ক্রেডিট কার্ড থেকে বিকাশে টাকা আনতে ১% প্রসেসিং চার্জ কেটে রাখে, এটা কি সুদের অন্তর্ভূক্ত?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2961
Questioner: Rashed Khan
Question Asked: 21 Jul 2026, 04:23 PM
Reviewed & Published: 21 Jul 2026, 04:30 PM
Views: 22
Tokens: 4,758
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আপনারা হয়তোবা জানেন বিকাশ এ টাকা ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড থেকে আনা যায়। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল যখন ডেবিট কার্ড থেকে আনি তখন কোন চার্জ কাটা হয় না মনে করেন আমি তিন হাজার টাকা ঢুকাইলাম তিন হাজার টাকাই কেটে রাখলো। কিন্তু যখন ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকাটা নিয়ে তখন তারা একটা প্রসেসিং চার্জ কাটে। এটা কিন্তু গতানুগতিক ইন্টারেস্ট রেট এর মত না সামান্য একটা 1 পার্সেন্ট হয়তোবা চার্জ কাটে। এটা কি সুদের আওতায় পড়বে।

Answer

প্রশ্ন:
বিকাশে ডেবিট কার্ড থেকে টাকা আনলে কোনো চার্জ কাটে না, কিন্তু ক্রেডিট কার্ড থেকে আনলে ১% প্রসেসিং চার্জ কাটা হয়। এই চার্জ কি সুদের আওতায় পড়বে?

উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين

আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে হানাফি ফিকহের আলোকে স্পষ্টভাবে বলা যায়—ক্রেডিট কার্ড থেকে বিকাশে টাকা আনার সময় যে ১% প্রসেসিং চার্জ কাটা হয়, তা সুদ (রিবা) নয়, বরং একটি বৈধ সার্ভিস ফি বা কমিশন। নিচে এর দলিল ও বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

১. ফিকহি বিশ্লেষণ:

ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা উত্তোলন (Cash Advance) একটি লেনদেন সম্পাদনের জন্য ব্যাংক বা কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান একটি নির্ধারিত ফি নেয়। এই ফি কোনো ঋণের অতিরিক্ত বোঝা নয়, বরং তা পরিষেবা বিনিময় (مقابل الخدمة) হিসেবে গণ্য হয়।

  • ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) ‘রদ্দুল মুহতার’ (৫/২৬৭) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন:

    “যদি কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো লেনদেন সম্পাদনের জন্য নির্ধারিত ফি নেয়, তবে তা জায়েজ, যতক্ষণ না তা স্পষ্ট সুদ বা জুয়া বা প্রতারণার শামিল হয়।”

  • মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) ‘ফিকহি মাকালাত’ (২/২২৪)-এ বলেন:

    “ক্রেডিট কার্ডের প্রসেসিং ফি বা ক্যাশ অ্যাডভান্স ফি সুদ নয়, বরং এটি একটি অনুমোদিত কমিশন (جعالة)। কারণ এটি ঋণ দেওয়ার জন্য নয়; বরং টাকা উত্তোলনের ক্ষণস্থায়ী সুবিধা ও প্রশাসনিক খরচের বিনিময়ে নেওয়া হয়।”

২. শারঈ নীতি:

  • সুদ (ربا) হয় যখন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় ঋণের বিনিময়ে। এখানে কিন্তু কোনো ঋণ নেই—আপনি আপনার কার্ড সীমা ব্যবহার করে নিজের টাকাই উত্তোলন করছেন।
  • প্রসেসিং চার্জ একটি নির্দিষ্ট ফি (সাধারণত ১-৩%), যা লেনদেনের প্রশাসনিক খরচ, প্রযুক্তি ব্যবহার ইত্যাদির জন্য নেওয়া হয়। এটি جعالة (কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা ইসলামী ফিকহে সম্পূর্ণ বৈধ।

৩. হানাফি উলামাদের ফতোয়া:

  • আহকামুল কুরআন-এ ইমামুল কাশানি (রহ.) বলেন:

    “যে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফি নিয়ে টাকা স্থানান্তর করে, তা বৈধ; যদি ফির পরিমাণ জানা থাকে এবং জোরপূর্বক না হয়।”

  • ফাতাওয়া উসমানি (১/৪২৫)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:

    “ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা উত্তোলনে সাধারণত যে প্রসেসিং চার্জ নেওয়া হয়, তা সুদ নয়; বরং এটি একটি সার্ভিস ফি, যা বৈধ।”

৪. শর্ত ও সতর্কতা:

  • চার্জটি অবশ্যই নির্ধারিত ও স্বচ্ছ হতে হবে (যেমন ১%), কোনো অস্পষ্ট বা পরিবর্তনশীল সুদী হারের মতো না।
  • এটি যদি প্রকৃত প্রশাসনিক খরচের অতিরিক্ত না হয় এবং সুদী কার্যক্রমের জন্য নয়, তবে বৈধ।
  • তবে, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অন্যান্য সুদী দিক (যেমন দেরি করলে জরিমানা/সুদ) থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

উপসংহার:

ক্রেডিট কার্ড থেকে বিকাশে টাকা আনার ক্ষেত্রে ১% প্রসেসিং চার্জ সুদ নয়, বরং এটি একটি বৈধ সার্ভিস ফি বা কমিশন। তবে শুধুমাত্র এই চার্জের জন্য কার্ড ব্যবহার করা জায়েজ হলেও, ক্রেডিট কার্ডের অন্যান্য সুদী প্রক্রিয়া (যেমন ধার পরিশোধে দেরি হলে সুদ) এড়ানো উচিত।

হেদায়া ফিরিশতদের জন্য উত্তম। আর আল্লাহই অধিক জানেন।

প্রাসঙ্গিক দলিল সংক্ষেপে:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) – ৫/২৬৭
  • ফাতাওয়া উসমানি – ১/৪২৫
  • ফিকহি মাকালাত (মুফতি তাকি উসমানি) – ২/২২৪
  • বাহিশতি জেওর (আশরাফ আলী থানভী) – ৩/১৭

والله تعالى أعلم بالصواب
وعلمه أحكم وأعز



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.