM
Views: 15
Tokens: 7,370
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১)‌ পায়ের নখে শুকনো আঠা লেগে থাকলে, নামাজ সহিহ হবে কি? রুটি বানানো হয়েছিল ১‌ দিন আগে যোহরের সময়,পরদিন ইশার সময় দেখি পায়ে নখের উপর শুকনো আটা লেগে আছে।
যখন নখ থেকে আঠা সরিয়েছিলাম,তখন মনে হয়েছিল আঠাগুলো হালকা ভাবে নখে লেগে আছে, একেবারে শক্ত ভাবে লেখেছিলনা।

২)‌ একজন মেয়ের বিয়ে হ‌ওয়ার পরে , বাবার বাড়িতে থাকাবস্থায় স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে বিভিন্ন কারনে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
পরে আরেক জায়গায় বিয়ে ঠিক হয়েছে। ঐ পাত্র + পরিবার জানে মেয়ের আগে বিয়ে হয়েছে।

২/১‌ দিন মেয়েটি আগের স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে- এ কথাটা বলেছেন‌ যিনি‌ মেয়ের ২য় বিয়ের ঘটক ছিলেন । ঘটক (মহিলা) উনি মেয়েকে বা পরিবারকে "মেয়ে‌ স্বামীর সাথে কয়দিন ছিল" এতকিছু জিজ্ঞাসা ও করেনী। জিজ্ঞাসা না করার কারন হলো মেয়ে বাপের বাড়িতে থাকাবস্থায় ই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়, স্বামীর বাড়ি যায়নি। সংসার ই মাত্র প্রায় ১ মাসের মতো।
আর মেয়েটা আগের স্বামীর সাথে ৩/৪/৫‌‌ দিন (সঠিক মনে নেই) ছিল।‌

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এখন তার নতুন স্বামী , যদি তাকে জিজ্ঞাসা করে , আগের স্বামীর সাথে কয়দিন ছিল ইত্যাদি, তাহলে মেয়েটার কি বলা উচিত?
* একদিক থেকে মেয়েটার অপ্রত্যাশিতভাবে সংসার ভেঙেছিল। স্বামীর সাথে কয়দিন ছিল এসব আলাদা করে মনে রাখার বিষয় না। তাই সে ও মনে রাখেনি। অন্য দিকে আবার এখন বেশিদিন বললে স্বামীর মন খারাপ হ‌ওয়ার আশন্কা।

Answer

উত্তর

প্রশ্ন ১: পায়ের নখে শুকনো আটা (আঠা) লেগে থাকলে নামাজ সহিহ হবে কি?

উত্তর: ওযুর ফরজ হলো পা ধোয়ার সময় নখসহ পুরো পা এমনভাবে ধোয়া যাতে পানি প্রতিটি অঙ্গে পৌঁছে। যদি নখের ওপর এমন কোনো জিনিস লাগানো থাকে যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে ওযু সহিহ হবে না, ফলে নামাজও সহিহ হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১১)

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, শুকনো আটা নখের ওপর হালকাভাবে ছিল—অর্থাৎ এটি পুরোপুরি শক্ত হয়ে যায়নি এবং সহজেই সরানো গেছে। যদি ওযু করার সময় পানি সেই আটার নিচে পৌঁছে যায় (যেমন আটা পাতলা ছিল বা পানি ভিজিয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল), তাহলে ওযু এবং নামাজ সহিহ হবে। কিন্তু যদি আটা এমন শক্ত হয়ে থাকে যে পানি নখের গোড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে ওই অবস্থায় পড়া নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে।

মাসআলা: সাধারণত রুটির আটা (ময়দা) শুকিয়ে গেলে তা পানি প্রতিরোধক হয় না, বরং পানির সংস্পর্শে দ্রবীভূত হয়ে যায়। তাই এটি বড় বাধা নয়। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপনি যদি নিশ্চিত হন যে ওযু করার সময় পানি নখের গোড়ায় পৌঁছেনি, তাহলে ওই ওযু দ্বারা পড়া নামাজগুলো পুনরায় পড়তে হবে। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১২৭; ফাতাওয়া উসমানি, ১/২৪৫)


প্রশ্ন ২: দ্বিতীয় বিয়ের পর নতুন স্বামী যদি আগের স্বামীর সাথে কতদিন ছিল জিজ্ঞেস করে, তাহলে মেয়েটার কী বলা উচিত?

উত্তর: ইসলামে সত্য বলা ফরজ এবং মিথ্যা বলা হারাম। তবে কারও ব্যক্তিগত অতীতের বিষয় যদি না জিজ্ঞেস করা হয়, তবে তা প্রকাশ করা জরুরি নয়। কিন্তু যদি সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়, তাহলে মিথ্যা বলা জায়েজ নেই। (সূরা আল-আহযাব: ৭০; বুখারি, হাদিস নং ৬০৯৪; মুসলিম, হাদিস নং ২৬০৩)

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, মেয়েটি আগের স্বামীর সাথে মাত্র ৩/৪/৫ দিন ছিল এবং সে সঠিক সংখ্যা মনে রাখে না। এমতাবস্থায় তার করণীয়:

  • যদি স্বামী জিজ্ঞাসা করে: সে সত্য বলতে বাধ্য। তবে সঠিক সংখ্যা মনে না থাকলে বলতে পারে, "ঠিক মনে নেই, খুব অল্প কয়েকদিন ছিলাম।" এটি সত্য হবে এবং মিথ্যা হবে না। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩১৫; রদ্দুল মুহতার, ৩/১১০)

  • অস্পষ্ট কথা বলা (তাওরিয়া): হানাফি ফিকহে অনুমতি আছে যে, যদি সত্য বলার কারণে অনর্থক ঝগড়া বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে এমনভাবে কথা বলা যেতে পারে যাতে শ্রোতা ভিন্ন অর্থ নেয়, কিন্তু বক্তার উদ্দেশ্য সত্য থাকে। যেমন: "কয়েকদিন ছিলাম" (এটি সত্য, কারণ ৩-৫ দিনও 'কয়েক' শব্দের মধ্যে পড়ে)। (শরহু মাআনিল আসার, ৪/২৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫৭)

  • মনে না রাখাকে বলা: যেহেতু তার সঠিক সংখ্যা মনে নেই, তাই সে বলতে পারে, "মনে নেই, খুব অল্প সময় ছিল" — এতে কোনো গোনাহ নেই, বরং তা সততার পরিচায়ক।

সতর্কতা: ‘বেশিদিন বললে স্বামীর মন খারাপ হবে’—এই ভয়ে মেয়েটির উচিত নয় সরাসরি মিথ্যা বলা (যেমন: "আমি আগের স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করিনি")। কারণ এটি কাবিরা গুনাহ। বরং সে অস্পষ্টভাবে বলতে পারে, "আমার আগের সংসার খুবই অল্পদিন ছিল, তার বেশি কিছু মনে নেই।" এটি ইসলামী আদর্শ।

উপসংহার: মেয়েটির জন্য জায়েজ হলো সত্য বলার পদ্ধতি অবলম্বন করা। যদি সঠিক সংখ্যা মনে না থাকে, তবে বলবে "মনে নেই" বা "কয়েক দিন।" যদি স্বামী বারবার চাপ দেয়, তবে তাওরিয়া (অস্পষ্ট কথা) ব্যবহার করা যায়, কিন্তু মিথ্যা বলার অনুমতি নেই।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.