সূর্যোদয়ের ১০ মিনিট বাকী থাকাবস্থায় সুন্নতসহ ফরজ পড়বো না শুধুমাত্র ফরজ পড়বো?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 2658
Questioner: tasmia sultana
Question Asked: 13 Jul 2026, 06:33 PM
Reviewed & Published: 13 Jul 2026, 06:48 PM
Views: 63
Tokens: 4,471
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ
ফজরের নামাজের সময় যদি ঘুম থেকে উঠে যদি দেখি নামাজের আর ১০ মিনিট বাকি তখন কি আগে ফরজ ২ রাকাআত পড়বো নাকি সুন্নাত,, আর এমন যদি হয় সুন্নত পড়া শেষ করে ফরজ ২ রাকাআত শুরু করে দিয়েছি ফরজের ১ রাকাআত পড়ার পর নিষিদ্ধ সময় শুরু হয়ে গেছে তখন কি বাকি ১ রাকাত কন্টিনিউ করা যাবে? কন্টিনিউ করলে নামাজ হবে?

আসরের নামাযের সময় ও যদি এমন হয় নামাজ ধরতে ধরতে প্রায় নিষিদ্ধ সময় চলে এসেছে বা হয়ে গেছে তখন আসরের ফরজ পড়া যাবে?

হল গুলোতে অনেকে একরুম থাকায় দেখার যায়,,যার যার জায়গায় নামাজ পড়ার সময় নামাজের জায়নামাজের আগে কিছু একটা জিনিস রাখে যাতে কেউ তার সামনে দিয়ে চলাচল করতে পারে,,এমনটা ঠিক হবে? নামাজরত অবস্থায় নামাজীর সামনে দিয়ে হাটার হুকুম কেমন যখন একসাথে রুমে অনেক জন থাকা হয়

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্ন ১: ফজরের নামাজে সময় স্বল্পতা ও নিষিদ্ধ সময়

  • ফজরের সময় যদি মাত্র ১০ মিনিট বাকি থাকে, তাহলে প্রথমে ফরজ ২ রাকাআত পড়া উচিত। সুন্নাত পরে (সূর্যোদয়ের পর) কাজা করে নেবেন। কারণ ফরজের সময় বাঁচানো জরুরি।
  • যদি আপনি সুন্নাত পড়ে ফরজ শুরু করেন এবং ফরজের ১ম রাকাআতের পর নিষিদ্ধ সময় (সূর্যোদয়) শুরু হয়, তাহলে বাকি ১ রাকাআত কন্টিনিউ করতে পারবেন এবং নামাজ সহিহ হবে। কারণ নামাজ শুরু করেছিলেন বৈধ সময়ে। নিষিদ্ধ সময়ে নামাজ শুরু করা নিষিদ্ধ, কিন্তু চলমান নামাজ শেষ করা জায়েজ।
    • (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ১/৩৭১; ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৫৬)

প্রশ্ন ২: আসরের নামাজে নিষিদ্ধ সময় চলে এলে

  • আসরের নামাজ যদি সূর্যাস্তের আগে শুরু করেন, তাহলে নামাজ সহিহ হবে, এমনকি নামাজরত অবস্থায় সূর্যাস্ত হয়ে গেলেও। কিন্তু যদি সূর্যাস্ত হয়ে যাওয়ার পর নামাজ শুরু করেন, তাহলে তা সহিহ হবে না (কাজা করতে হবে)।
    • (সূত্র: আল-হিদায়া, ১/৪৮; ফাতাওয়া আলমগিরী, ১/৫১)

প্রশ্ন ৩: জায়নামাজের সামনে বস্তু রাখা ও সামনে দিয়ে হাঁটার হুকুম

  • সুতরা (সামনে বস্তু রাখা): একাকী নামাজ পড়লে সুতরা রাখা মুস্তাহাব। কিন্তু একই ঘরে অনেকজন নামাজ পড়লে প্রত্যেকের জন্য আলাদা সুতরা জরুরি নয়, কারণ সামনের কাতারই সুতরা হিসেবে কাজ করে। শুধু একাকী ব্যক্তি বা ইমামের জন্য সুতরা রাখা সুন্নত।
  • সামনে দিয়ে হাঁটা: নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে হাঁটা মাকরুহ। তবে ঘরে অনেক লোক থাকলে এবং জায়গা সংকীর্ণ হলে, হাঁটার প্রয়োজন হলে তা জায়েজ, তবে নামাজীর পায়ের কাছে বা পিছন দিয়ে হাঁটা উত্তম। সুতরা রাখলে তা হাঁটতে বাধা দেয়, কিন্তু শর্তহীনভাবে বাধা তৈরি করা জরুরি নয়।
    • (সূত্র: বেহেশতি জেওর, ২/২৪; রদ্দুল মুহতার, ২/৪১৭; ফাতাওয়া দারুল উলুম দেবন্দ, ৪/২৬৫)

সংক্ষেপে:

  • ফজরে সময় কম থাকলে ফরজ আগে পড়ুন, সুন্নাত পরে কাজা করুন। নিষিদ্ধ সময়ে নামাজ শুরু করা নিষিদ্ধ নয়, চলমান নামাজ শেষ করা জায়েজ।
  • আসর সূর্যাস্তের আগে শুরু করলে নামাজ সহিহ, পরে শুরু করলে নয়।
  • ভাগাভাগি ঘরে সুতরা জরুরি নয়, তবে রাখলে ভালো। প্রয়োজন ছাড়া সামনে দিয়ে হাঁটা মাকরুহ।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.