নামাযের সিজদা ও রুকুর সুন্নত আদায়, নাপাক কাপড় পাক করার বিধান, ফরয গোসলের পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি।
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২.নামাযে রুকুতে কি দুই হাত টান টান থাকবে?নাকি ডান হাত ডান দিকে ভাংগা ও বাম হাত বাম দিকে ভাংগা থাকবে?
৩.রুকুতে কি বগল হাত থেকে ফাকা রাখা সুন্নাত? ২ নং প্রশ্নের আলোকে কারন টান টান থাকলে তো বগলে লাগে হাত।
৪.নাপাক কাপড় পাক করার নিয়ম কি?শুধু পানি দিয়ে?
৫.দৃশ্যমান নাপাক কাপড় পাক করবো কিভাবে?
৬.অদৃশ্যমান নাপাকি লাগলে কাপড় পাক করবো কিভাবে?
৭.কাপড় ধোয়ার পাওডার দিয়ে নাপাক কাপড় কিভাবে ধুব?আগে কোন কাজ করবো পরে কোনটা এটা জাবার জন্য।
৮.ফরয গোসলে কানে,ভ্রু তে, নাকে, নাভিতে,নখের ভিতরে,,,আলাদা করে বলিয়েন যে পানি দিব কিভাবে?
৯ফরয গোসলে ইশতিনশাক করবো কিভাবে? মানে নাকে পানি দিয়ে পরে পানি টানবো পরে আংগুল ঢুকাবো পরে নাক ঝারবো নাকি নাকে পানি দিয়ে বাম হাতের বুড়ো ও কনিষ্ঠ আঙুল নাকে ঢুকিয়ে পরে বের পরে টান দিয়ে ঝারবো?কোনটি??
১০.নাপাক কাপড় ধুয়ার সময় ৩ বার কাপড় ধুয়ে চিপবো প্রতিবার কি হাত ধুয়া লাগবে,কার৷ হাতে তো নাপাক কাপড় লেগে আছে না???
১১.নাপাক কাপড় ধুয়ার সময় ৩ বার কাপড় ধুয়ে চিপবো প্রতিবার কি বালতি ধুয়া লাগবে,কারন নাপাক কাপড় লেগেছে বালতিতে?প্রতিবার বালতি ধুব? কিভাবে ধুব?
১২নাপাক কাপড় ধোওয়ার সময় নাপাকি দূর করে.৩ বার যে ধুব প্রতি বার কি কাপড় এর যেখানে নাপাক লাগছে অই জায়গায় ঘষতে হবে?
১৩.নাপাক কাপড় ধোওয়ার সময় নাপাকি দূর করে.৩ বার যে ধুব প্রতি বার কি কাপড় পুরোটা ভালো করে ঘষতে হবে?নাকি পা ইর উপরে ছেরে কোনোরকম নেরেচেরে নিলেই হবে?
১৪.নাপাক কাপড় ৩ বার ধুয়ার সময় তো প্রতিবার চিপতে হবে,কতটুকু চিপতে হবে?কারণ যতবার চিপি ততবার পানি পরে তো??
১৫.নাপাক কাপড় পাক করতে কতটুকু সময় লাগতে পারে?আমার ত একটা নাপাক কাপড় পাক করতে অনেক অনেক সময় লাগে??
১৬.শুচিবায়ু রোগের রুকাইয়া কি?
১৭.মগ,বালতি, বদনা পাক মরবো কিভাবে?
১৮.জুতা, স্যান্ডেল পাক করবো কিভাবে?
১৯.ফরয গোসলে এক হাতের কোষে পানি নিয়ে কুলি করবো নাকি ২ হাতের কোষে একত্রে পানি নিয়ে কুলি করবো?কারোন এক হাতে নিলে কম পানি ২ হাতে নিলে বেশি পানি আসে,আর ফরয গোসলে দাতের মাড়ির গোড়ায় পানি যেতে হবে। ১ হাতে কম আসে তাই ওয়াসওয়াসা আসবে মনে হয় হয়নি আবার ২ হাতে নিলে বেশি পানি আসবে এতে অপচয় হবে, তাই কোনটা করা সুন্নত?ইমামদের মত, সাহাবিদের আমল, সালাফদের আমল,নবিজির আমল সব নিয়ে বলিয়েন।
২০.ফরয গোসলে ছেলেদের চুলের গোড়ায় কিভাবে পানি পৌছাবো?সুন্নত নিয়ম, ইমামদের মত, সালাফ দের আমল নবিজির আমল, সাহাবিদের আমল সব নিয়ে।
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين
প্রশ্ন ১: সিজদায় পা একত্রে রাখা নাকি ফাঁকা রাখা সুন্নত?
উত্তর: হানাফী মাযহাব মতে সিজদায় পায়ের আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী করে রাখা এবং পা দু’টি মাটি থেকে আলাদা রাখা সুন্নত। পা একেবারে সংযুক্ত করাও জরুরি নয়, বরং স্বাভাবিকভাবে ফাঁকা রাখাই মুস্তাহাব। তবে পা দু’টির মধ্যে খুব বেশি ফাঁক রাখা মাকরূহ। (রদ্দুল মুহতার, ২/২৭৭; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৮৭)
দলিল:
- عن أنس رضي الله عنه: "كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا سجد جافى بين فخذيه" (رواه الحاكم) অর্থাৎ নবীজী সিজদায় উরু দু’টির মধ্যে ফাঁক রাখতেন।
সারসংক্ষেপ: পা স্বাভাবিক দূরত্বে রাখুন, খুব কাছেও নয়, খুব দূরেও নয়।
প্রশ্ন ২: রুকুতে হাতের অবস্থান – টান টান নাকি বাঁকানো?
উত্তর: হানাফী মতে রুকুতে উভয় হাত উরুতে রেখে আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে রাখা সুন্নত। হাত টান টান করে সোজা রাখা বা বগলে লাগিয়ে রাখা সুন্নতের বিপরীত। ডান হাত ডান দিকে ও বাম হাত বাম দিকে বাঁকিয়ে হাঁটুর ওপর রাখতে হবে। (হিদায়া, ১/৪৮; রদ্দুল মুহতার, ২/২৬৩)
দলিল:
- عن وائل بن حجر رضي الله عنه: "رأيت النبي صلى الله عليه وسلم إذا ركع وضع يديه على ركبتيه وفرج بين أصابعه" (أبو داود)
প্রশ্ন ৩: রুকুতে বগল ফাঁকা রাখা সুন্নত কি?
উত্তর: হ্যাঁ, রুকুতে বগল ফাঁকা রাখা সুন্নত। হাত উরুতে রাখার কারণে স্বাভাবিকভাবেই বগল ফাঁকা হয়। টান টান করে রাখলে যেমন বগল বন্ধ হয়, তা সুন্নতের বিপরীত। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৩৪; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৮৯)
প্রশ্ন ৪-৬: নাপাক কাপড় পাক করার পদ্ধতি
৪. সাধারণ নিয়ম: কোনো নাপাক কাপড় পাক করতে হলে প্রথমে নাপাকি দূর করতে হবে। তারপর কাপড় তিনবার ধুয়ে প্রতিবার চিপতে হবে। প্রতিবারের মধ্যে পানি না ফেলে কাপড়টি ভালোভাবে নিংড়ানো জরুরি। শুধু পানি দিয়ে ধৌত করলেই পাক হবে, তবে নাপাকি অপসারণ না হলে পাক হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৮১)
৫. দৃশ্যমান নাপাকি (যেমন রক্ত, পেশাব):
- প্রথমে নাপাকির স্থানটিতে পানি ঢেলে ঘষে নাপাকি দূর করুন।
- তারপর পুরো কাপড় তিনবার ধুয়ে প্রতিবার চিপুন। তৃতীয়বার চিপানোর পর আর পানি যদি নাপাকির রং বা গন্ধ না থাকে, তবে কাপড় পাক হবে।
৬. অদৃশ্যমান নাপাকি (যেমন মদ বা পানি মিশ্রিত নাপাকি):
- যেহেতু দেখে বোঝা যায় না, তাই কাপড়ের পুরো অংশ তিনবার ধুতে হবে। প্রতিবার ধোয়ার পর চিপুন এবং পানি ফেলুন। তৃতীয়বারের পর কাপড় পাক বলে গণ্য হবে। (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৪৮)
প্রশ্ন ৭: সাবান/পাউডার দিয়ে নাপাক কাপড় ধোয়ার পদ্ধতি
উত্তর: নাপাক কাপড় ধোয়ার সময় প্রথমে নাপাকি দূর করুন (ঘষে বা পানি দিয়ে)। তারপর সাবান/পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।
পদ্ধতি:
১. নাপাকির জায়গায় পানি দিয়ে ঘষে নাপাকি সরান।
২. পুরো কাপড় পানিতে ভিজিয়ে সাবান দিন।
৩. ভালোভাবে ঘষে ধুয়ে ফেলুন।
৪. কাপড় চিপে পানি ফেলে দিন।
৫. এভাবে তিনবার করলে কাপড় পাক হবে।
(বাহিশতী জেওর, ১/৭২; ফাতাওয়া দারুল উলূম, ৪/১২৩)
প্রশ্ন ৮: ফরয গোসলে কান, ভ্রু, নাক, নাভি, নখের ভিতরে পানি পৌঁছানোর নিয়ম
উত্তর: ফরয গোসলের মূল উদ্দেশ্য দেহের সর্বাঙ্গে পানি পৌঁছানো।
- কান: কানের ভিতরে পানি দেওয়া ওয়াজিব নয়। শুধু বাইরের অংশ ধোয়াই যথেষ্ট। তবে সুন্নত হলো কানের ছিদ্রে আঙুল ঢুকিয়ে পানি দেওয়া।
- ভ্রু ও চোখের পাতা: চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানোর জন্য ভ্রু ও চোখের পাতা এমনভাবে ভেজানো যে ভেতরের চুল পর্যন্ত পানি পৌঁছে।
- নাক: নাকের ভিতর পানি দেওয়া (ইশতিনশাক) ফরয নয়, সুন্নত। তবে নাকের বাইরের অংশ পানি দিয়ে ধুতে হবে।
- নাভি: নাভির ভিতরের অংশ ভালো করে ভেজাতে হবে।
- নখের ভিতর: নখের নিচে ময়লা থাকলে তা দূর করে পানি পৌঁছানো ওয়াজিব। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৮৩; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩৪৫)
প্রশ্ন ৯: ফরয গোসলে ইশতিনশাক (নাকে পানি দেওয়া) করার পদ্ধতি
উত্তর: সুন্নত পদ্ধতি হলো:
১. ডান হাতে পানি নিয়ে নাকে দিন।
২. বাম হাতের বুড়ো ও কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে নাকের ছিদ্রে আঙুল ঢুকিয়ে পানি টানুন (বেশি জোরে নয়)।
৩. তারপর নাক ঝেড়ে ফেলুন।
একবারই যথেষ্ট। তবে ওয়াসওয়াসা এড়াতে তিনবার করা সুন্নত। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৪২; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/২৮)
প্রশ্ন ১০-১১: নাপাক কাপড় ধোয়ার সময় হাত ও বালতি ধোয়া
১০. হাত ধোয়া: প্রতিবার কাপড় চিপার পর হাত নাপাক হবে, কিন্তু পুনরায় ধোয়ার সময় হাত ধোয়া জরুরি নয় যদি হাতের নাপাকি কাপড়ে না লাগে। তবে সুন্নত হলো প্রতিবার কাপড় ধোয়ার আগে হাত ধুয়ে নেওয়া। (বাহিশতী জেওর, ১/৭০)
১১. বালতি ধোয়া: বালতিতে যদি নাপাক কাপড়ের পানি লেগে থাকে, তবে বালতি পাক করার জন্য তিনবার ধোয়া ওয়াজিব নয়। বরং বালতিতে পানি ঢেলে ফেলে দিলেই তা পাক হবে, কেননা পানি নিজেই পবিত্র। তবে ভিজে থাকলে নাপাকি অপসারণ হয় না, তাই বালতি শুকিয়ে নিলে ভালো। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩৯৮)
প্রশ্ন ১২-১৪: ধোয়ার সময় ঘষা, চিপার পরিমাণ
১২. ঘষা: প্রতিবার ধোয়ার সময় নাপাকির স্থান ভালো করে ঘষতে হবে, যাতে নাপাকি বেরিয়ে আসে। পুরো কাপড় ঘষা জরুরি নয়, শুধু নাপাকির স্থানই যথেষ্ট।
১৩. পুরো কাপড় ঘষা: শুধু নাপাকির স্থান ঘষলেই হবে, পুরো কাপড় ঘষার প্রয়োজন নেই। তবে যদি নাপাকি ছড়িয়ে যায়, তবে পুরো কাপড় ধুতে হবে।
১৪. চিপার পরিমাণ: প্রতিবার ধোয়ার পর চিপতে হবে এমনভাবে যেন পানি বেরিয়ে যায়। মোটামুটি শুকনো না হলেও পানি ঝরার মতো চিপা যথেষ্ট। খুব শক্ত করে চিপতে হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৭৯-৩৮২)
প্রশ্ন ১৫: নাপাক কাপড় পাক করতে সময় লাগে
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। তিনবার ধোয়া ও চিপার পর যদি নাপাকির রং, গন্ধ বা স্বাদ না থাকে, তবে তাৎক্ষণিক পাক হবে। বেশি সময় লাগার কারণ হলো সঠিকভাবে ধোয়া না করা বা ওয়াসওয়াসা। নিয়ম মেনে ধুলে পাঁচ-দশ মিনিটের মধ্যেই পাক হয়ে যায়। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৫৬)
প্রশ্ন ১৬: শুচিবায়ু রোগের রুকাইয়া (ওয়াসওয়াসার চিকিৎসা)
উত্তর: শুচিবায়ু (obsessive-compulsive disorder) সম্পর্কিত ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির জন্য করণীয়:
- তিনবার ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম’ পড়া।
- সূরা ফালাক ও নাস তিনবার করে পড়া এবং শরীরে ফুঁ দেওয়া।
- আয়াতুল কুরসি ও সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া।
- ওয়াসওয়াসা এলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বেশি বেশি পড়া।
- পবিত্রতা ও নামাযের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা না করে শুধু ফরয ও সুন্নতের ওপর আমল করা।
- মনকে শক্ত করা যে, শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়, এড়িয়ে চলা।
(মাআরিফুল কুরআন, ২/৫৮৭; ফাতাওয়া উসমানী, ৪/৩৪৫)
প্রশ্ন ১৭: মগ, বালতি, বদনা পাক করার পদ্ধতি
উত্তর: ধাতব বা প্লাস্টিকের পাত্র নাপাক হলে প্রথমে নাপাকি দূর করে পরিষ্কার পানি দিয়ে তিনবার ধুতে হবে। প্রতিবার পানি ফেলে দিয়ে নতুন পানি নিয়ে ধুতে হবে। মাটি বা কাদার পাত্র হলে একবার ধুলেই পাক হয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৮৫)
প্রশ্ন ১৮: জুতা, স্যান্ডেল পাক করণ
উত্তর: জুতা বা স্যান্ডেল নাপাক হলে নাপাকি দূর করে মাটি বা ঘাস ঘষলে পাক হয়। অথবা পানি দিয়ে তিনবার ধুয়ে শুকালেও পাক হবে। তবে চামড়ার জুতা হলে ভিজিয়ে শুকালে সমস্যা নেই। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৬৮)
প্রশ্ন ১৯: ফরয গোসলে কুলি করার পদ্ধতি – এক হাত নাকি দুই হাত?
উত্তর: হানাফী মতে কুলি করার জন্য এক হাতের কোষে পানি নিয়ে নেওয়া সুন্নত। দুই হাত একত্রে ব্যবহার করা অপচয়। নবীজী (সা.) এক হাতেই কুলি ও নাকে পানি দিতেন। যেহেতু ফরয গোসলের মূল উদ্দেশ্য মুখের ভেতর (দাঁতের মাড়ি) পর্যন্ত পানি পৌঁছানো, তাই এক হাতের কোষের পানি যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানি অপচয় মাকরূহ।
(সহীহ বুখারী, ১/২৬১; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৪৩; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩৫০)
সাহাবী ও সালাফদের আমল: সাহাবীগণ এবং সালাফে সালেহীন সাধারণত এক হাতেই কুলি করতেন। নবীজী (সা.)-এর সুন্নতও তাই।
প্রশ্ন ২০: ফরয গোসলে ছেলেদের চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো
উত্তর: ফরয গোসলে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো ওয়াজিব।
সুন্নত পদ্ধতি:
১. প্রথমে পুরো শরীরে পানি ঢেলে চুল ভিজান।
২. চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানোর জন্য হাত দিয়ে চুলে পানি মালিশ করুন।
৩. চুল লম্বা হলে আলাদা করে আঙুল দিয়ে গোড়ায় পানি পৌঁছান।
৪. চুল জট পাকালে খুলে ধোয়া জরুরি নয়; বরং পানি পৌঁছালেই যথেষ্ট।
নবীজী (সা.)-এর আমল: তিনি মাথায় পানি ঢেলে হাত দিয়ে মালিশ করতেন। (সহীহ মুসলিম, ১/২৪৭)
সাহাবী ও সালাফদের আমল: তাঁরা চুলের গোড়া ভালো করে ভিজানোর জন্য মাথায় বারবার পানি ঢালতেন এবং হাত দিয়ে মালিশ করতেন।
সংক্ষিপ্ত নসিহত: ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে সব কাজ সুন্নত মোতাবেক করুন, বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। আল্লাহই তাওফিক দানকারী।
والله أعلم بالصواب
গ্রন্থপঞ্জি:
- رَدُّ الْمُحْتَار (ইবনে আবেদীন)
- فتاویٰ عثمانی (মুফতি তাকী উসমানী)
- إمداد الفتاویٰ (আশরাফ আলী থানবী)
- فتاویٰ ہندیہ (আলমগীরী)
- بہشتی زیور (আশরাফ আলী থানবী)
- ہدایہ (মারগীনানী)
- معارف القرآن (মুফতি মুহাম্মদ শফী)