প্রস্রাবের পর তিনবার ধোয়ার পর ঘামের কারণে ভেজা অনুভূতি থাকলে তা কি নাপাক?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
প্রস্রাব করার পর তিনবার ধোয়ার পরও যদি ভেজা অনুভূতি থাকে কিন্তু তা প্রস্রাবের কারণে নয় বরং ঘাম বা পানি জমে থাকার কারণে হয়, তাহলে তা নাপাকি হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ মূলনীতি হলো—যখন নিশ্চিতভাবে প্রস্রাবের অস্তিত্ব (রং, গন্ধ, স্বাদ) না থাকে, তখন কেবল সন্দেহ বা ভেজা ভাব নাপাকি সাব্যস্ত করে না। হানাফী ফিকহে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইস্তিঞ্জার পর পানি পরিষ্কার হয়ে এলে এবং প্রস্রাবের কোনো চিহ্ন না থাকলে জায়গাটি পাক।
প্রমাণ ও কিতাবের উল্লেখ:
১. রদ্দুল মুহতার (১/২০৫):
"إذا غسل المحل ثلاثا ولم يبق أثر النجاسة طهر، وإن بقي أثر يظن أنه من البول لم يطهر، إلا إذا كان ذلك الأثر من غير البول كالعرق ونحوه."
অর্থ: “যদি স্থানটি তিনবার ধোয়া হয় এবং নাপাকির চিহ্ন না থাকে তবে তা পাক। কিন্তু যদি এমন চিহ্ন থাকে যা প্রস্রাবের বলে সন্দেহ হয়, তবে পাক হবে না; তবে যদি তা প্রস্রাব ছাড়া অন্য কোনো কিছু (যেমন ঘাম ইত্যাদি) হয়, তাহলে পাক হবে।”
২. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩২):
"ولو شك في بقاء النجاسة بعد الغسل يبني على اليقين وهو الطهارة."
অর্থ: “যদি ধোয়ার পর নাপাকি অবশিষ্ট থাকার সন্দেহ হয়, তাহলে সে নিশ্চিত অবস্থার (পবিত্রতার) ওপর ভিত্তি করবে।”
৩. ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/১৭৫):
এই ফতোয়ায় বলা হয়েছে—ইস্তিঞ্জার পর যদি বাহ্যিক কোনো নাপাকির চিহ্ন না থাকে, তবে শুধু ভেজা ভাব থাকায় স্থান নাপাক হয় না।
৪. বাহিশতী জেওর (পবিত্রতা অধ্যায়):
হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) লিখেছেন—পানি না ঝরিয়ে শুধু মুছে ফেললেও যদি নাপাকির গন্ধ বা রং না থাকে, তাহলে পাক। আর ঘাম তো পাক বস্তু, তাই তার ভিজা ভাব নাপাকি সৃষ্টি করে না।
সুতরাং, আপনার বর্ণিত অবস্থায় তিনবার ধোয়ার পর যদি প্রস্রাবের কোনো চিহ্ন (হলুদ রং, তীব্র গন্ধ) না থাকে, বরং সেটা শুধু ঘাম বা পানি জমার কারণে ‘পিছলা ভাব’ হয়, তাহলে তা নাপাক নয়। আপনি নিশ্চিন্তে পবিত্র মনে করবেন। তবে যদি মনে হয় আসলেই প্রস্রাবের আঁশ বা চিহ্ন রয়ে গেছে, তবে সে স্থান আবার ভালোভাবে ধুয়ে নিন।