নিফাস শেষে হায়েযের ব্যবধান, পুনরায় রক্ত আসা, ইস্তিহাযা গণনা, হানাফী ফিকহের আলোকে মাসআলা।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1762
Questioner: Tayaba Nasrin
Question Asked: 18 Jun 2026, 01:22 PM
Reviewed & Published: 18 Jun 2026, 01:50 PM
Views: 25
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম উস্তায

আমার নিফাসের ৪০ তম দিন শেষ হয়েছে ১৬ ই জুন। তারপর ২ জুলাই ফজর থেকে আবার ভারি ব্লিডিং হওয়ায় সেটা হায়েজ হিসেবে ধরি, ৮ জুলাই সুস্থ্য হই। এখন আবার ১৭ ই জুলাই মাগরিব থেকে হালকা ব্লিডিং হচ্ছে। আমি কি এটা কে হায়েয হিসেবেই ধরবো?
বি‌:দ্র: আমার আগে কখনও এমন সমস্যা হয়নি, মাসে একবার করে হায়েয হতো।

Answer

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে আপনার বর্তমান রক্তপাত (১৭ জুলাই মাগরিব থেকে শুরু হওয়া হালকা ব্লিডিং) হায়েয নয়, বরং ইস্তিহাযা (অবস্থাগত রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে। নিচে এর বিস্তারিত কারণ ও শর‘ঈ বিধান উল্লেখ করা হলো।

মূল কারণ: পবিত্রতার ন্যূনতম ব্যবধান (তুহর) ১৫ দিনের কম

হানাফী মাযহাবের নিয়মানুযায়ী, দুটি হায়েযের মাঝে কমপক্ষে ১৫ দিন পূর্ণ পবিত্রতা থাকা আবশ্যক। যদি কোনো নারী ১৫ দিনের কম ব্যবধানে পুনরায় রক্ত দেখে, তবে দ্বিতীয়বারের রক্ত হায়েয হিসেবে গণ্য হবে না; বরং ইস্তিহাযা হবে।

আপনার ক্ষেত্রে:

  • শেষ হায়েয ছিল ২ জুলাই ফজর থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত (৭ দিন)।
  • তারপর পবিত্র অবস্থা চলেছিল ৮ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই মাগরিব পর্যন্ত।
  • ব্যবধান গণনা: ৮ জুলাই সকাল (পবিত্রতা শুরু) থেকে ১৭ জুলাই মাগরিব (রক্ত শুরু) — মোট ৯ দিন (পূর্ণ দিন ৮+আংশিক ১)।

যেহেতু ব্যবধান ১৫ দিনের কম, তাই এই রক্ত হায়েয নয়; বরং ইস্তিহাযা।

পূর্ববর্তী হায়েয (২-৮ জুলাই) সম্পর্কে

এটি সঠিকভাবে হায়েয হিসেবে গণ্য হয়েছে, কারণ:

  • নিফাস শেষ হওয়ার পর (১৬ জুন) থেকে প্রথম হায়েয শুরুতে (২ জুলাই) ব্যবধান ছিল ১৬ দিন (যা ১৫ দিনের বেশি), তাই এটি নতুন হায়েয হতে পারে।
  • রক্তের পরিমাণ ৩-১০ দিনের মধ্যে ছিল (৭ দিন), তাই এটি হায়েযের শর্ত পূরণ করেছে।

বর্তমান রক্তের হুকুম (ইস্তিহাযা)

ইস্তিহাযার ক্ষেত্রে আপনি পূর্ণ নামায, রোযা, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি সব ‘ইবাদত করতে পারবেন। তবে প্রতি ফরয নামাযের জন্য নতুন অযু করতে হবে (যদি ওযু ভঙ্গের কারণ হিসেবে রক্ত ঝরতে থাকে)।

  • আপনি মাসিকের মতো আলাদা অবস্থান করবেন না, বরং স্বাভাবিক ইবাদত পালন করবেন।
  • রক্তের পরিমাণ হালকা বা ভারি যাই হোক, ইস্তিহাযার বিধান একই।

হায়েযের ‘আদাত (স্বভাব) পরিবর্তন

আপনার পূর্বে মাসে একবার হায়েয হতো — এটি আপনার স্বাভাবিক ‘আদাত। কিন্তু নিফাসের পর ‘আদাত পরিবর্তিত হতে পারে। আপনার বর্তমান অবস্থায় ৮ জুলাই শেষ হওয়া হায়েযকে নিজের নতুন ‘আদাত ধরা উচিত (যদি তা কমপক্ষে ৩ দিন ও সর্বোচ্চ ১০ দিন হয়)। এখন থেকে আপনার হায়েযের সময়কাল নির্ধারণে এই ‘আদাতই মাপকাঠি হবে।

গুরুত্বপূর্ণ টিকা

  • যদি ভবিষ্যতে ১৫ দিন পবিত্রতা রেখে পুনরায় রক্ত আসে, তাহলে সেটি হায়েয হবে।
  • বর্তমান রক্ত যদি ধারাবাহিকভাবে অনেক দিন চলে (যেমন ১০ দিনের বেশি), তবুও তা হায়েয হবে না; বরং ইস্তিহাযা থাকবে।

সংক্ষিপ্ত ফতোয়া:
১৭ জুলাই মাগরিব থেকে শুরু হওয়া রক্তকে ইস্তিহাযা গণ্য করুন। নামায-রোযা আদায় করুন, এবং পবিত্রতার দিনগুলো গণনায় রাখুন।

আল্লাহু আ‘লাম

তথ্যসূত্র:

  • রদ্দুল মুহতার (১/২৮৪-২৮৫): “আল-মুদ্দাতু বাইনাল হায়যাতাই লা তাক্বিল্লু ‘আন খামসাতা ‘আশার ইয়াওমান ফী সিহহাতিন লি আন্নাহু হাদ্দুন নিসা’…” (দুই হায়েযের মধ্যে পবিত্রতার সময়কাল ১৫ দিনের কম হয় না, যদি নারী সুস্থ থাকে…)।
  • ফতোয়া উসমানী (১/৪০১): “যদি কোনো নারী ১৫ দিনের কম ব্যবধানে রক্ত দেখে, তাহলে দ্বিতীয় রক্ত হায়েয নয়, বরং ইস্তিহাযা।”
  • ইমদাদুল ফতোয়া (১/১২৬-১২৭): হায়েয ও নিফাসের মাসআলায় তুহরের নিয়ম।
  • বেহেশতী জেওর (হায়েয অধ্যায়): ইস্তিহাযার বিধানাবলী।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.