অনিয়মিত মাসিক সম্পর্কিত নামাজ এর বিধান নিয়ে প্রশ্ন

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 2878
Questioner: Tanvir Ahmed
Question Asked: 19 Jul 2026, 05:51 PM
Reviewed & Published: 19 Jul 2026, 06:08 PM
Views: 60
Tokens: 3,652
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কোনো মেয়ের যদি অনিয়মিত মাসিকের কারণে পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগেই মাঝে মাঝে লাল রঙের তরল বা রক্তের মতো বের হয়, এবং এমনটা প্রায়ই বা অনেক দিন ধরে হয়ে থাকে, তাহলে সেই অবস্থায় কি সে নামাজ পড়তে পারবে? ইসলামের দৃষ্টিতে এই রক্তকে কি মাসিক (হায়েজ) ধরা হবে, নাকি অন্য কিছু?

Answer

অনিয়মিত মাসিক সম্পর্কিত নামাজের বিধান

প্রশ্নের উত্তর

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে, কোনো মেয়ের যদি অনিয়মিত মাসিকের কারণে পিরিয়ড শুরুর আগেই মাঝে মাঝে লাল রঙের তরল বা রক্তের মতো কিছু বের হয়, যদি এই রক্তস্রাব তিন দিন তিন রাত স্থায়ী হয়, তাহলে হায়েয। নতুবা ইস্তেহাযা হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা

হায়েজ (মাসিক) ও ইস্তিহাজার মধ্যে পার্থক্য

হানাফি মাযহাবের নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুযায়ী:

  1. হায়েজ (মাসিক): এটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যা সাধারণত প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে হয়। হায়েজের রক্ত সাধারণত কালো বা গাঢ় লাল, ঘন, এবং তীব্র গন্ধযুক্ত হয়।

  2. ইস্তিহাজা: এটি অসুখ বা শারীরিক জটিলতার কারণে অনিয়মিতভাবে বের হওয়া রক্ত। এই রক্ত হালকা লাল, পাতলা, এবং সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে না এসে যে কোনো সময় বের হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ নীতি

হানাফি মাযহাবের বিখ্যাত গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার-এ এসেছে:

"إذا جاوز الدم أكثر الحياد ثم انقطع على رأس العشرة فجميعه حيض، وإن جاوز العشرة فما زاد على أكثر الحياد استحاضة"

অর্থ: "যদি রক্ত অধিকাংশ হায়েজের সময় অতিক্রম করে এবং দশ দিনের মাথায় বন্ধ হয়, তাহলে সবটুকুই হায়েজ। আর যদি দশ দিন অতিক্রম করে, তাহলে অধিকাংশ হায়েজের সময়ের অতিরিক্ত অংশ ইস্তিহাজা।"

মাসিক চক্রের নিয়মিততা

ফাতাওয়া উসমানী-তে উল্লেখ আছে:

"যে মেয়ের মাসিক নিয়মিত, তার নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে রক্ত দেখা দিলে সেটি হায়েজ হবে না যদি না তা কমপক্ষে তিন দিন অব্যাহত থাকে এবং হায়েজের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।"

সারসংক্ষেপ

প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় রক্ত বং তা তিনদিন তিনরাত স্থায়ী হয়, তাহলে হায়েয। আর তিন দিন তিন রাত স্থায়ী না হলে, সেই রক্ত ইস্তেহাযা হিসেবে গণ্য হবে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.