মাগরীবের সালাতের আওয়াল ওয়াক্ত

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 298
Questioner: Saba Islam
Question Asked: 18 May 2026, 07:54 PM
Reviewed & Published: 18 May 2026, 08:06 PM
Views: 33
Tokens: 2,488
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সালাতের আওয়াল ওয়াক্ত সময় কতটুকু। মাগরিবের কতটুকু আওয়াল ওয়াক্ত?

Answer

উত্তর:
সালাতের ‘আওয়াল ওয়াক্ত’ বলতে বোঝায় সেই নামাযের সময়ের প্রথম অংশ যা আদায় করা সর্বোত্তম এবং ফযীলতপূর্ণ। প্রতিটি ফরয সালাতের জন্য আওয়াল ওয়াক্ত নির্ধারিত। মাগরিবের ক্ষেত্রে আওয়াল ওয়াক্ত হলো সূর্যাস্তের পরপরই। হানাফী মাযহাবে মাগরিবের সালাত বিলম্ব না করে দ্রুত আদায় করা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) এবং দেরি করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়)।

মাগরিবের আওয়াল ওয়াক্তের বিস্তারিত:

  • মাগরিবের সময় শুরু হয় সূর্যাস্তের সাথে সাথেই (সূর্যের লালিমা দিগন্তে অদৃশ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত)।
  • আওয়াল ওয়াক্ত হলো এই শুরু অংশ, অর্থাৎ সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই নামায পড়া। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আমার উম্মত সর্বদা কল্যাণের উপর থাকবে যতক্ষণ তারা ইফতারে ত্বরা করবে এবং সেহরি বিলম্বে করবে।” (সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৯৫৭)
  • ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) বলেছেন: “মাগরিবের সময় সংক্ষিপ্ত; সূর্যাস্তের পর যতক্ষণ লালিমা (শাফাক্ব আহমার) বিদ্যমান থাকে। এর প্রথম অংশই আওয়াল ওয়াক্ত।” (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৫৭; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৫৩)

সময়ের পরিমাণ:

মাগরিবের আওয়াল ওয়াক্তের কোনো নির্দিষ্ট মিনিট সংখ্যা নেই, বরং তা সূর্যাস্তের সাথে শুরু হয়ে মাগরিবের পুরো সময়ের প্রথম দিকটুকু। তবে হানাফী ফিকহের কিতাবে উল্লেখ আছে:

  • “মাগরিবের আওয়াল ওয়াক্ত হলো সূর্যাস্তের পর (ফোর‘আ) পরিমাণ সময় – অর্থাৎ এতটুকু যে, সূর্যাস্তের পর নামায পড়ে নেওয়া যায়।” (শরহু মা‘আনিল আছার, ১/১৪৭)
  • অধিকাংশ হানাফী ফকীহ বলেন: “মাগরিবের আওয়াল ওয়াক্ত হলো সূর্যাস্তের পর মাত্র কিছু সময়, যাতে করে ফরয ও সুন্নাত আদায় করা যায়।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২২৪)

সারসংক্ষেপ:

  • প্রত্যেক ফরয সালাতের আওয়াল ওয়াক্ত হলো সেই সালাতের সময়ের প্রথমভাগ।
  • মাগরিবের আওয়াল ওয়াক্ত হলো সূর্যাস্তের পরপরই – বিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব নামায আদায় করা।
  • এই সময়টি খুবই সংক্ষিপ্ত; তাই হাদীসে মাগরিবে ত্বরা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ২৪৬৮)

কিতাবের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (১/৩৫৭)
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (১/৫৩)
  • শরহু মা‘আনিল আছার (১/১৪৭)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২২৪)
  • বাহিশতী জেওর (১/২১৪)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.