কয়েক হাজার কাজা নামাজ বাকি থাকলে কি বসে পড়া যাবে?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
উত্তর
ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
নিচে আপনার প্রশ্নের বিশদ উত্তর দেওয়া হলো।
১. কাজা নামাজে বসে পড়ার হুকুম
হানাফি মাজহাবের মূলনীতি হলো:
- ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ দাঁড়িয়ে পড়া ফরজ (যদি ব্যক্তি দাঁড়াতে সক্ষম হয়) – (রদ্দুল মুহতার, ২/৯৯; আল-হিদায়া, ১/১১৩)।
- কাজা নামাজ মূল নামাজের মতোই আদায় করতে হবে। সুতরাং যদি কোনো ওজর (রোগ, বার্ধক্য, ভয়, প্রভৃতি) না থাকে, তাহলে বসে কাজা নামাজ পড়লে তা আদায় হবে না, পুনরায় দাঁড়িয়ে পড়তে হবে – (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/১০৭; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২২৮)।
তবে শারীরিক কারণ (যেমন: দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, পায়ে ব্যথা, অতি বার্ধক্য) থাকলে বসে কাজা নামাজ পড়া জায়েজ। সেক্ষেত্রেও সিজদা যথাসম্ভব যথাযথভাবে করতে হবে।
আপনার পরিস্থিতির ব্যাখ্যা:
আপনি যদি সুস্থ, তরুণ বা দাঁড়াতে সক্ষম হন, তাহলে ‘কেবল অনেক কাজা আছে’ এই অজুহাতে বসে পড়া নাজায়েজ। এটি দাঁড়ানো ফরজকে বাদ দেওয়ার মতো অপরাধ – (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৮১; বাহিশতী জেওর, ১/১২৮)।
২. এত কাজা নামাজ কীভাবে দাঁড়িয়ে শেষ করবেন?
কয়েক হাজার কাজা নামাজ! এটি ভয়ংকর বড়, কিন্তু আল্লাহর রহমতও অসীম। নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করুন:
ক. নিয়মিত দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কাজা পড়া:
- প্রতিদিন ফরজ নামাজের পর (বা আগে) কমপক্ষে ৫টি করে কাজা নামাজ পড়ুন। যেমন: জোহরের ফরজ শেষে এক কাজা জোহর, আসরের পর এক কাজা আসর, ইত্যাদি।
- এভাবে বছরে পড়া যায়: ৫×৩৬৫ = ১,৮২৫টি। ৩-৪ বছরে কয়েক হাজার শেষ হয়ে যাবে।
খ. রাতে তাহাজ্জুদ বা বিতরের আগে-পরে কাজা পড়া:
- তাহাজ্জুদের সময় কমপক্ষে ৫-১০টি কাজা পড়তে পারেন।
গ. ছুটির দিন বা বিশেষ সময়ে বেশি করে পড়া:
- শুক্রবারে জুমার আগে বা পরে অনেক কাজা পড়া যায়।
- মাহে রমজান, ঈদের ছুটি ইত্যাদিতে তওবা করে প্রতিদিন ২০-৫০টিও পড়তে পারেন।
ঘ. মনোবল ও নিয়ত:
- কাজা নামাজকে দ্বীনের ওপর অটল থাকার জিহাদ মনে করুন। এত বড় বোঝা আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমার কারণ হবে ইনশাআল্লাহ।
- সাহাবায়ে কেরামের যুগেও কেউ কেউ বহু কাজা নামাজ কাযা করতেন। হাদীসে এসেছে, ইবনে উমর (রা.)-এর কাছে ১৫ দিনের কাজা জমা হলে তিনি পাঁচ ওয়াক্তের সাথে একত্রে পড়তেন – (সুনানে বায়হাকী, ২/২৯০)।
৩. যদি দীর্ঘমেয়াদি ওজর আসে?
যদি আপনি বয়স বা অসুস্থতার কারণে এক সময় স্থায়ীভাবে দাঁড়াতে অক্ষম হন, তাহলে বসে পড়তে পারবেন। তা না হলে এখনই ‘বসে পড়ার’ অনুমতি নেই।
সংক্ষিপ্ত ফতোয়া
- সুস্থ অবস্থায় বসে কাজা নামাজ পড়া জায়েজ নয়,এতে আপনার কাজা নামাজ আদায় হবেনা – (ফাতাওয়া উসমানী, ১/২২৯; রদ্দুল মুহতার, ২/১০২)।
- শারীরিক ওজর না থাকলে দাঁড়িয়েই আদায় করতে হবে।
- প্রচুর কাজা থাকলে প্রতিদিন ৫টি করে বা তার বেশি দাঁড়িয়ে পড়ুন। ধীরে ধীরে শেষ হবে।
আল্লাহ তাআলা আপনার তওবা কবুল করুক এবং সহজ উপায়ে কাজা আদায়ের তাওফিক দান করুক।
ওয়াল্লাহু তায়ালা আ'লামু বিল মুছীব।