ইসলামিক কিছু মাইকে বা মুবাইলে চলার সময় গুনাহ করলে কি ইমান চলে যাবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question No:
2224
Questioner:
Saiful Islam
Question Asked:
02 Jul 2026, 04:51 PM
Reviewed & Published:
02 Jul 2026, 04:55 PM
Views:
150
Tokens:
2,749
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
১।মাইকে,মোবাইলে বা যেকোনো যায়গায় ইসলামিক কিছু চলছে বা হচ্ছে ঐসময় গোনাহ করলে বা গোনাহ চলমান রাখলে ইমান চলে যাবে কি?
Answer
প্রশ্নের উত্তর:
মাইক, মোবাইল বা যেকোনো মাধ্যমে ইসলামিক কোনো কিছু (যেমন কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ইত্যাদি) চলাকালে গুনাহের কাজ করা বা গুনাহ চলমান রাখার কারণে সরাসরি ঈমান চলে যায় না। তবে এটি একটি মারাত্মক গুনাহ এবং ইসলামিক বিষয়ের প্রতি অশ্রদ্ধার লক্ষণ, যা ঈমানকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
বিস্তারিত:
১. ঈমান চলে যাওয়ার শর্ত:
- ঈমান চলে যাওয়ার জন্য সরাসরি কুফরি কালাম বা এমন কাজ করা জরুরি যা আল্লাহ, রাসূল (ﷺ), কোরআন বা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসকে অস্বীকার বা বিদ্রুপ করে।
- গুনাহ করা (যেমন গীবত, মিথ্যা, অশ্লীলতা) ঈমান নষ্ট করে না, বরং মুসলিম থাকা অবস্থায় গুনাহগার হয়। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৩/২৬০; ফতোয়া হিন্দিয়া, ২/২৬০)
২. ইসলামিক পরিবেশে গুনাহের গুরুতরতা:
- ইসলামিক কোনো কিছু চলাকালে গুনাহ করা দ্বিগুণ পাপ, কারণ তা আল্লাহর বাণী বা জিকিরের প্রতি অশ্রদ্ধা এবং গুনাহকে তুচ্ছ করার শামিল।
- হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকিরের মজলিশে অশ্লীল কথা বলে, সে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে যায়।” (মিশকাত, ১/৬৮)
৩. হানাফি ফিকহের নির্দেশনা:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন: “গুনাহ ঈমানকে নষ্ট করে না, বরং তা ফাস্ক (পাপাচার) সৃষ্টি করে।” (আল-ফিকহুল আকবর)
- তবে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলামিক বিষয়কে অপমানিত করার নিয়তে গুনাহ করে, তাহলে তা কুফরি হতে পারে। (সূত্র: ফতোয়া উসমানি, ১/২৮০)
সতর্কতা:
- ইসলামিক কিছু চালু অবস্থায় গুনাহ করা থেকে বিরত থাকা wajib (অবশ্য কর্তব্য)। এ ধরনে পরিবেশে গুনাহ করলে তওবা করা আবশ্যক।
- প্রয়োজনে সেই স্থান ত্যাগ করা বা ইসলামিক বিষয় বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
উপসংহার:
গুনাহ করলে ঈমান চলে যায় না, তবে এটি মারাত্মক পাপ এবং ঈমানের জন্য হুমকিস্বরূপ। আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত না হওয়ার জন্য তওবা ও ইস্তেগফার করা জরুরি।
রেফারেন্স:
- কোরআন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।” (সূরা বাকারা: ২২২)
- হাদিস: “প্রত্যেক আদম সন্তান পাপ করে, আর সর্বোত্তম পাপী তারা যারা তওবা করে।” (তিরমিজি, ২৪৯৯)
- হানাফি ফিকহ: রদ্দুল মুহতার (১/৪২১), ফতোয়া আলমগিরি (২/২৬০), বাহিশতি জেওর (১/৭৮)।