ঋতুস্রাবের এক ফোঁটা লাল পানি, পরে বাদামি স্রাব ও সাদা স্রাব হলে নামাজ পড়া যাবে কি না?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 2884
Questioner: Parul mimi
Question Asked: 19 Jul 2026, 08:28 PM
Reviewed & Published: 19 Jul 2026, 08:38 PM
Views: 46
Tokens: 7,340
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
আমার পিরিয়ড এর এক ফোঁটা লাল পানি যায়,,তাও ওয়াসরুমে গেলে,একবারই দেখা দেয়,এরপর আমি পরিপূর্ণ সুস্থ আর কোন লাল পানি বা রক্তের ছিটেফোঁটা নেই,,আবার হঠাৎ করে বাদামী কালার স্রাব যায়,,এরপর সাদা পানি,সাদা স্রাব,
এমতবস্থায় আমার নামাজ পড়লে নামাজ সহীহ হবে কিনা?

Answer

উত্তর: ঋতুস্রাব (হায়জ) ও ইস্তিহাজা সম্পর্কিত জটিলতা

প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

প্রশ্নকারী বর্ণনা করেছেন: তাঁর পিরিয়ডে এক ফোঁটা লাল পানি যায়, তারপর সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে যান (কোনো লাল পানি বা রক্ত নেই)। এরপর হঠাৎ বাদামি রঙের স্রাব আসে এবং পরে সাদা স্রাব বা পানি আসে। তিনি জানতে চান, এ অবস্থায় নামাজ পড়লে তা সহীহ হবে কিনা।


হানাফী ফিকহের মূলনীতি

১. হায়জ (ঋতুস্রাব)-এর ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ সময়সীমা

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, হায়জের ন্যূনতম কাল তিন দিন ও তিন রাত (৭২ ঘণ্টা)। এর কম রক্ত আসা হায়জ নয়, বরং ইস্তিহাজা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) গণ্য হবে। (আল-হিদায়া, ফাতাওয়া আলমগীরী)
  • হায়জের সর্বোচ্চ কাল দশ দিন ও দশ রাত। এই সীমার বেশি রক্ত এলে তা ইস্তিহাজা। (রদ্দুল মুহতার, কিতাবুল হায়জ)

২. হায়জের রক্তের পরিচয়

  • কালো বা গাঢ় লাল, তীব্র গন্ধ, জ্বালাপোড়াঘনত্ব হায়জের রক্তের বৈশিষ্ট্য। ইস্তিহাজার রক্ত পাতলা, হালকা ও সাধারণত গন্ধহীন। তবে বর্তমানে চিকিৎসাগত কারণেও রক্তের রং ও ধরন পরিবর্তিত হতে পারে, তাই সময়কালই প্রধান মানদণ্ড।

৩. বাদামি ও সাদা স্রাবের হুকুম

  • বাদামি (কুদরাত) ও হলদে (সুফরাত) স্রাব স্বাভাবিক ঋতুকালের মধ্যে এলে তা হায়জের অংশ। কিন্তু পবিত্রতার পর (যখন সাদা স্রাব বা সম্পূর্ণ শুষ্কতা দেখা যায়) এলে তা ইস্তিহাজা। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/৩৩৩)
  • সাদা স্রাব (কাসসাতুল বায়াদ) পবিত্রতার নির্দিষ্ট নিদর্শন। এর মাধ্যমে হায়জ সমাপ্তি বুঝা যায়। (বাহিশতি জেওর, ত্বহারত অধ্যায়)

৪. এক ফোঁটা রক্ত দেখা

  • কোনো নারী যদি মাত্র এক ফোঁটা লাল রক্ত দেখে এবং তার পর সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে যায় (কোনো রক্ত বা স্রাব না থাকে), তাহলে তা হায়জ নয়। কারণ তা তিন দিনের কম। সুতরাং এই রক্ত আসার সময় তিনি নামাজ-রোজা থেকে বিরত থাকবেন না বরং ইস্তিহাজার মতো আচরণ করবেন। তবে যদি তাঁর পূর্ব অভ্যাস (আদত) থাকে (যেমন প্রতিমাসে ৫ দিন হায়জ হয়), তাহলে তিনি সেই অভ্যাসকেই গ্রহণ করবেন। (রদ্দুল মুহতার, কিতাবুল হায়জ; ফাতাওয়া উসমানি)

প্রশ্নের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ

প্রশ্নকারীর বর্ণনায় এক ফোঁটা লাল পানি ও পরে বাদামি স্রাব — মোট সময়কাল যদি ৩ দিনের কম হয়। সেক্ষেত্রে এটি হায়েজ নয়,বরং এটি ইস্তিহাজা

তাই এমতাবস্থায় নামাজ আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে নামাজ পড়লে নামাজ সহীহ হবে। তবে আপনি যেহেতু মা'যুর নন,তাই রক্ত বা স্রাব আসার সময় নামাজ না পড়ে অপেক্ষা করবেন,ওয়াক্তের যেই সময়ে রক্ত বা স্রাব আসা বন্ধ হবে তখন নামাজ আদায় করবেন।

তবে যদি মোট সময়কাল যদি ৩ দিন বা তার চেয়ে বেশি হয়,সেক্ষেত্রে এটি হায়েজ। এ সময়ে নামাজ আদায় করা যাবেনা।

গুরুত্বপূর্ণ হানাফী কিতাবের উদ্ধৃতি

রদ্দুল মুহতার (১/৪৩৩)-এ বলা হয়েছে:
"বাদামি ও হলদে স্রাব হায়জের দিনের মধ্যে এলে তা হায়জ; কিন্তু পবিত্রতার পর এলে তা ইস্তিহাজা।"

ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/৩৩৩)-এ উল্লেখ আছে:
"যদি কোনো নারী ৩ দিনের কম রক্ত দেখে, তবে তা হায়জ নয়। পূর্ব অভ্যাস থাকলে অভ্যাস অনুযায়ী চলবে, না থাকলে ইস্তিহাজা গণ্য হবে।"

ফাতাওয়া উসমানি (১/১৬২)-এ এসেছে:
"ঋতুচক্রের মধ্যে যদি কোনো নারী দুই-এক ফোঁটা রক্ত দেখে এবং তা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সে নামাজ পড়বে, কারণ এটি ইস্তিহাজা।"


উপসংহার

প্রশ্নকারীর বর্ণনায় এক ফোঁটা লাল পানি ও পরে বাদামি স্রাব — মোট সময়কাল যদি ৩ দিনের কম হয়। সেক্ষেত্রে এটি হায়েজ নয়,বরং এটি ইস্তিহাজা

তাই এমতাবস্থায় নামাজ আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে নামাজ পড়লে নামাজ সহীহ হবে। তবে আপনি যেহেতু মা'যুর নন,তাই রক্ত বা স্রাব আসার সময় নামাজ না পড়ে অপেক্ষা করবেন,ওয়াক্তের যেই সময়ে রক্ত বা স্রাব আসা বন্ধ হবে তখন নামাজ আদায় করবেন।

তবে যদি মোট সময়কাল যদি ৩ দিন বা তার চেয়ে বেশি হয়,সেক্ষেত্রে এটি হায়েজ। এ সময়ে নামাজ আদায় করা যাবেনা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.