মাহরাম ছাড়া নারীর জন্য ওমরাহ করা জায়েজ?
Hajj and Umrah · Ahle Hadith / Salafi
Question
আমি ওমরাহ তে যেতে চাচ্ছি কিন্তু সাথে আমার মাহরাম যেতে পারছেনা সেক্ষেত্রে আমি কি মামা শশুর, মামি শাশুড়ী, নানি শাশুড়ী এনাদের সাথে ওমরাহ করতে যেতে পারবো। বি দ্র এখন আমার বাচ্চা নায় তাই আমি সহজেই ওমরাহ যেতে পারবো, বাচ্চা হওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবে একটু ব্যাস্ততা বাড়ে তাই যেহেতু স্বামির পরিবারের অনেকেই একসাথে ওমরাহতে যাচ্ছে তাদের সাথে যেতে চাচ্ছিলাম।
Answer
উত্তর:
ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো—মাহরাম ছাড়া কোনো নারীর জন্য ওমরাহ বা হজের সফর করা জায়েজ নয়। এটি ইসলামের একটি স্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয় বিধান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ تُسَافِرَ مَسِيرَةَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ"
"যে নারী আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, তার জন্য একদিন ও একরাতের পথ সফর করা হালাল নয়, যদি না তার সাথে মাহরাম থাকে।"
(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৮৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৩৯)
অন্য হাদীসে এসেছে:
"لَا تُسَافِرِ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ"
"কোনো নারী মাহরাম ছাড়া সফর করবে না।"
(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৬২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৪১)
মাহরাম কে?
মাহরাম হলেন এমন পুরুষ, যার সাথে বিবাহ চিরতরে নিষিদ্ধ (যেমন: পিতা, ভাই, ছেলে, চাচা, মামা, স্বামী, শ্বশুর, সৎপিতা, দুধ-ভাই ইত্যাদি)। তবে মামা-শশুর, মামি-শাশুড়ি, নানি-শাশুড়ি—এদের মধ্যে মামা-শশুর (স্বামীর মামা) আপনার জন্য মাহরাম নন। কারণ মাহরাম কেবল সেই পুরুষ, যার সাথে রক্ত, বিবাহ বা দুধের সম্পর্কের কারণে বিবাহ হারাম। স্বামীর মামা আপনার জন্য মাহরাম হবেন না, বরং তিনি আপনার স্বামীর মাহরাম। একইভাবে, মামি-শাশুড়ি ও নানি-শাশুড়ি নারী হওয়ায় তারা আপনার জন্য মাহরামের ভূমিকা পালন করতে পারেন না। মাহরাম কেবল পুরুষ হয়।
সুতরাং আপনার মাহরাম ছাড়া এই ব্যক্তিদের সাথে ওমরাহতে যাওয়া জায়েজ নয়।
স্বামীর পরিবারের সাথে যাওয়ার ইচ্ছা প্রসঙ্গে:
আপনার স্বামীর পরিবারের অনেকেই একসাথে ওমরাহতে যাচ্ছেন—এটি তাদের জন্য ভালো, কিন্তু আপনার জন্য সেই দলের সাথে যাওয়া বৈধ হবে না, যতক্ষণ না আপনার নিজের মাহরাম (স্বামী বা অন্য কোনো মাহরাম পুরুষ) আপনার সাথে থাকেন। মাহরামের শর্তটি শুধু পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতির দ্বারা পূর্ণ হয় না; বরং নিজের মাহরামের সঙ্গেই সফর করতে হবে। যেমন: শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:
"লোকদের একটি দল নারীর জন্য মাহরাম নয়। বরং তার মাহরাম অবশ্যই তার সাথে থাকতে হবে, যদিও দলে অন্য কেউ থাকে।"
(মাজমু‘ ফাতাওয়া, ২৪/১১৫)
শায়খ ইবন বায (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: একজন নারী কি তার মাহরাম ভাই বা স্বামী ছাড়া তার মা ও বোনদের সাথে হজ করতে পারবে? তিনি উত্তর দেন:
"না, তার জন্য এটি জায়েজ নয়। বরং তার সাথে মাহরাম থাকা আবশ্যক।"
(মাজমু‘ ফাতাওয়া ইবন বায, ১৭/৪৩)
আপনার অবস্থা:
আপনার বর্তমানে সন্তান নেই, তাই আপনি সহজেই ওমরাহতে যেতে চান—এটি আপনার ইচ্ছা। কিন্তু সন্তান না থাকা বা সুযোগ থাকা মাহরামের শর্তকে মাফ করে না। শরীয়তের বিধান সবার জন্য সমান।
আপনার উচিত:
১. স্বামীকে বোঝানো যাতে তিনি আপনার সাথে ওমরাহতে যান।
২. যদি স্বামী যেতে না পারেন, তাহলে অন্য কোনো মাহরাম (যেমন: পিতা, ভাই, চাচা, মামা) খুঁজে বের করা।
৩. মাহরাম ছাড়া ওমরাহ করা থেকে বিরত থাকা। কারণ এটি আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার শামিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ"
"যে ব্যক্তি এমন কাজ করল যার ওপর আমাদের নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।"
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭১৮)