কাউকে আল্লাহর সামনে দাড় করানোর কসম কি গ্রহণযোগ্য?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর: শপথের বিধান ও করণীয়
প্রশ্নে উল্লেখিত শপথটি (আল্লাহর কসম তোমার এই আচরণের জন্য বা তুমি যদি সম্পর্ক ছিন্ন করো তাহলে কেয়ামতে আল্লাহর আদালতে দাঁড় করাবো) একটি শর্তযুক্ত শপথের মতই (conditional oath)। তবে এখানে শপথের বিষয়বস্তু হলো—কাউকে কেয়ামতের দিন আল্লাহর আদালতে উপস্থিত করা। এটি কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়; বরং এটি একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন বিষয়। তাই হানাফি ফিকহের নিয়মানুযায়ী, অসম্ভব বা অমানবীয় কাজের শপথ করা বৈধ নয় এবং তা শপথ হিসেবে গণ্য হয় না। এর কোনো কাফফারাও ওয়াজিব হয় না।
হানাফি ফিকহের মূলনীতি
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তার অনুসারী ফুকাহায়ে কেরামের মতে, যে শপথ মানুষের পক্ষে পালন করা সম্ভব নয়, তা গায়র মু‘নাকিদাহ (অবৈধ) বলে গণ্য।
- ইবনে আবিদীন (রহ.) “রদ্দুল মুহতার”-এ বলেন:
“إذا حلف على فعل شيء لا يقدر عليه شرعاً أو عقلاً، فهي يمين لغو لا كفارة فيها”
(যদি কেউ এমন কোনো কাজের শপথ করে যা শরিয়ত বা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে তার পক্ষে সম্ভব নয়, তবে তা বাতিল শপথ; এর কোনো কাফফারা নেই।)
(রদ্দুল মুহতার, ৩/৭২৪) - ফাতাওয়া হিন্দিয়াতেও বলা হয়েছে:
“اليمين المنعقدة هي التي تكون على أمر ممكن، فأما المستحيل فلا تنعقد”
(সঠিক শপথ হলো যা সম্ভব বিষয়ে হয়; অসম্ভব বিষয়ে শপথ হলে তা সংঘটিত হয় না।)
(ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/৫১)
আপনার শপথের অবস্থা
আপনার শপথের মূল বক্তব্য: “যদি তুমি সম্পর্ক ছিন্ন করো, তাহলে আমি কেয়ামতে আল্লাহর আদালতে দাঁড় করাবো”—এটি একটি শর্তযুক্ত বাক্য। এখানে শর্ত পূর্ণ হলে (অর্থাৎ আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করলে) শপথ ভঙ্গের বিষয়টি এসে পড়ে। কিন্তু শপথের প্রতিশ্রুতি (কেয়ামতে দাঁড় করানো) আপনার পক্ষে সম্পাদন করা অসম্ভব। তাই:
- শপথটি আদৌ কার্যকর হয়নি; এটি ‘গায়র মুন‘আকিদ’ বা ‘লাগও’ (অর্থহীন) শপথের মতো বিবেচিত।
- এর কোনো কাফফারা ওয়াজিব নয়।
- শপথের বিনিময়ে কোনো গুনাহও নেই।
পরবর্তী করণীয়
আপনি মন থেকে আত্মীয়কে মাফ করে দিয়েছেন—এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ। ইসলামে ক্ষমা ও সহানুভূতি বড় মর্যাদার বিষয়। আপনার জন্য নির্দেশনা:
- কোনো কাফফারা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ শপথটি বৈধ ছিল না।
- আল্লাহর কাছে তওবা করুন যে, অজান্তে বা রাগের বশে এমন শপথ করেছেন যা পালন করা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন।
- ভবিষ্যতে এ ধরনের শপথ থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, শপথ কেবল সেই বিষয়ে করা উচিত যা আপনি করতে বা না করতে সক্ষম।
- আত্মীয়ের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখুন। সম্পর্ক ছিন্ন করা কবিরা গুনাহ। তাই মাফ করে দেওয়া উত্তম।
সারসংক্ষেপ
- আপনার শপথটি অবৈধ ও অকার্যকর।
- কাফফারা ওয়াজিব নয়।
- মন থেকে ক্ষমা করে দেওয়াই যথেষ্ট; এর জন্য আলাদা কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
- তবে রাগ বা ক্রোধে এ ধরনের শপথ না করাই উত্তম।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন ও ক্ষমা করুন। (আমিন)