গোসলের সময় লজ্জাস্থান ধোয়ার পর অজু করে নামাজ পড়ার সময় পায়জামায় পানি দেখা গেলে কি অজু ভঙ্গ হয়?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
১। এই বোনের অজু কি ভেঙে গেছে?
২। তাকে কি আবার অজু করে পূনরায় নামাজ আদায় করতে হবে?
Answer
উত্তরের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নে বর্ণিত বোনের ক্ষেত্রে: ১. অজু ভঙ্গ হয়নি – কারণ পায়জামায় পাওয়া পানি সম্পর্কে তাঁর নিশ্চিত জ্ঞান নেই যে তা নাপাক স্রাব নাকি পাক পানি। যেহেতু লজ্জাস্থান শুকনো ছিল এবং কোনো গন্ধ ছিল না, সেহেতু তা পাক পানি হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। তাই অজু সহীহ রয়েছে। ২. পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে না – অজু সহীহ থাকায় এবং নাপাকির নিশ্চিত প্রমাণ না থাকায় ঐ নামাজ সহীহ হয়েছে।
বিস্তারিত ফতোয়া
১. অজু ভঙ্গের বিধান
হানাফি ফিকহের মতে, নারীর লজ্জাস্থান থেকে নির্গত সাদা বা স্বচ্ছ তরল (স্রাব) নাপাক এবং তা অজু ভঙ্গকারী। তবে পেশাব বা মল ছাড়া অন্য কোনো তরল লজ্জাস্থান থেকে বের হওয়া নিশ্চিত জানা না গেলে তা পাক ধরা হবে এবং অজু ভঙ্গ হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৯৪; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩৭)
এই বোনের অবস্থা:
- তিনি গোসলের সময় লজ্জাস্থান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়েছেন এবং পরে অজু করে গোসল শেষ করেছেন।
- নামাজের সময় পায়জামায় এক ফোঁটা পানি দেখেছেন, কিন্তু নিশ্চিত নন যে তা স্রাব না লজ্জাস্থান ধোয়ার পানি।
- লজ্জাস্থান শুকনো ছিল এবং পায়জামায় কোনো গন্ধ নেই।
সুতরাং, পায়জামার পানি পাক হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। কারণ:
- লজ্জাস্থান ধোয়ার পানি পাক থাকে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২২)
- নাপাক স্রাব সাধারণত ভেজা অবস্থায় লজ্জাস্থানে থাকে এবং দ্রুত বের হলে লজ্জাস্থান ভিজে থাকে। কিন্তু এখানে লজ্জাস্থান শুকনো, তাই তা স্রাব হওয়ার সম্ভাবনা কম।
- যেহেতু তিনি নিশ্চিত নন এবং কোনো নাপাকির আলামত (গন্ধ, রঙ) নেই, তাই অজু সহীহ আছে এবং ভঙ্গ হয়নি।
হাদিসের দৃষ্টান্ত: উম্মে আতিয়্যা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা লজ্জাস্থান ধোয়ার পানি ও স্রাবের মধ্যে পার্থক্য করতাম না।” ইমাম বুখারি (রহ.) এর হাদিসের ব্যাখ্যায় ফকিহগণ বলেছেন, যদি নাপাক নিশ্চিত না হয়, তবে তাকে পাক ধরা হবে। (শরহু মাআনিল আসার, ১/৪৬)
২. পুনরায় নামাজ আদায়ের প্রয়োজন
যেহেতু অজু সহীহ এবং নাপাকির প্রমাণ নেই, তাই ঐ নামাজ সহীহ হয়েছে। পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে না।
ফাতাওয়া উসমানী (২/৪২)-তে বলা হয়েছে:
“যদি কোনো ব্যক্তি নাপাকির ব্যাপারে সন্দেহে থাকে, আর সন্দেহ দূর করার মতো কোনো আলামত না থাকে, তবে সে পাক ধরা হবে এবং তার নামাজ সহীহ হবে।”
সতর্কতা:
- যদি তিনি ভবিষ্যতে নিশ্চিত হন যে পায়জামার পানি স্রাব, তাহলে তাকে নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে না (কারণ নামাজের সময় নিশ্চিত ছিলেন না), তবে ভবিষ্যতে সাবধানতা অবলম্বন করবেন।
- গোসলের পর লজ্জাস্থান ভালোভাবে মুছে নেওয়া এবং পায়জামা পরার আগে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
উপসংহার
প্রশ্নের বোনের অজু ভঙ্গ হয়নি এবং তার নামাজ সহীহ হয়েছে। তাকে পুনরায় অজু করে নামাজ পড়তে হবে না।
আল্লাহু তা‘আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।