বদ জীনের আসর আছে কিনা জানা যাবে কিভাবে?
Waswasa-OCD · Hanafi
Question
আমার আম্মু কিছু সময় আগে অসুস্থ হয়ে গেছিলো উনার মেডিকেল ট্রিটমেন্ট আমি করাইছি কিন্তু এখন অল্প কিছু সময় পরপরই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন।আম্মু আগে থেকেই আমল আর নামায এর বিষয়ে কিছুটা উদাসীন ছিলেন কিন্তু এখন একদমই আমল করেনা আর পাকপবিত্রতা নিয়ে ও আগে অবহেলা করতেন না এখন খুবই অবহেলা করেন।
এখন তাই আমি জানতে চাই আম্মুকে কি কোনো বদ জীন আসর করলো নাকি? বা করে থাকলে সঠিক কিভাবে রুকাইয়া করবো বা আমি বুজবো কিভাবে?
আর রুকাইয়াতে কি জার আমল তাকেই করতে হবে?
Answer
উত্তর:
আপনার আম্মুর অসুস্থতা ও আমলে (নামায-রোযা) অবহেলা করার বিষয়টি একসাথে আসার কারণে আপনি উদ্বিগ্ন, যা স্বাভাবিক। তবে সরাসরি সেটাকে ‘বদ জীনের আসর’ বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হবে না। ইসলামী নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো রোগ বা অসুবিধার ক্ষেত্রে প্রথমে সাধারণ চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা করা জরুরি।
প্রথমে মেডিকেল কারণ খুঁজুন:
- বয়সজনিত কারণে ডিমেনশিয়া, আলঝেইমার বা কোনো মানসিক রোগ (যেমন: ডিপ্রেশন, সাইকোসিস) থাকলে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অসুস্থতা (যেমন: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড ইত্যাদি) অবহেলার কারণ হতে পারে।
- তাই প্রথমে একজন ভালো ডাক্তার (নিউরোলজিস্ট/সাইকিয়াট্রিস্ট) দেখিয়ে নিন।
জীনের আসরের লক্ষণ:
হাদীস ও ইসলামী গ্রন্থে জীনের আসরের কিছু লক্ষণ উল্লেখ আছে, যেমন:
- হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, কথা বলতে না পারা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, অদ্ভুত আওয়াজ করা।
- ইবাদতের প্রতি তীব্র ঘৃণা বা বিতৃষ্ণা (তবে এটি একমাত্র লক্ষণ নয়; মেডিকেল কারণেও হতে পারে)।
- নিজের শরীর বা সম্পদের অস্বাভাবিক ক্ষতি।
আপনার আম্মুর ক্ষেত্রে:
- তিনি আগে থেকেই আমলে উদাসীন ছিলেন, এখন সম্পূর্ণ অবহেলা করছেন। এটি ধীরে ধীরে বেড়েছে, যা সাধারণত জীনের আসরের আকস্মিক পরিবর্তনের চেয়ে মেডিকেল কারণেই বেশি হয়।
- পাক-পবিত্রতা নিয়ে অবহেলা মূলত মানসিক বা শারীরিক দুর্বলতার কারণেও হতে পারে।
তাই সরাসরি বদ জীনের আসর বলা উচিত হবে না। তবে যদি ডাক্তারি চিকিৎসায় কোনো উন্নতি না হয় এবং উপরোক্ত লক্ষণগুলির সাথে মিল পাওয়া যায়, তাহলে কুরআন-সুন্নাহ সম্মত রুকইয়া করা যেতে পারে।
রুকইয়া করার পদ্ধতি:
- রুকইয়া নিজে করা যাবে, অন্য কাউকে দিয়ে করানোও যাবে। তবে যে ব্যক্তি রুকইয়া করবে তাকে পবিত্র হতে হবে, বিশ্বাস রাখতে হবে এবং শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে।
- কুরআনের আয়াত ও সহীহ দোয়া পড়ে ফুঁ দিতে হবে। যেমন:
- সূরা ফাতিহা (৭ বার)।
- আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: ২৫৫) (১ বার)।
- সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস (প্রতিটি ৩-৭ বার)।
- আরো কিছু আয়াত: সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫-২৮৬), সূরা আরাফের (১১৭-১২২), ইত্যাদি।
- রুকইয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো আমল আবশ্যক নয়; বরং সহজ নিয়মে নিজে বাসায়ই করতে পারেন।
সতর্কতা:
- কোনোরূপ শিরকি বা বিদ’আতী কাজ (যেমন: তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁকের নামে অজ্ঞ লোকের মাধ্যমে চিকিৎসা) করা থেকে বিরত থাকুন।
- যদি মনে করেন কারো মাধ্যমে করাবেন, তবে একজন আলিম বা ‘আমিল (যিনি কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী রুকইয়া করেন) এর সাহায্য নিতে পারেন।
সারসংক্ষেপ:
- প্রথমে ডাক্তার দেখান।
- মেডিকেল কারণ না পেলে বা চিকিৎসায় উন্নতি না হলে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশিত রুকইয়া করুন।
- রুকইয়া নিজে করতে পারেন বা সঠিক পদ্ধতি জানেন এমন কাউকে দিয়ে করান।
- ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আপনার আম্মুকে সুস্থতা দান করুন এবং আপনার ধৈর্য বৃদ্ধি করুন।
(কিতাব: ফতোয়ায়ে উসমানি (মাওলানা মুফতি শফি), ইমদাদুল ফতোয়া (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী), বেহেশতি জেওর, রদ্দুল মুহতার।)