গোনাহ করার সময় ইসলামিক কাজ করলে ইমান চলে যাবে কিনা?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2233
Questioner: md saiful islam
Question Asked: 02 Jul 2026, 06:35 PM
Reviewed & Published: 02 Jul 2026, 06:39 PM
Views: 70
Tokens: 3,076
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

গোনাহ করার সময় বা গোনাহের সময় ইসলামিক কিছু করলে কিছু মোবাইলে বা যেকোনো যায়গায় আসলে ইমান চলে যাবে কি

Answer

প্রশ্নের উত্তর

গোনাহ (পাপ) করার সময় বা গোনাহর অবস্থায় কোনো ইসলামিক কাজ (যেমন মোবাইলে কুরআন তিলাওয়াত করা, দোয়া পড়া, জিকির করা ইত্যাদি) করলে সাধারণত ইমান চলে যায় না। তবে এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও সতর্কতা রয়েছে, যা হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।


১. ইমান চলে যাওয়ার মূলনীতি

ইমান চলে যাওয়ার (মুরতাদ হওয়ার) জন্য স্পষ্ট কুফরি কথা বা কাজ প্রয়োজন। যেমন:

  • আল্লাহ, রাসূল (ﷺ) বা কুরআনকে গালি দেওয়া।
  • ইসলামের কোনো অপরিহার্য বিধান (যেমন নামাজ, রোজা) অস্বীকার করা।
  • কুরআনের কোনো আয়াতকে মিথ্যা বলা বা অবজ্ঞা করা।
  • এমন কোনো কাজ করা যা দ্বারা ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ বা অস্বীকার প্রকাশ পায়।

(সূত্র: ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, ২/২৫৯; রদ্দুল মুহতার, ৩/২৮২)


২. গোনাহর সময় ইসলামিক কাজ করলে কী হয়?

গোনাহর অবস্থায় ইসলামিক কিছু করলে (যেমন গোনাহ করতে করতে দোয়া পড়া) নিজে নিজে ইমান নষ্ট হয় না, বরং এটি একটি পুণ্যের কাজও হতে পারে। তবে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে:

  • অবজ্ঞার নিয়ত না থাকা: যদি কেউ গোনাহ করার সময় ইসলামিক কাজকে ঠাট্টা-বিদ্রুপের অংশ করে বা অবজ্ঞা করে, তবে তা ইমান নষ্ট করতে পারে। তবে সাধারণত গোনাহর মাঝে থাকা অবস্থায় দোয়া পড়লে তা অবজ্ঞা হিসেবে গণ্য হয় না, বরং এটি গোনাহ থেকে বাঁচার আকুতি হতে পারে।

  • গোনাহকে হালকা মনে না করা: গোনাহর অবস্থায় ইবাদত করলে গোনাহের গুরুত্ব কমে না। বরং গোনাহ থেকে তওবা করা জরুরি। এক্ষেত্রে ইমান চলে যাওয়ার পরিবর্তে গোনাহ ও ইবাদত একসাথে হওয়ায় বিচার হবে। তবে যদি কেউ মনে করে যে গোনাহ করা জায়েজ, তাহলে সেটি কুফরি হতে পারে।

(সূত্র: ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/২৩৪; ফতোয়ায়ে উসমানী, ১/৪৫০)


৩. মোবাইল বা অন্য যন্ত্রে কুরআন থাকা

গোনাহর সময় মোবাইলে কুরআন পড়া বা দেখা নিজে নিজে ইমান নষ্ট করে না। বরং এটি একটি ভালো কাজ, যা গোনাহ থেকে বিরত থাকার মাধ্যম হতে পারে। তবে গোনাহর অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করলে আদবের খেলাফ হবে, তাই এটা এড়িয়ে চলা উচিত।

(সূত্র: বাহিশতি জেওর, ১/৪২; মাআরিফুল কুরআন, ১/২৩)


৪. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

  • গোনাহ ও ইবাদত একত্রে করা উচিত নয়: গোনাহর সময় ইবাদত করলে ইবাদতের পূর্ণ সওয়াব না-ও হতে পারে। তাই প্রথমে গোনাহ থেকে বিরত হয়ে পরে ইবাদত করা উত্তম।
  • তওবা করা জরুরি: গোনাহ করলে সঙ্গে সঙ্গে তওবা করা উচিত। গোনাহর অবস্থায় ইবাদত করলেও গোনাহের জন্য আলাদা তওবা আবশ্যক।

(সূত্র: আল-হিদায়া, ২/৪২; শরহে মাআনি আল-আসার, ১/২৮)


সংক্ষেপে উত্তর

  • গোনাহের সময় ইসলামিক কিছু করলে ইমান চলে যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট আশঙ্কা নেই, যদি না অবজ্ঞা বা বিদ্বেষের নিয়ত থাকে।
  • তবে গোনাহ থেকে বিরত থাকা এবং তওবা করা আবশ্যক।
  • ইমান রক্ষার জন্য গোনাহকে ছেড়ে দিয়ে ইবাদত করা উত্তম।

স্মরণ রাখুন: আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।” (সূরা আল-বাকারা, ২:২২২)

উত্তর প্রদানে সহায়ক:

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর নীতি: ইমান ও কুফরের সীমানা অত্যন্ত স্পষ্ট; সাধারণ গোনাহ ইমান নষ্ট করে না।
  • মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন, “গোনাহর অবস্থায় ইবাদত করলে ইমান যায় না, তবে তাওবা করা আবশ্যক।”

সর্বশেষ: আপনার ইমান সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং গোনাহ থেকে দূরে থাকুন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.