বাচ্চার ব্যবহৃত জিনিসপত্র দান করলে কীভাবে মূল্য নির্ধারণ করবেন? আর আশেপাশের মুসলিম মহিলাদের দাওয়াত দেওয়ার দায়িত্ব কতটুকু?

Family Life · Hanafi

Question No: 2577
Questioner: Salwa Safin
Question Asked: 12 Jul 2026, 06:24 AM
Reviewed & Published: 12 Jul 2026, 06:30 AM
Views: 64
Tokens: 6,901
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১) এখানে প্রশ্ন করার জানতে পেরেছিলাম, বাচ্চার ব্যবহৃত যেসব জিনিসপত্র জুতা কাপড় বা খেলনা যদি ফেলে দিতে চাই বা দান করতে চাই তাহলে আনুমানিক এটার মূল্য ধরে লিখে রাখলে বাচ্চা বড় হলে পরে সেই টাকা দিয়ে দিলে সেটা জায়েয হবে।
এখন কি পরিমাণ মূল্য ধরব সেটাই বুঝতে পারছি না। কোন মূল্য টা ধরলে সেটা ন্যায্য হবে এটা বোঝাটাই কঠিন হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে কি করব?

২) আমার আশেপাশের মুসলিম মহিলাদের দ্বীনের অবস্থা খুবই খারাপ। উত্তরবঙ্গের এদিকে মানুষ দ্বীন বলতে তেমন কিছুই বুঝে না। এখানে আমি অস্থায়ী। হয়তো কিছুদিনের মাঝেই চলে যাব। এখন এই মহিলাদের উপর আমার দাওয়াতি কাজের জিম্মাদারি কতটুকু?
মহিলাদের সাথে মিশতে আমার খুবই সমস্যা বোধ হয়। মিশলেই দেখা যায় গীবত, মনোমালিন্য, চোগলখোরি আরও নানা বিষয়ের সম্মুখীন হওয়া লাগে। আবার অনেক সময় দেখা যায় দাওয়াতের নিয়তে মিশলেও নিজের ঈমানে আমলেই ঘাটতি চলে আসতেসে।
মাঝেমধ্যে একটু আখিরাতের কথা নামাজের কথা বলি কিন্তু একটা মানুষকে দ্বীনের পথে টেনে আনার জন্য যেভাবে মেশা প্রয়োজন ওভাবে মিশতে পারি না।
এদিকে আমার গর্ভাবস্থা চলছে, মন মানসিকতাও ভালো লাগে না। এগুলো চিন্তা করে করে পেরেশান লাগে কিন্তু কি করব কিছুই বুঝি না।
আমার জিম্মাদারি কতটুকু থাকবে ওদের উপর?

Answer

উত্তর

প্রশ্ন ১: বাচ্চার ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মূল্য নির্ধারণ ও দান

প্রশ্ন: বাচ্চার ব্যবহৃত জুতা, কাপড়, খেলনা ইত্যাদি ফেলে দিতে বা দান করতে চাইলে আনুমানিক মূল্য ধরে লিখে রাখা এবং বাচ্চা বড় হলে সেই টাকা দিয়ে দেওয়া কি জায়েয? আর সেই মূল্য কেমন করে নির্ধারণ করব?

উত্তর:

হ্যাঁ, এভাবে করা জায়েয এবং এটি একটি উত্তম পদ্ধতি। কারণ, বাচ্চার জিনিসপত্র তার নিজের সম্পদ। তার অভিভাবক হিসেবে আপনি তা দান করতে পারেন যদি তা বাচ্চার জন্যই কল্যাণকর হয় (যেমন, ফেলে না দিয়ে দান করা সওয়াবের কাজ)। কিন্তু সরাসরি দান করলে তা বাচ্চার সম্পদ থেকে গেল। তাই পরে তার সমমূল্য তাকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।

মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি:

আপনি সেই জিনিসপত্রের বর্তমান বাজারমূল্য (ব্যবহৃত অবস্থায়) ধরবেন। যেমন, একটি জুতা আপনি কিনেছিলেন ৫০০ টাকায়, কিন্তু এখন ব্যবহারের কারণে তার মূল্য ২০০ টাকা, তাহলে ২০০ টাকাই ধরবেন। যদি একেবারে পুরনো ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়, তাহলে তার মূল্য খুবই কম বা শূন্য হতে পারে। আপনার উপর জোরাজুরি নেই, আপনি ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গতভাবে অনুমান করবেন। এর চেয়ে বেশি টাকা ধরা বা কম ধরা—উভয়ই যদি ন্যায়বিচার অনুযায়ী হয় তবে ঠিক। তবে সতর্ক থাকুন।

বিশেষ পরামর্শ: জিনিসপত্র দান করার সময়ই তার আনুমানিক মূল্য লিখে রাখুন এবং বাচ্চা সাবালক হলে তাকে সেই টাকা দিন। এটি উত্তম। আপনি যদি পুরো টাকা দিতে না পারেন, তাহলে যতটুকু দিতে পারেন ততটুকু দিলেও আল্লাহ ক্ষমাশীল। তবে চেষ্টা করবেন পুরো মূল্য আদায় করতে।

প্রমাণ: হানাফি ফিকহে অভিভাবকের জন্য সন্তানের সম্পদ তার কল্যাণে ব্যয় করা জায়েয। কিন্তু দান করা নিঃস্বার্থে সন্তানের সম্পদ থেকে দেওয়া ঠিক নয়। উল্লিখিত পদ্ধতি (মূল্য লিখে রেখে পরে দেওয়া) একটি সতর্কতা ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবস্থা।

সূত্র:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন) - শিশুর সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিধান।
  • ফাতাওয়া উসমানী - অপ্রাপ্তবয়স্কের সম্পদ দানের ক্ষেত্রে মূল্য আদায়ের পদ্ধতি।
  • বাহিশ্তী যেওর (আশরাফ আলী থানভী) - সম্পদ সংরক্ষণ ও দায়িত্ব।

প্রশ্ন ২: আশেপাশের মুসলিম মহিলাদের দ্বীনি অবস্থা খারাপ, আমার দায়িত্ব কতটুকু?

প্রশ্ন: আমি অস্থায়ীভাবে উত্তরবঙ্গে আছি। এখানের মুসলিম মহিলারা দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ। তাদের দাওয়াত দেওয়া কি আমার জিম্মাদারি? কিন্তু তাদের সাথে মিশলে গীবত, মনোমালিন্য ইত্যাদি ঘটে, আর আমার নিজের ঈমানেও ঘাটতি আসে। আমি গর্ভবতী, মানসিকভাবে ভালো না। কী করব?

উত্তর:

আপনার উপর অন্যদের দাওয়াত ও নেক কাজের নির্দেশ দেওয়া ফরযে কেফায়া (সামষ্টিক দায়িত্ব) এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, এলাকায় যদি অন্য কেউ না থাকে এবং আপনি সক্ষম হন, তবে আপনার উপর দায়িত্ব আসে। কিন্তু এর জন্য নিজের দ্বীন ও মানসিক স্বাস্থ্য বিসর্জন দেওয়া জরুরি নয়। ইসলামে নিজের ঈমান হেফাজত করা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

আপনার করণীয়:

  1. সাধ্যমত চেষ্টা: আপনি যতটুকুতে পারেন ততটুকু করবেন। গীবত, চোগলখোরি বা অন্য পাপের পরিবেশে যদি মিশতে গিয়ে আপনার নিজের ঈমান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে মেলা জরুরি নয়। আপনি সুযোগমত সংক্ষেপে নসীহত করতে পারেন, যেমন: নামাজের গুরুত্ব, আখিরাতের চিন্তা ইত্যাদি।

  2. সীমা রক্ষা: দাওয়াতের জন্য তাদের সাথে মিশতে বাধ্য নন। আপনি যদি বুঝেন মিশলে পাপ হচ্ছে, তাহলে দূর থেকেও দাওয়াত দিতে পারেন (যেমন, লিফলেট, সামাজিক মাধ্যম, বা একান্ত প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত কথা)।

  3. নিজের যত্ন নিন: আপনি গর্ভবতী এবং মানসিকভাবে কষ্টে আছেন। নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা প্রথম প্রয়োজন। ইসলামে নিজের ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব অপরের দাওয়াতের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে এসেছে: "তোমার নিজের উপর তোমার অধিকার আছে।" (বুখারী)

  4. ঈমানের ঘাটতি এড়ানো: আপনি যদি দেখেন দাওয়াত দিতে গিয়ে আপনার নিজের আমলে (যেমন নামাজ, জিকির) ঘাটতি আসছে, তাহলে দাওয়াত স্থগিত রাখতে পারেন। প্রথমে নিজেকে সংশোধন করুন, তারপর অন্যদের ডাকুন। আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।" (সূরা তাহরিম: ৬)

সংক্ষেপে: আপনার দায়িত্ব সাধ্যমত ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো তাদের জানানো, কিন্তু নিজেকে বিপদে ফেলা জরুরি নয়। আপনি যদি স্থায়ী না হন এবং অন্য কেউ দাওয়াত দিতে না পারেন, তবুও আল্লাহ আপনার নিয়তের মূল্য দেবেন। আপনি যা পারেন তাই করুন, বাকিটা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিন এবং নিজের ঈমান ও স্বাস্থ্যের হেফাজত করুন।

সূত্র:

  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী) - দাওয়াতের ফরযিয়াত ও সীমা।
  • রদ্দুল মুহতার - নিজেকে রক্ষা করা ফরয।
  • মাআরিফুল কুরআন - সূরা তাহরিমের তাফসির।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.