“শফিউল বিতর” নামে কোনো সালাত আছে কিনা এবং বিতর নামাযের পর দুই রাক‘আত নফল পড়ার বিধান কী?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
শফিউল বিতর নামে কি কোনো সালাত আছে?
যেটা বিতর নামাজ পড়ার পর পড়া হয়।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নে উল্লিখিত “শফিউল বিতর” (شَفْعُ الْوِتْر) নামে কোনো স্বতন্ত্র সুন্নাত বা নফল সালাত নেই। তবে বিতর সালাতের পর দুই রাক‘আত নফল পড়া একটি জায়েয আমল, যা কিছু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। হানাফী ফিকহের কিতাবসমূহে এটিকে “শাফ‘উল বিতর” (শাফ‘ অর্থ জোড়, বিতর অর্থ বিজোড়) বলা হয়, কিন্তু এটি কোন নির্দিষ্ট সুন্নাত নামায নয়; বরং এটি একটি জায়েয নফল আমল মাত্র।
হাদীসের প্রমাণ:
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন,
“রাসূলুল্লাহ ﷺ বিতরের পর বসে বসে দুই রাক‘আত নামায পড়তেন।”
(সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১২২২; আবু দাউদ, হাদীস: ১৪৩৪)
এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে কেউ বিতরের পর দুই রাক‘আত নফল পড়তে চাইলে তা বসে বসে পড়া উত্তম, যাতে বিতরকে শেষ নামায না বানানোর অনুরূপ না হয়। তবে নিয়মিতভাবে এটিকে আবশ্যকীয় বা সুন্নাত মনে করা মাকরূহ (তাহরীমী নয়)।
হানাফী ফিকহের বিধান:
-
ফাতাওয়া হিন্দিয়ায় (১/১০৯) বলা হয়েছে:
“বিতরের পর দুই রাক‘আত পড়া জায়েয, কিন্তু একে অভ্যাসে পরিণত করা ভাল নয়।” -
রদ্দুল মুহতার (২/৪৭৮) -এ ইবনে আবিদীন রহ. লিখেছেন:
“বিতরের পর দুই রাক‘আত পড়া জায়েয, তবে উত্তম হলো বিতরকেই শেষ নামায বানানো। যদি কেউ পড়ে, তাহলে বসে বসে পড়বে, দাঁড়িয়ে নয়।” -
ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/৩৯২) -তে হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেছেন:
“বিতরের পর দুই রাক‘আত নফল পড়া জায়েয আছে, কিন্তু সুন্নাত নয়। অধিকাংশ উলামা এটিকে মাকরূহ বলেছেন যদি নিয়মিতভাবে আদায় করা হয়।” -
ফাতাওয়া উসমানী (১/২১৪) -তে মুফতী তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম লিখেছেন:
“বিতরের পর দুই রাক‘আত নফল পড়া জায়েয, তবে উত্তম হলো বিতরকেই শেষ করতে হবে। যদি কেউ পড়েই, তাহলে বসে পড়বে।”
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
- “শফিউল বিতর” নামে কোনো স্বতন্ত্র ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নাত সালাত নেই।
- বিতরের পর দুই রাক‘আত নফল পড়া জায়েয, তবে তা নিয়মিত অভ্যাস করা বা সুন্নাত মনে করা মাকরূহ।
- বিতরকেই শেষ নামায বানানোই উত্তম (হাদীসের নির্দেশনা অনুযায়ী: “তোমাদের রাতের শেষ নামায বিতর বানাও” – সহীহ বুখারী, হাদীস: ৯৯৮)।
সুতরাং আপনি যদি বিতরের পর দুই রাক‘আত নফল পড়তে চান, তবে বসে পড়ুন এবং একে সুন্নাত বা প্রয়োজনীয় মনে করবেন না। অধিকাংশ সময় বিতরের পর আর কোনো নামায না পড়াই উত্তম।
والله أعلم بالصواب