সোনার/রুপার মূল্যমান ধরে টাকায় ঋণ দেওয়ার বিধান জানতে চাই?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2886
Questioner: Most. Hafsa Khatun
Question Asked: 19 Jul 2026, 09:30 PM
Reviewed & Published: 19 Jul 2026, 09:34 PM
Views: 54
Tokens: 4,140
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

প্রতিবছর মুদ্রাস্ফিতির জন্য টাকার ক্রয়ক্ষমতা ৯% হারে কমে যায়। এই অবস্থায় আমি যদি কাউকে ১ লাখ টাকা ঋণ দেই, আর সে আমাকে ২ বছর পর সে টাকা ফেরত দেয় তাহলে আমার অলরেডি ১৮ হাজার টাকা হারিয়ে যাচ্ছে। এখন আমি যদি ঋণ দেওয়ার সময় সোনা কিংবা রুপার মুল্যমান ধরে ঋণ দেই, আর সে যখন সেটা পরিশোধ করবে ঐ সময়ের সোনা কিংবা রুপার মূল্যমান ধরে পরিশোধ করবে, তাহলে কী এটা বৈধ হবে?

Answer

সোনা/রুপার মূল্যমান ধরে টাকায় ঋণ দেওয়ার বিধান

উত্তর

মুদ্রাস্ফীতির কারণে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আপনি যে পদ্ধতির কথা বলছেন—ঋণ দেওয়ার সময় সোনা বা রুপার মূল্যমান ধরে ঋণ দেওয়া এবং পরিশোধের সময় সেও সময়ের সোনা/রুপার মূল্যমান ধরে পরিশোধ করা—এটি ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হবে না।

কারণ

১. ঋণের মূলনীতি: ইসলামী শরিয়তে ঋণ হল একটি পুণ্যময় কাজ। ঋণদাতা যখন কাউকে ঋণ দেন, তখন তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং ঋণগ্রহীতার সাহায্যের উদ্দেশ্যে তা দেন। ঋণ পরিশোধের সময় ঋণদাতার জন্য ঋণের অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করা বৈধ নয়, কারণ এটি সূদ (রিবা) হিসেবে গণ্য হবে।

২. মুদ্রাস্ফীতি ও ঋণ: টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া (মুদ্রাস্ফীতি) একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতা। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে, ঋণ দেওয়ার সময় যে পরিমাণ টাকা দেওয়া হয়, ঋণগ্রহীতাকে ঠিক সেই পরিমাণ টাকাই ফেরত দিতে হবে। টাকার ক্রয়ক্ষমতা পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া কিংবা কম দেওয়া—উভয়ই বৈধ নয়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, মুদ্রার মান পরিবর্তনের কারণে ঋণের পরিমাণ পরিবর্তন করা জায়েজ নয়। (রদ্দুল মুহতার, ৫/১৬৮)

৩. সোনা/রুপার মূল্যমান ধরে ঋণ দেওয়া: আপনি যদি ঋণ দেওয়ার সময় সোনা/রুপার মূল্যমান ধরে টাকা দেন এবং পরিশোধের সময় সেই অনুযায়ী টাকা নেন, তাহলে এটি প্রকৃতপক্ষে ঋণের সাথে একটি শর্ত যুক্ত করছে যা সূদের দিকে পরিচালিত করে। কারণ, আপনি মূলত টাকার ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাচ্ছেন, যা ইসলামী শরিয়তে অনুমোদিত নয়।

৪. হানাফি ফিকহের বিধান: ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি ও রদ্দুল মুহতারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, ঋণ দেওয়ার সময় যদি এমন শর্ত করা হয় যা ঋণদাতার জন্য কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নিশ্চিত করে, তাহলে তা সূদ (রিবা) হবে। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি, ৩/২২৪; রদ্দুল মুহতার, ৫/১৬৫)

বিকল্প সমাধান

আপনি যদি মুদ্রাস্ফীতির কারণে আপনার অর্থের প্রকৃত মূল্য সংরক্ষণ করতে চান, তাহলে নিম্নলিখিত বৈধ পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন:

১. সোনা বা রুপা ঋণ দেওয়া: আপনি যদি প্রকৃতপক্ষে সোনা বা রুপা ঋণ দেন এবং তা ফেরত নেন, তাহলে তা বৈধ হবে। তবে মনে রাখতে হবে, ঋণ দেওয়ার সময় যে পরিমাণ সোনা/রুপা দেওয়া হবে, ফেরত নেওয়ার সময়ও ঠিক সেই একই পরিমাণ সোনা/রুপা নিতে হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২১৭০)

২. পণ্য বা জিনিসপত্র ঋণ দেওয়া: আপনি যদি কোনো নির্দিষ্ট পণ্য (যেমন: ধান, চাল, কাপড় ইত্যাদি) ঋণ দেন এবং তা ফেরত নেন, তাহলে সেটিও বৈধ হবে।

৩. কোনো শর্ত ছাড়া ঋণ দেওয়া: উত্তম হলো, আপনি কোনো শর্ত ছাড়াই টাকা ঋণ দিন এবং পরিশোধের সময় ঠিক সেই পরিমাণ টাকা ফেরত নিন। আল্লাহ তাআলা বলেন, "তোমরা যদি ঋণ দাও, তবে তা উত্তম কাজ।" (সূরা আল-বাকারাহ, ২:২৪৫)

উপসংহার

সুতরাং, টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে সোনা/রুপার মূল্যমান ধরে ঋণ দেওয়ার পদ্ধতি বৈধ হবে না। এটি সূদ (রিবা) হিসেবে গণ্য হবে। বরং আপনি সরাসরি টাকা ঋণ দিন এবং কোনো শর্ত ছাড়াই তা ফেরত নিন। অথবা সরাসরি সোনা/রুপা ঋণ দিন এবং সেটিই ফেরত নিন।

আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.